কবি নজরুল ছিলেন একাধারে বিদ্রোহী, প্রেমিক, সাম্যবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক, যিনি অন্যায়, শোষন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরে বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে অমর হয়েছেন [১, ৪, ৯]। তাঁর চরিত্রে সাহসিকতা, চঞ্চলতা, অদম্য প্রাণশক্তি এবং মানবতার প্রতি গভীর প্রেম ফুটে উঠেছিল, যা তাঁকে ‘দুখু মিয়া’ থেকে জাতীয় কবিতে পরিণত করেছে [৩, ৬, ৮]।
কাজী নজরুল ইসলামের চরিত্রের প্রধান দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
বিদ্রোহী ও প্রতিবাদী সত্তা: নজরুল ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। পরাধীনতা, সামাজিক অনাচার এবং শোষণের বিরুদ্ধে তিনি বিদ্রোহ করেছেন। তাঁর বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তাঁকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি এনে দেয় [১, ৪]।
অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনা: তিনি হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে সাম্য ও মানবতার জয়গান গেয়েছেন। তাঁর লেখায় অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মানুষের প্রতি প্রেম মূখ্য ছিল [৯]।
রোমান্টিক ও প্রেমময় হৃদয়: নজরুল কেবল বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেমের কবিও। তাঁর সৃষ্টিতে প্রেম, ভালোবাসা ও কোমলতা চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে [১২]।
চঞ্চলতা ও অস্থিরতা: ব্যক্তিগত জীবনে নজরুল ছিলেন অত্যন্ত চঞ্চল ও চঞ্চল প্রকৃতির, যাকে ‘দুখু মিয়া’র জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও অস্থিরতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় [১৪]।
দুঃসাহসী ও আত্মবিশ্বাসী: নজরুল ছিলেন নির্ভীক। শোষকের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথে লিখেছেন [৭]।
মানবতাবাদী ও মানবিক মূল্যবোধ: নজরুলের চরিত্রের মূল সুর ছিল মানবতা। মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার, নিপীড়ন তাঁকে ব্যথিত করত এবং তিনি শোষিত মানুষের পক্ষে অবস্থান নিতেন [৪, ৭, ৯]।
সংক্ষেপে, নজরুল ছিলেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির অধিকারী এক নির্ভীক বাঙালি, যার চরিত্র ছিল প্রেম, বিদ্রোহ ও মানবতার এক অনন্য মিশ্রণ।