সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হয় প্রতীক্ষার বিজয় দিবস কনসার্ট। দুই দিনের বিজয় উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই কনসার্ট সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। দুপুরের আগেই পরিবার-পরিজনসহ, তরুণ-তরুণী ও সংগীতপ্রেমীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে ওঠে উদ্যান।
কনসার্টের শুরুতে শিশুদের গানের দল তারার মেলা মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করে কালজয়ী গান ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম’।
এরপর একক শিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান মঞ্চে উঠে পরিবেশন করেন ‘স্বাধীনতার মুগ্ধতা’, ‘তাহাদের কথা’, ‘চব্বিশ আর একাত্তর’, ‘ভয় পেও না বাংলাদেশ’ ও ‘গান চলছেই’।
কনসার্টে পর্যায়ক্রমে গান পরিবেশ করে ব্যান্ড শিরোনামহীন, লালন, বাংলা ফাইভ, টঙের গান, আফটারম্যাথ ও ফিরোজ জং। এ ছাড়া একক শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন ফারিয়া ইলা লালালা।
বিকেলের দিকে ভিড় ক্রমে বাড়তে থাকে। উদ্যানের মূল ফটক থেকে ভেতরের মাঠ—সবখানে তরুণ-তরুণীদের বিপুল উপস্থিতি।
মঞ্চের সামনে জায়গা নিতে অনেকে আগেভাগেই অবস্থান নেন। কেউ ঘাসে বসে গল্পে মেতে ওঠেন, কেউ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন প্রিয় শিল্পীর পরিবেশনার জন্য। সাউন্ড চেকের শব্দ ভেসে এলেই করতালি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
আয়োজকরা জানান, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল দেশজুড়ে শিল্পকলা একাডেমির সব শাখায় একযোগে পরিবেশিত হয়েছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কালজয়ী গান। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব গান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল, সেসব গান নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে আবারও ছড়িয়ে পড়ছে দেশের ৬৪ জেলায়।
গান, মানুষের উপস্থিতি আর লাল-সবুজের উচ্ছ্বাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গতকাল হয়ে ওঠে বিজয়ের এক অনন্য প্রতীক। যেখানে সুরে সুরে উচ্চারিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের গল্পগাথা।