মানুষের শরীরে সাধারণত যত জটিল সমস্যা হয়, তার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথা অন্যতম। কোমর ব্যথার রোগীরা প্রায়ই বিষণ্নতা, উদ্বেগ ইত্যাদি মানসিক সমস্যায় ভুগে থাকেন।
বর্তমান চিকিৎসা এবং সমস্যা
কোমর ব্যথার রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেন অনেকে। বাংলাদেশে কোমর ব্যথা রোগীর চিকিৎসায় কোনো নীতিমালা মেনে চলা হয় না। ভুল চিকিৎসার ফলে অনেক রোগী সারাবছর ব্যথার ওষুধ সেবন করে কিডনি বিকল করে ফেলেন অথবা পেটে আলসার তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক গবেষণা থেকে দেখা যায়, দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার চিকিৎসায় উন্নত ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকর। তবে বাংলাদেশে কোমর ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত পদ্ধতি, যেমন– পূর্ণ বিশ্রাম, ব্যথার ওষুধ, শর্ট ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ থেরাপি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অগ্রহণযোগ্য। এমনকি দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসার কথা বলাও আন্তর্জাতিক নীতিমালায় একটি নিষিদ্ধ পদ্ধতি।
কী উদ্যোগ ও পরামর্শ প্রয়োজন?
উন্নত গবেষণা: কোমর ব্যথা নিয়ে প্রচুর উন্নতমানের গবেষণা দরকার।
সরকারি উদ্যোগ: কোমর ব্যথার রোগীদের সুচিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
রোগীরা যা করবেন
সচেতন হতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা কোথায় পাওয়া যায়, খুঁজে বের করা উচিত।
ব্যথার ওষুধ সেবনের মনোভাব পরিহার করতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে যারা কোমর ব্যথায় ভুগছেন, তারা মনে রাখবেন বিশ্রাম ব্যথা কমাতে নয়, বরং বাড়াতে সাহায্য করবে।
কোমরের বেল্ট ব্যবহার করবেন না।
ফিজিওথেরাপির নামে শর্টওয়েভ, মাইক্রোওয়েভের মতো অকার্যকর চিকিৎসা পরিহার করতে হবে।
উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং হাসনাহেনা পেইন রিসার্চ সেন্টার যৌথভাবে কোমর ব্যথা রোগীদের ওপর গবেষণা পরিচালনা করছে, যা দেশে কোমর ব্যথা চিকিৎসায় নতুন ও কার্যকর দ্বার উন্মোচন করবে।
লেখক: কোমর ব্যথাবিষয়ক গবেষক ও চিকিৎসক, লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া ও কনসালট্যান্ট, হাসনাহেনা পেইন রিসার্চ সেন্টার