সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

আধুনিকতার মধ্যেও টিকে আছে হুম গুটি খেলা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

একসময় গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা, লুকোচুরি, ডাং-গুলি, চড়ুইভাতি, মার্বেল, কানামাছি, ইচিংবিচিংসহ নানারকম খেলাধুলা। কালের বিবর্তনে এসব খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের কাছে প্রায় অপরিচিত। গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে অনেক লোকজ ঐতিহ্য। তবে ব্যতিক্রম হয়ে টিকে আছে গুটি খেলা, যা স্থানীয়দের কাছে হুম গুটি বা গুম গুটি নামে পরিচিত।
গতকাল বুধবার দুপুরে ফুলবাড়িয়া উপজেলার তেলিগ্রাম বড়ইআটা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে গুটি খেলার ২৬৭তম আসর। খেলাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।

প্রচলিত আছে, মুক্তাগাছার জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী ও বৈলরের জমিদার হেম চন্দ্র রায়ের মধ্যে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ ছিল। ‘পরগনা’ ও ‘তালুক’ এলাকার জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে দুই জমিদার প্রজাদের মধ্যে শক্তি ও কৌশলের প্রতিযোগিতা হিসেবে আয়োজন করেন এই গুটি খেলা। বিজয়ী পক্ষের এলাকার জমির পরিমাপ নির্ধারিত হয় সাড়ে ৬ শতাংশে এক কাঠা এবং পরাজিত পক্ষের এলাকায় ১০ শতাংশে এক কাঠা। ইতিহাসের সাক্ষ্য অনুযায়ী, শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর প্রজারা খেলায় বিজয়ী হয়। সেই নিয়ম আজও বহাল রয়েছে।
গুটি খেলার মূল আকর্ষণ হলো প্রায় ৪০ কেজি ওজনের পিতলের আবরণে মোড়ানো গোলাকার বল, যাকে বলা হয় ‘গুটি’। পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ– এই চার ভাগে বিভক্ত হয়ে খেলায় অংশ নেন খেলোয়াড়রা। এখানে নেই কোনো রেফারি, নেই নির্দিষ্ট সময়সীমা বা খেলোয়াড়ের সংখ্যা।

দুপুর গড়াতেই মাঠে ভিড় জমায় হাজারো মানুষ। সন্ধ্যার পর দৃশ্যপট আরও রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। চারদিক থেকে ভেসে আসে ‘হুম হুম’ শব্দ, টর্চলাইটের আলোয় আলোকিত হয় বিশাল মাঠ। রাতের কোনো এক সময়ে কৌশলে হাজারো খেলোয়াড়ের ভিড়ে গুটি লুকিয়ে ফেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয় খেলা।
হুম গুটি স্মৃতি সংসদের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, জমিদারদের জমির পরিমাপ সংক্রান্ত বিরোধ একসময় ‘হুম গুটি’ খেলার মাধ্যমেই মীমাংসা হয়েছিল। পূর্বপুরুষরা এই আয়োজন শুরু করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর পৌষ মাসের শেষ দিনে খেলাটি আয়োজন করা হয়।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খেলাটি চলতে দেখা গেছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com