এ ছাড়া অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার কাজে ব্যয় নির্বাহের জন্যও অনুদান দেওয়া হয়।
কোন কোন ক্ষেত্রে আবেদন করা যাবে
শিক্ষার্থী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক)—এই তিন ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যাবে। অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে দুস্থ, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায় রোগগ্রস্ত, গরিব, মেধাবী, অনগ্রসর সম্প্রদায় এবং অনগ্রসর এলাকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
রেজিস্ট্রেশন যেভাবে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুদানের ক্ষেত্রে আবেদন বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের মাধ্যমে।
লাগবে প্রত্যয়ন ও দরকারি সনদ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অনুদানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অথবা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দেওয়া প্রত্যয়ন সংযুক্ত করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র, চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডাক্তারি সনদ এবং দুর্ঘটনার সপক্ষে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রদত্ত প্রত্যয়ন এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদ যুক্ত করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (সাধারণ) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান কর্তৃক দেওয়া প্রত্যয়নপত্র দরকার হবে। স্নাতক/সমমান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়নসহ জন্ম নিবন্ধন সনদ কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি সংযুক্ত করতে হবে।
অর্থ প্রদান ব্যাংকিং চ্যানেলে
আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর যারা উপযুক্ত, তাদের অনুদান দেওয়া হবে। অনুদানের অর্থ দেওয়া হবে অনলাইন ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বরাদ্দ করা অর্থ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হবে। তাই অনলাইনে আবেদনের সময় ব্যাংক হিসাবের তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বেলায় বরাদ্দকৃত অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য) মাধ্যমে পাঠানো হবে। তাই আবেদনের সময় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এজেন্ট, মার্চেন্ট বা দোকানের নম্বর দেওয়া যাবে না।
মানতে হবে কিছু শর্ত
বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এর অধীন শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা (সংশোধিত ২০২৫) অনুসরণ করা হবে। অনুদানপ্রাপ্তিতে মানতে হবে কিছু শর্ত। যেমন—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারী সামগ্রিক চাকরিজীবনে শুধু একবারই এই সুবিধা ভোগ করতে পারবে। তাই একবার অনুদান পাওয়ার পর পুনরায় আবেদন করা যাবে না। শিক্ষার্থী ক্যাটাগরিতে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবনে তিন বছর পর পর আবেদন করতে পারবে। এ ছাড়া আবেদন ও অর্থপ্রাপ্তিতে কিছু শর্ত মানতে হবে। ক্যাটাগরিভিত্তিক আবেদনপ্রক্রিয়া ও যোগ্যতাসংশ্লিষ্ট সব তথ্য জানা যাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.shed.gov.bd)। এ ছাড়া মাইগভ ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/শিক্ষক-কর্মচারী/শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান’ লেখা অপশনে ক্লিক করেও দরকারি তথ্য পাওয়া যাবে।
ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি ও ভাতা
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি ও ভাতা পাবে শিক্ষার্থীরা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পঞ্চম থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থীদের এই বৃত্তি ও ভাতা দেওয়া হবে। ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি ও ক্রীড়া ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে এরই মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। আবেদনের শেষ তারিখ ৭ মার্চ ২০২৬।

ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটের (bkkf.portal.gov.bd) মাধ্যমে আবেদন দাখিল করতে হবে। এই ওয়েবসাইট থেকে অথবা sports-edu.onilne.info.bd সাইটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীর নিজের অথবা অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে আবেদন দাখিল করতে হবে।
দরকারি কাগজপত্র
* আবেদনকারীর পাসপোর্ট আকারের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)/জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র সংযুক্ত বাধ্যতামূলক।
* আবেদনকারীর নিজস্ব হিসাব নম্বর, ব্যাংক শাখার রাউটিং নম্বর এবং ব্যাংক চেকের একটি পাতা বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংযুক্ত বাধ্যতামূলক।
* ক্রীড়া সম্পৃক্ততার সনদ সংযুক্ত বাধ্যতামূলক।
* প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক।
* অধ্যয়নরত প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র সংযুক্ত করতে হবে।
* সব ধরনের সনদ প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে সংযুক্ত করতে হবে।
ক্রীড়া ভাতা
অসচ্ছল, অসুস্থ, আহত ও অসমর্থ ক্রীড়াসেবী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মাসিক অথবা এককালীন ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হবে। ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে অনলাইনে আবেদন দাখিলের আহবান জানানো হয়েছে। নশশভ.ঢ়ড়ত্ঃধষ.মড়া.নফ ওয়েবসাইটের হোম পেজে ‘ক্রীড়া ভাতা সেবা’ বক্সে ক্রীড়া ভাতার আবেদনের লিংক পাওয়া যাবে; অথবা sports allowance.onilne.info.bd লিংক থেকেও আবেদন করা যাবে।
দরকারি কাগজপত্র
* পাসপোর্ট আকারের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)/জন্ম নিবন্ধন সনদ সংযুক্ত বাধ্যতামূলক।
* আবেদনকারীর নিজস্ব হিসাব নম্বর, ব্যাংক শাখার রাউটিং নম্বর এবং ব্যাংক চেকের একটি পাতা বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংযুক্ত বাধ্যতামূলক।
* ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশন কর্তৃক বার্ষিক আয়ের প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
* ক্রীড়া সম্পৃক্ততার সনদ (ফেডারেশন/বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা/ জেলা ক্রীড়া সংস্থা/ক্রীড়া ক্ষেত্রে সফলতার সনদ) সংযুক্ত বাধ্যতামূলক।
* মৃত ক্রীড়াসেবীর ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ সংযুক্ত বাধ্যতামূলক।
* সব ধরনের সনদ প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে সংযুক্ত করতে হবে।