নাকের ভেতরে যে মাংসপেশি এবং মিউকাস আবরণ আছে, সেগুলো অনেক সময় ইনফেকশন বা অ্যালার্জির কারণে সংবেদনশীল হয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া করতে শুরু করে। অনেকদিন ধরে যদি বিনা চিকিৎসায় থাকা হয়, তাহলে এগুলো পানির মতো করে ফুলে শেষ পর্যন্ত নাকে পলিপ তৈরি করে।
পলিপ কীভাবে ধারণা করা যায়?
হাঁচি, সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া–এগুলো তো হবেই। এসব সমস্যায় অনেকদিন ধরে ভুগতে ভুগতে দেখা যাবে নাক বন্ধের সমস্যা হচ্ছে। নাক দিয়ে শ্বাস নিতে অসুবিধা হবে। সংক্রমণ বা ইনফেকশন হয়ে নাক দিয়ে সর্দি পড়ে। অনেক সময় সর্দি পেকে নাক থেকে পুঁজের মতো তৈরি হওয়া শুরু হয়। এ জিনিসগুলো চলতে চলতে এক পর্যায়ে স্থায়ীভাবে নাক বন্ধ হয়ে যায়। এ লক্ষণগুলো সচরাচর নাকের পলিপ আক্রান্ত সব রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়।
নাকের পলিপের প্রকারভেদ এবং পার্থক্য
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নাকের পলিপকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটিকে ইথময়ডাল পলিপ বলে। আরেকটিকে এনট্রোকোয়ানাল পলিপ বলা হয়। ইথময়ডাল পলিপ–এগুলোর ক্ষেত্রে নাকের যে ওপরের অংশ, যাকে নাকের সেতু বলা হয়, এখানে অনেক কোষ থাকে। কোষের দেয়াল পাতলা থাকে, এগুলো ফুলে মাংসপেশি হিসেবে ঝুলে পুরোটাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর মূল কারণ অ্যালার্জি। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পলিপ বেশি দেখা যায়। ইথময়ডাল পলিপ নাকের দু’পাশে একসঙ্গে হয়।
এনট্রোকোয়ানলা পলিপ–সেটি সাধারণত নাকের পেছনের দিকে গলায় গিয়ে বড় হয়ে নাকের আকৃতিটা বন্ধ করে দেয়। তখন রোগী শ্বাস নিতে পারে না। এ ধরনের পলিপের মূল কারণ ইনফেকশন। এনট্রোকোয়ানাল পলিপ বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাধারণত বেশি হয়।
পলিপের যথাযথ চিকিৎসা কী হতে পারে?
পলিপ হয়ে থাকলে দেখতে হবে এটি প্রাথমিক অবস্থায় ছোট রয়েছে নাকি। তাহলে নাক-কান-গলার চিকিৎসকরা অ্যান্টি অ্যালার্জিক মেডিসিন দেন এবং একই সঙ্গে লোকাল স্টেরয়েড জাতীয় স্প্রে হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এতে নিয়ম মেনে চললে অনেক সময় নাকের ওই পলিপ ছোট হয়ে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি পরীক্ষা করে দেখা যায়, নাকের পলিপ বেশি বড় হয়ে গেছে, সে ক্ষেত্রে অপারেশন করে নাকের পলিপ সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা সম্ভব। যেহেতু নাক বন্ধ থাকার কারণে রোগীর কষ্ট হয়, পলিপ বের করে ফেললে কষ্টটা কমে যায়। পলিপ অস্ত্রোপচার করলে সঙ্গে সঙ্গে রোগী ফল পাবেন।
লেখক : নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড নেক সার্জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল