সমীক্ষায় তিন হাসপাতাল থেকে ৫৬৪ জন চক্ষু রোগীর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, এসব হাসপাতালে একবার এসে চিকিৎসা শেষ করতে পেরেছে—এমন রোগী ৮ শতাংশ।
চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সমস্যার কারণ জানতে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও নার্সের সঙ্গে কথা হয় কালের কণ্ঠের এই প্রতিবেদকের।
চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক জানে আলম মিরধা কালের কণ্ঠকে বলেন, চিকিৎসক ও লোকবল সংকট প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ১০ টাকায় টিকিট কেটে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পায়নি—এমন নয়। হয়তো চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পেতে অনেক বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
সমীক্ষার তথ্য বলছে, এসব হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ৭৩ শতাংশ রোগীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এসব রোগীর ৫৪ শতাংশ সেবাপ্রাপ্তির বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও ২ শতাংশ রোগী অসন্তুষ্টি ও ২৯ শতাংশ রোগী মোটামুটি ভালো জানিয়েছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া ৩৬ শতাংশ রোগী বলেন, তাঁরা প্রয়োজনীয় সব ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাননি। ৭% রোগী বলেছেন, হাসপাতালের ব্যয় তাঁদের সাধ্যের মধ্যে ছিল না। ২৫% রোগী বলেছেন, ফলোআপ সেবা যথাযথ ছিল না। ৩৬ শতাংশ রোগী বলেছেন, এই হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
৬৯ শতাংশ রোগী প্রাথমিকভাবে কোনো চিকিৎসক না দেখিয়ে বা রেফার্ড ছাড়াই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। এসব হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ৬৭.৭৩ শতাংশ ঢাকা বিভাগের। এরপর চট্টগ্রামের ৯.৮ শতাংশ, বরিশালের ৬.৪ শতাংশ, খুলনার ৫.৭ শতাংশ, রাজশাহীর ৪.৮ শতাংশ, ময়মনসিংহের ৩.৫ শতাংশ, রংপুরের ২ শতাংশ ও সিলেটের ০.২ শতাংশ।
রোগীরা প্রয়োজনীয় সব ওষুধ বিনামূল্যে পাচ্ছেন না : আইএমইডির পরিদর্শনে দেখা গেছে, রেফার্ড রোগীর চেয়ে সরাসরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগী বেশি। প্রয়োজনের তুলনায় নার্স ও ডাক্তার কম। তথ্য ও নির্দেশনা বোর্ড অপেক্ষাকৃত কম রোগীবান্ধব। হাসপাতাল থেকে রোগীরা তাদের প্রয়োজনীয় সব ওষুধ বিনামূল্যে পাচ্ছেন না। রোগীরা হাসপাতালের চিকিৎসার পরিবেশ-পরিচ্ছন্নতা, বসার স্থান, টয়লেট নিয়ে অসন্তুষ্ট। বিশেষত ওয়ার্কলোড, মানবসম্পদ ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
২০২০ সালের দেশব্যাপী অন্ধত্ব জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের মধ্যে অন্ধত্বের হার ১.৫৩ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশ হয়েছে, যা ২০ বছরে ৩৫ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে।
সাম্প্রতিক তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ মানুষ দৃষ্টিহীন এবং সাড়ে তিন লাখ মানুষ নিম্ন দৃষ্টিশক্তিতে ভুগছেন। এর প্রধান কারণ অপারেশনযোগ্য ছানি। এ হার ৭৯.৬ শতাংশ। এ ছাড়া রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচিউরিটি অর্থাৎ অপরিণত শিশুদের মধ্যে অন্ধত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ২০০০ সালে শিশুদের মধ্যে অন্ধত্বের সংখ্যা ছিল ৪৮ হাজার, যা ২০১৪ সালে কমে ২৫ হাজার হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক খায়ের আহমেদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে প্রতি পাঁচজনে একজন দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি নিয়ে বাস করছেন। প্রতি ১০০ জনের মধ্যে একজনের দুই চোখই দৃষ্টিহীন। আবার প্রতি ১০০ জনের মধ্যে তিনজনের এক চোখ দৃষ্টিহীন।’
চিকিৎসাসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব জেলায় সরকারি হাসপাতালে চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। তবে ৩০টির বেশি জেলায় চোখের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন। আমাদের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরো ২৫০ উপজেলায় চোখের চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া।’
তিন ধরনের সুপারিশ : মূল্যায়ন সমীক্ষায় মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তিন ধরনের সুপারিশ প্রণয়ন করেছে আইএমইডি। ভবিষ্যতে বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা, নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির ক্ষেত্রে চাহিদা মোতাবেক অটোমেশন কম্পোন্যান্ট ডিপিপিতে সংযোজন, হাসপাতালের তথ্য ও নির্দেশনা বোর্ড সহজ করে রোগীবান্ধব করা, বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও চশমা সরবরাহ, ভর্তি রোগীর জন্য শয্যা বৃদ্ধি।