সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

তারুণ্যের জাগ্রত বোধ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি বর্তমান প্রজন্ম। কিন্তু আমাদের সংগ্রামের সেই গৌরবোজ্জ্বল দিনগুলো বুক ফুলিয়ে বয়ে বেড়ানো তরুণরা জুলাই আন্দোলনে নিজেদের সাহস আর দেশাত্মবোধ দেখিয়েছে। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বেলায় তাদের মাঝেও দেখা যায় বুকভরা সাহস আর অদম্য তেজ। এই তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য ইতিহাস স্মরণ করিয়ে প্রচ্ছদ রচনা লিখেছেন আশিক মুস্তাফা

বর্তমান প্রজন্ম ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। বইয়ে পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী ঘটনা। বড়দের কাছে শুনেছেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা। দেশের জন্য মানুষের এই আত্মত্যাগ তরুণদের আগ্রহী করে তুলেছে আরও জানতে। এই আগ্রহই তাদের নিয়ে যাচ্ছে দেশ-বিদেশের সংগ্রহশালায়। তারা খুঁজে ফিরেছেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এমন অসংখ্য তরুণ অনলাইনে গড়ে তুলেছেন মুক্তিযুদ্ধের বিশাল সংগ্রহশালা।

জেগে আছে বীর বাঙালি এখনও
জুলাই আন্দোলনের কথা মনে পড়ে? কী দেখেছিলেন তরুণদের চোখে-মুখে? প্রজন্মের এই যে পরিবর্তন, এই যে ইতিহাস আর বিজয় লালনের মানসিকতা তা দেখার পর নতুন করে তারুণ্য আর দেশাত্মবোধের কোনো ভূমিকা দেওয়া মানেই নিজেকে বোকার তালিকার প্রথম লাইনে তুলে আনা ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান প্রজন্মের মাঝে যে দেশপ্রেম সত্যি সত্যিই জেগে আছে সেটি বুঝতে আর বিশ্ববাসীর বাকি নেই। ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও।
বিজয়ের ফায়দা লুটেরারা যখন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে হম্বিতম্বি করছিল, তখন তাদের দম্ভকে চূর্ণ করে দিয়েছে বাংলার চিরসবুজ দামাল ছেলেরা। বিজয়পিপাসু বাংলাদেশিরা আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। ভয় কী? জেগে আছে বীর বাঙালি এখনও!
সীমানা পেরিয়ে দূর অজানায়
সকালের সোনা রোদ জানালায় উঁকি দিলে ঘুম ভাঙে অনেকের। তার আগে-পরেও ঘুম ভাঙে কারও! শুধু সকাল কেন, দিনের যে কোনো সময় চোখের সীমানায় ঘুম ঘুরঘুর শুরু করলে আমরা হাই তুলি, আড়মোড় ভাঙি! আমাদের মতো করে এইটুকুন পিঁপড়েরাও হাই তোলে, আড়মোড় ভাঙে। শুধু ঘুম নয়, যে কোনো কাজের আগেও পিঁপড়েরা হাই তোলে, আড়মোড় ভাঙে! এই হাই আর আড়মোড় ভাঙা পিঁপড়েদের বিজয়রই বহিঃপ্রকাশ! কিন্তু মনের সুখে হাই তোলা অবস্থায় এই পিঁপড়েরা যদি অ্যান্ট ইটার, পেঙ্গুলিন বা আর্মাডিলো নামের প্রাণীদের চোখে পড়ে, তবে তাদের বিজয়ের সুখ মুহূর্তেই মূক হয়ে যায়! সীমানা পেরিয়ে দূর অজানায় হারিয়ে যায়।

