সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

রোজায় ছুটি ঈদের আনন্দ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে
রমজান মাসের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর ওপর সদকাতুল ফিতর আদায়ের বিধান আবশ্যক করেছেন। ইসলামের এই মহৎ বিধানের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের মুখে ঈদের হাসি ফোটানো। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সচ্ছল ব্যক্তিরা তাদের রোজার ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো থেকে পবিত্র হওয়ার সুযোগ পান এবং একই সাথে অভাবী মানুষেরা যেন ঈদের দিনে কারোর কাছে হাত না পেতে সবার সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে তা নিশ্চিত হয়।

মূলত রমজানের সিয়াম পালনের সময় অবচেতনভাবে করা বিভিন্ন অনর্থক বা অনৈতিক কথাবার্তা ও ছোটখাটো গুনাহ থেকে রোজাকে ত্রুটিমুক্ত করার একটি মাধ্যম হলো এই ফিতরা।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী মুসলিম নারী পুরুষ স্বাধীন পরাধীন এবং শিশু বৃদ্ধ সবার পক্ষ থেকেই ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। এমনকি সামর্থ্য থাকলে পরিবারের ছোট বড় সবার পক্ষ থেকে অভিভাবককে এই দান করতে হয়। হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসে সাহাবাদের খেজুর বা যব দ্বারা ফিতরা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বর্তমান সময়ে বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে খেজুর কিসমিস পনির যব বা আটার যেকোনো একটির নির্দিষ্ট পরিমাণ বা তার বাজার মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়। গমের ক্ষেত্রে অর্ধ সা পরিমাণ এবং অন্য খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে এক সা পরিমাণ খাদ্য শস্য বা তার সমমূল্য প্রদান করতে হয় যা ওজনের হিসেবে আড়াই থেকে সাড়ে তিন কেজি পর্যন্ত হতে পারে।ফিতরা আদায়ের সবচেয়ে উত্তম সময় হলো ঈদের চাঁদ ওঠার পর থেকে ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগ পর্যন্ত।

 

১৪ মার্চ আজকের নামাজের সময়সূচি

১৪ মার্চ আজকের নামাজের সময়সূচি

 

তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং দরিদ্রদের কেনাকাটার সুযোগ করে দিতে ঈদের এক বা দুই দিন আগেও ফিতরা প্রদান করার অনুমতি রয়েছে। যদি কেউ ঈদের নামাজের পর এটি আদায় করেন তবে তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে কিন্তু জাকাতুল ফিতরের বিশেষ সওয়াব পাওয়া যাবে না। ফিতরার অর্থ বা খাদ্যদ্রব্য প্রদানের ক্ষেত্রে সেই আটটি শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে যাদের পবিত্র কোরআনে জাকাত পাওয়ার যোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশী অভাবী মানুষের হক সবার আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সদকাতুল ফিতর কেবল একটি ধর্মীয় দায়বদ্ধতা নয় বরং এটি সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ। সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উচিত কেবল সর্বনিম্ন আটার মূল্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজ নিজ আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে খেজুর বা কিসমিসের মূল্যে ফিতরা আদায় করা। এতে দরিদ্র মানুষরা আরও বেশি উপকৃত হবে এবং ঈদের আনন্দ সবার জন্য বাস্তবিক অর্থেই সর্বজনীন হয়ে উঠবে। ধর্মীয় বিধানের এই সঠিক পরিপালন সমাজের ভারসাম্য রক্ষা এবং খোদাভীতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com