আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন এবং বৈশ্বিক জীবনযাত্রার রোমাঞ্চ যাদের টানে, তাদের জন্য কেবিন ক্রু বা এয়ার হোস্টেজ অত্যন্ত সম্মানজনক ও আধুনিক পেশা। এই পেশার আভিজাত্য, গ্ল্যামার এবং উচ্চ আয়ের সুযোগ খুব সহজেই বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের আকর্ষণ করে। তবে কেবল রোমাঞ্চ নয়, এই পেশায় সফল হতে প্রয়োজন কঠোর শৃঙ্খলা এবং উন্নত সেবার মানসিকতা। নিচের আলোচনায় কেবিন ক্রু পেশার বিভিন্ন দিক এবং প্রস্তুতির প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো।
কেবিন ক্রুদের প্রধান কাজ হলো বিমানের যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা। বিমান উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের নির্দিষ্ট সিটে বসানো, লাগেজ সঠিক স্থানে রাখা এবং সিট-পকেট বা নিরাপত্তা সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করা তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। এ ছাড়া জরুরি ইকুইপমেন্ট, ফার্স্ট এইড বক্স এবং খাবারের গুণগত মান যাচাই করাও তাদের কাজের অংশ। সর্বোপরি, পাইলটের দেওয়া যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা যাত্রীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে তারা কাজ করেন। সফল কেবিন ক্রু হওয়ার জন্য কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়; বরং অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা এখানে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বা উপস্থিত বুদ্ধি, প্রবল ধৈর্য এবং যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা এ পেশার মূল চাবিকাঠি।
বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি বা বিরক্তিকর মুহূর্তেও নিজেকে শান্ত রেখে যাত্রীদের হাসিমুখে সেবা দেওয়ার ক্ষমতা একজন কর্মীকে দক্ষ কেবিন ক্রু হিসেবে গড়ে তোলে। পেশাদার কেবিন ক্রু হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে প্রয়োজন উপযুক্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ। সাধারণত এসএসসি, সমমান অথবা ‘ও’ লেভেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এই পেশায় আসার জন্য প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেন।
বর্তমানে ইউনাইটেড কলেজ অব এভিয়েশন সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এই বিশেষায়িত কোর্সটি পরিচালনা করছে। এখানে অভিজ্ঞ ইন্সট্রাক্টরদের মাধ্যমে স্ক্যানিং, বোর্ডিং পাস ব্যবস্থাপনা, অ্যানাউন্সমেন্ট, হসপিটালিটি এবং বিমানের টেক-অফ ও ল্যান্ডিং কালীন করণীয় সম্পর্কে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।