ভূখণ্ড ছিল অ্যানাকোন্ডার পেটে
একসময় আমাদের বিজয়ও পিঁপড়ের মতো মেরুদণ্ডহীন ছিল। নির্বাক ছিল। আমাদের ভাষার শরীরও এবড়োখেবড়ো ছিল। আর ভূখণ্ড ছিল পাকিস্তান নামের সর্বভুক অ্যানাকোন্ডার পেটে! আমরা চাইলেই মনের কথাটা বলতে পারতাম না তখন। নিজের মতো করে চলাফেরায়ও ছিল বাধা। এই বাধা মেনে নিতে পারেননি আমাদের তরুণ মনের যোদ্ধারা। ভূখণ্ডকে তারা অ্যানাকোন্ডার পেট থেকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করে এনেছিলেন। তাদের চোখেমুখে ছিল স্বপ্ন! পৃথিবী জয়ের স্বপ্ন! তারা তাদের স্বপ্নকে ধরতে, স্বপ্নটাকে বাস্তবায়ন করতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে যুদ্ধের ময়দানে গিয়েছিলেন। দেশটিকে বিজয় এনে দিয়েছিলেন। তাদের সেই স্বপ্ন রাঙানো পথে আমরা আজ আহ্লাদ করে হাঁটছি! তাদের স্বপ্নের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিচ্ছি। কতটা পারছি রঙে মাততে? কতটা পারছি অন্যকে রাঙাতে? দেশকে রাঙাতে?

সুযোগ করে দিয়েছে জুলাই
আমরা গন্তব্যের দিকে হাঁটি। হাঁটতে হাঁটতে মুখ থুবড়ে পড়ি। নিজেকে ধিক্কার দিই! দেশকেও! দেশের মানুষকেও! বলি, কেন এই ধিক! নিজেকে ঠিক করুন আগে। কেননা, জুলাই আন্দোলন সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আপনার দুঃখের দিনে কেউ মুখ তুলে না তাকাক; অন্তত দেশের কথা ভেবে, বীর যোদ্ধাদের সোনালি স্বপ্নের কথা ভেবে আপনি অন্যের দুঃখের দিনে পাশে গিয়ে দাঁড়ান। খুব দরদ দিয়ে তার গায়ে হাত রাখুন। দুঃখী লোকটার মনের কথাটা আপনার মনের কানে শোনার চেষ্টা করুন। তখন দেখবেন, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে। আপনার নাক দিয়েই বেরিয়ে আসছে তৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস!

অনলাইন আর্কাইভ ও মুক্তিযুদ্ধের অ্যাপস
অনলাইনে তরুণরা গড়ে তুলেছে মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় আর্কাইভ। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের তথ্য পাওয়া যাবে বিভিন্ন অ্যাপসে। এসব অ্যাপসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে  মুক্তিযুদ্ধ,  মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনো, একাত্তরের ডায়েরি, ইতি বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ, সাত বীরশ্রেষ্ঠ ইত্যাদি। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত বিখ্যাত অডিও ক্লিপ এবং ’৭১ সালে ধারণকৃত ভিডিও দেখা যায়। গুগল প্লে-স্টোর থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায় অ্যাপস।

দেশটাকে ভালোবাসুন 
দেশটা তো আমাদের। দেশ নিয়ে আমাদেরই ভাবতে হবে। দেশ-ভাবনায় যদি উদাসী হয়ে যাই তবে পাকিস্তানিদের মতো করে কিংবা ফ্যাসিবাদের মতো করে কেউ এসে আবার আমাদের গিলে নেবে! দেশটা আবার মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়বে। আর দেশের সাধারণ মানুষ? সে কথা বলার দরকার কী; ভেবেই নিন না! যারা মেঠোপথ ধরে হেঁটেছেন, তারা রাস্তার পাশে অন্যের গায়ে ভর দিয়ে বেড়ে ওঠা স্বর্ণলতার মায়ায়ও পড়ছেন! তবে এ স্বর্ণলতার বেয়ে চলাও যে মেরুদণ্ডহীন, তা জানেন সবাই!
শিকড় নেই স্বর্ণলতার। কিন্তু বেশ মজবুত শিকড় আছে আমাদের বিজয়ের। বলি, কেন ওই মিছে স্বর্ণলতার মায়ায় পড়বেন? দেশের মায়ায় পড়ুন। দেশটিকে ভালোবাসুন নিজের মতো করে। নিজেকে ঠিক যতটা ভালোবাসা যায়; দেশটিকেও আপনি ততটা ভালোবাসুন। সব বদলে যাবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com