ছোট্টমোট্ট হাসিব। বড্ড উদাসী মন তার। কখন কী ভাবে আর কী যে বলে তা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। ওর অদ্ভুত সব কথা শুনে মাঝে মধ্যে বড্ড অবাক হন মা। যদিও হাসিবের একমাত্র বন্ধু তার মা। মায়ের সাথেই খেলা, মায়ের কাছেই যতো আবদার।
হাসিব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। এক রাতে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বই পড়ছে হাসিব। বইয়ে গল্প-বীরের রক্তে স্বাধীন এ দেশ। হাসিব পড়তে পড়তে মায়ের কাছে জানতে চায়–আম্মু, যুদ্ধ কেন হয়েছিল?
মা বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশ দখল করে নিতে চেয়েছিল, তাই।
এই কথা শুনে হাসিব বলে উঠে, আম্মু, আমাকে বললে না কেনো, আমি থাকলে আমার খেলনা পিস্তল দিয়ে গুলি করে দিতাম, ভয়েই তারা পালিয়ে যেতো। আমাদের দেশ দখল করতে আসে। এতো সাহস!
মা মুচকি হেসে বলেন, বাবা, তুমি তো তখন ছিলেই না; কেমন করে যুদ্ধ করতে?
হাসিব বলে, ছিলাম না তাতে কী হয়েছে? এখন তো আছি। যদিও এখন যুদ্ধ নেই। তবে যুদ্ধ করে পাওয়া লাল-সবুজের পতাকা তো আছে। আমি যাচ্ছি পতাকা ওড়াতে। ১৯৭১ সালে থাকলেও আমি বিজয়ের পতাকা ওড়াতাম!
ছেলের কথা শুনে গর্বে মায়ের বুক ফুলে ওঠে। এই নাহলে তার সোনার ছেলে! হাসিবের মায়ের গর্বে বুকটা ফুলে ওঠে। তিনি ভাবেন দেশের সব সন্তানই যেন তার সন্তানের মতো হয়। সবাই মিলে দেশটাকে এমন ভালোবাসলে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে। দেশের প্রতি ভালোবাসা সবারই থাকা উচিত!
n বয়স : ২+২+৩+৩ বছর; চতুর্থ শ্রেণি, নরসিংদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়