সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

অবহেলায় বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে
আগামীকাল (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সুস্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। একটি পরিবারের চালিকাশক্তি নারী। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও সক্রিয় অংশগ্রহণকারীও তিনি।

অথচ নির্মম বাস্তবতা হলো, পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব সামলানোর ফাঁকে অনেক নারীই নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে চরম অবহেলা করেন। অসুখের লক্ষণ থাকলেও অনেক সময় সেগুলোতে গুরুত্ব না দিয়ে দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যান। ফলে সাধারণ তুচ্ছ সমস্যাও ধীরে ধীরে জটিল রোগে রূপ নেয়। 

নারীদের সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি হলো মূত্রনালির সংক্রমণ (Urinary Tract Infection- UTI)।

পুরুষদের তুলনায় নারীদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩০ গুণ বেশি। 

 

কেন হয় ইউটিআই

শারীরিক গঠনের কারণেই নারীর মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। মূত্রনালি ছোট হওয়ায় ব্যাকটেরিয়া সহজেই মূত্রতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে। কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস এই ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দেয়।

যেমন— 

► পর্যাপ্ত পানি পান না করা।

► দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখা।

► স্কুল, কলেজ বা কর্মস্থলে উপযুক্ত টয়লেট সুবিধার অভাব।

► ভ্রমণের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব না করা।

এই অভ্যাসগুলো দীর্ঘদিন চলতে থাকলে মূত্রতন্ত্রে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।

 

যাঁদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের ইউটিআই থেকে জটিল কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। প্রদাহ যদি কিডনির নেফ্রনে পৌঁছে, সে ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। পরিবারের অন্য সদস্যদের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক নারী নিজের চিকিৎসা বিলম্বিত করেন। ফলে রোগ শনাক্ত হওয়ার আগেই সেটি ক্রনিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

 

লক্ষণ

কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেমন—

► পা ফোলা।

► প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

► প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া বা ঘন ঘন প্রস্রাব।

► অস্বাভাবিক ক্লান্তি।

এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত কিডনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

 

প্রতিরোধ

মূত্রতন্ত্র ও কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে কিছু সাধারণ অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।

► উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।

► বছরে দু-তিনবার মূত্র পরীক্ষা ও রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করা।

► অতিরিক্ত লবণ পরিহার করা।

► নিয়মিত শরীরচর্চা করা।

► পানি পান সম্পর্কেও সচেতন থাকা প্রয়োজন। একবারে বেশি পানি পান না করে সারা দিনে অল্প অল্প করে দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করা কিডনির জন্য যথেষ্ট। তবে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে পানির পরিমাণ অবশ্যই চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

► প্রতি দু-তিন ঘণ্টা পর পর ওয়াশরুম ব্যবহার করে মূত্রথলি খালি রাখা উচিত প্রত্যেক নারীর ।

► শিশুদের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় একই ডায়াপার ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। মলত্যাগের পর শিশুকে পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে সংক্রমণ হতে পারে।

 

সচেতনতার বিকল্প নেই

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতন জীবনযাপন—এই তিনটি বিষয় মূত্রতন্ত্র ও কিডনি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও নারীর দায়িত্বের অংশ। একজন সুস্থ নারীই পারেন পরিবার ও সমাজকে সুস্থ রাখার ভিত্তি গড়ে তুলতে।

 

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক

নেফ্রোলজি বিভাগ

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com