সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বাল্যবিয়ে ও যৌতুকপ্রথা বন্ধ হোক

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

ইউনিসেফের মতে, বর্তমানে বিশ্বে ৭০ কোটি মেয়ে বাল্যবিয়ের শিকার। এ ধারা চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে ৯৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৫ বছরের কম বয়সী বিবাহিত মেয়েদের ২০ শতাংশ ২৪ বছর বয়স হওয়ার আগেই দুই বা ততোধিক সন্তানের মা হচ্ছেন। ফলে প্রসূতির মৃত্যুর হার এবং অপুষ্টিজনিত সমস্যা প্রকট হচ্ছে। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক হেলথ সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, এক দশক ধরে বাংলাদেশে ৬৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ১৯ বছর বয়সের আগেই বাল্যবিয়ের শিকার নারীরা অন্তঃসত্ত্বা হচ্ছে।

‎বাল্যবিয়ে শুধু একটি সামাজিক অপরাধ নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংসের কারণ হতে পারে। যদি সময়মতো এর প্রতিরোধ না করা হয়, তাহলে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, মা ও শিশুমৃত্যুর হার বাড়ে এবং শিক্ষার সুযোগ নষ্ট হয়। একদিকে কম বয়সে মা হওয়ায় মেয়েরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে এবং অন্যদিকে তাদের কর্মক্ষমতা ও সম্ভাবনা নষ্ট হয়। এতে পরিবার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি রাষ্ট্রও একজন শিক্ষিত ও সুস্থ নাগরিক হারায়। তাই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ শুধু একটি আইনগত দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্বও। এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ পরিণতি সমাজকে বহন করতে হবে।

‎অন্যদিকে যৌতুকপ্রথা আমাদের সমাজে একটি ভয়াবহ ও লজ্জাজনক বাস্তবতা। এটি নারীর সম্মান ও মর্যাদাকে পদদলিত করে, একটি পরিবারকে আর্থিকভাবে ধ্বংস করে দেয় এবং বহু নারীর জীবনে নেমে আসে নির্যাতন, এমনকি মৃত্যুও ঘটে। এই প্রথা শুধু একজন নারীর ওপর নয়, পুরো সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি বৈবাহিক সম্পর্ক যেখানে ভালোবাসা, সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠার কথা, সেখানে যৌতুক এই সম্পর্ককে ব্যবসায় পরিণত করে। এটি নারীকে পণ্যে পরিণত করে দেয়, যার দরকষাকষি হয় টাকার অঙ্কে।
‎এই যৌতুকপ্রথা আর বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে হলে দরকার আইনের কঠোর প্রয়োগ, সচেতনতা, শিক্ষার প্রসার, মানসিকতার পরিবর্তন এবং সামাজিক প্রতিরোধ। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করে কিশোরীদের শিক্ষা ও সচেতনতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে পারলেই যৌতুকপ্রথার হার কমবে। এ ছাড়া বাল্যবিয়ে ও যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আরও কঠোর হতে হবে।

আবদুল্লাহ নাজিম আল মামুন: সংগঠক

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com