সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ঠান্ডা হাওয়ায় সতেজ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

শীত এলে ত্বকের সমস্যা যেন বাড়তে থাকে। ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। ফলে মুখ, হাত-পা রুক্ষ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে একটু সচেতনতা, সঠিক স্কিনকেয়ার এবং কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই শীতজুড়ে ত্বক থাকবে নরম ও উজ্জ্বল।
শীতে যেভাবে যত্ন নেবেন

মুখের যত্ন
শীতে মুখের ত্বক সবচেয়ে দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। তাই প্রথমেই ব্যবহার করুন মাইল্ড, ক্রিমি বা হাইড্রেটিং ক্লিনজার, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে না। অ্যালকোহলযুক্ত টোনারের বদলে হাইড্রেটিং মিস্ট বা গোলাপ জল ভালো কাজ করে। এ ছাড়া হায়ালুরোনিক এসিড বা গ্লিসারিন সিরাম ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখে। দিনের বেলা এসপিএফযুক্ত ময়েশ্চারাইজার এবং রাতে ঘন নাইটক্রিম ব্যবহার করুন। সপ্তাহে এক-দুদিন নরম স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। ওটমিল, রাইস ফ্লাওয়ার বা দুধ-মধুর স্ক্রাব ত্বককে ক্ষতি না করেই মৃত কোষ দূর করে।

ঠোঁটের যত্ন
শীতে ঠোঁটও দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। তাই প্রথমেই ব্যবহার করুন হালকা, ক্রিমি বা হাইড্রেটিং লিপ স্ক্রাব, যা ঠোঁটের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে না। লিপ প্রোডাক্ট লাগানোর আগে স্ক্রাব করলে তা ঠোঁটকে কোমল ও মসৃণ রাখে। চিনি বা কফিযুক্ত স্ক্রাব ভালো কাজ করে। এ ছাড়া নারকেল তেল বা ভিটামিন-ই যুক্ত লিপবাম ব্যবহার করলে ঠোঁটের ভেতরের আর্দ্রতা ঠিক থাকে। এ ছোট ছোট অভ্যাসই ঠোঁট ফাটা রোধ করবে।

হাতের যত্ন
শীতে হাত সবচেয়ে বেশি রুক্ষ হয়। কারণ বারবার পানি ও হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বক শুকিয়ে যায়। তাই ময়েশ্চারাইজিং হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করুন এবং প্রতিবার হাত ধোয়ার পর হ্যান্ডক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার লাগান। গ্লিসারিন, ভিটামিন-ই বা নারকেল তেলের হ্যান্ডক্রিম দ্রুত শুষ্কতা কমায়। রাতে ভ্যাসলিন বা শিয়া বাটার লাগিয়ে তুলার গ্লাভস পরে ঘুমালে পরদিন হাত নরম থাকে। কনুইয়ের জন্য সপ্তাহে কয়েকবার লেবু, চিনি, অলিভ অয়েলের হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করলে কালচে ভাব কমে।

পায়ের যত্ন
শীতকালে পায়ের গোড়ালি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হালকা গরম পানিতে লবণ বা একটু অলিভ অয়েল মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলে রুক্ষতা দূর হয়। পা ঘষার পাথর দিয়ে ধীরে ধীরে গোড়ালির মৃত কোষ তুলুন। এরপর পেট্রোলিয়াম জেলি, শিয়া বাটার কিংবা গ্লিসারিনযুক্ত কোনো ক্রিম লাগিয়ে মোজা পরে নিন। রাতে এ রুটিন করলে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিবর্তন দেখা যায়। চাইলে সপ্তাহে একবার কলা, মধু, অ্যালো জেল, ভ্যাসলিন বা দুধ-রাইস ফ্লাওয়ারের প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন।
যা পরিহার করবেন

অতিরিক্ত গরম পানি
তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে অনেকেই গোসল বা হাত-মুখ ধোয়ার জন্য গরম পানি ব্যবহার করেন। তবে ত্বকের যত্নে তুলনামূলক হালকা গরম পানি ব্যবহার করা উচিত। গরম পানি ত্বককে দ্রুত শুষ্ক করে দেয়। তাই সঙ্গে সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করলে ত্বক দ্রুত ফেটে যায়। হালকা গরম পানিতে গোসল বা হাত-মুখ ধোয়ার পর এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, যেন হায়ালুরোনিক এসিড এবং সেরামাইড থাকে। এটি ত্বকের আর্দ্রতার স্তরকে ধরে রাখবে এবং শুষ্কতা প্রতিরোধ করবে।

অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েট থেকে বিরত থাকুন
এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাব ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করে।  শীতকালে এক্সফোলিয়েশনে একটু সতর্ক থাকা উচিত। কারণ শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক্সফোলিয়েশনের ধরন নির্ভর করে আপনার ত্বকের ধরনের ওপর। খুব শুষ্ক ত্বকের জন্য হালকা এক্সফোলিয়েশন করা ভালো। কম্বিনেশন বা তেলযুক্ত ত্বকের জন্য সপ্তাহে একবার এক্সফোলিয়েশন যথেষ্ট।

হাত-পা ভেজা থাকা
শীতে অনেকেই হাত-পা ধোয়ার পর তা মুছতে চান না। এতে ত্বক আরও শুকিয়ে খসখসে হয়ে যায়। তাই পানি ব্যবহার শেষে হাত-পা মুছে সঙ্গে সঙ্গে ক্রিম লাগানোর অভ্যাস করুন।

তথ্যাসূত্র: স্টাইলক্রেজ, লরিয়াল প্যারিস

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com