সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে কী কী করনীয়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

অস্টিওপোরোসিস হলো হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। যার ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং অল্প আঘাতেই ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই হাড় ক্ষয় হতে থাকে।

তাই একে নীরব রোগও বলা হয়। হাড়ের ঘনত্ব মূলত কৈশোর ও তারুণ্যে বৃদ্ধি পায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঘনত্ব কমতে শুরু করে। ৪০ বছরের পর থেকে হাড় ক্ষয়ের হার বাড়ে। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডির ঘাটতি, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং কিছু হরমোনজনিত রোগ অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

এই রোগে সাধারণত হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়া, কোমর বা পিঠে ব্যথা এবং কবজি, শিরদাঁড়া বা নিতম্বে হাড় ভাঙার ঘটনা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই ফ্র্যাকচার হওয়ার আগে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তাঁর হাড় দুর্বল হয়ে গেছে। অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটা বা ভার বহনকারী ব্যায়াম হাড়কে শক্তিশালী করে।

খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। পর্যাপ্ত রোদে থাকার মাধ্যমে ভিটামিন-ডির ঘাটতি পূরণ করা যায়। ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করাও জরুরি। সচেতন জীবনযাপন ও সময়মতো ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারলেই অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অস্টিওপোরোসিস নির্ণয়ে চিকিৎসকরা ‘ডেক্সা স্ক্যান’ নামক একটি পরীক্ষা করে থাকেন, যা হাড়ের ঘনত্বের সঠিক অবস্থা জানিয়ে দেয়। মানুষের হাড়ের সর্বোচ্চ ঘনত্ব বা ‘পিক বোন মাস’ অর্জিত হয় ৩০ বছর বয়সের মধ্যে। তাই এ সময়ের আগে থেকেই পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ব্যায়াম নিশ্চিত করা দরকার। শুধু ক্যালসিয়াম খেলেই হবে না, তা শোষণের জন্য শরীরে ভিটামিন-ডি ও ভিটামিন-K2 থাকা আবশ্যক, বিশেষ করে বয়স্কদের ঘরের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে হবে। যেমন পিচ্ছিল মেঝে বা অগোছালো আসবাবপত্র এড়িয়ে চলা, যাতে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে না যায়। একবার হিপ জয়েন্ট বা শিরদাঁড়ার হাড় ভেঙে গেলে তা বয়স্কদের মৃত্যুঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত দুধ, ছোট মাছ, ডিম এবং সবুজ শাকসবজি খাওয়ার পাশাপাশি কায়িক পরিশ্রম অব্যাহত রাখা হাড়ের সুরক্ষার প্রধান উপায়।

লেখক : অর্থোপেডিক ট্রমা ও স্পাইন সার্জন এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com