বাতাস ও ধুলাবালি থেকে দূরে রাখুন
শিশুদের ঠাণ্ডা বাতাস ও ধুলাবালি থেকে দূরে রাখুন। সকালে রোদ না ওঠা পর্যন্ত দরকার ছাড়া তাদের বাইরে নিয়ে যাওয়া অনুচিত। সকালের বাতাসের সংস্পর্শে শিশুরা সহজেই ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হতে পারে।
গোসলে গরম পানি
শহরে ট্যাপের পানি খুবই ঠাণ্ডা হয়ে থাকে। বড়দের জন্যই এমন ঠাণ্ডা পানিতে গোসল রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং। শিশুদের বেলায় বলাই বাহুল্য। তাই প্রতিবার গোসলের আগে পানি গরম করে নিন। শিশুর জন্য কুসুম গরম পানিতে গোসল ওকে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করবে। নবজাতক কিংবা ঠাণ্ডার সমস্যা আছে এমন শিশুর ক্ষেত্রে গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে পুরো শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে। শুধ গোসল নয়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শিশুর দাঁত ব্রাশ এবং হাত-মুখ ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেও আরামদায়ক উষ্ণ পানি ব্যবহার করুন।
আরামদায়ক পোশাক
হাফ হাতা, ম্যাগি হাতা, পাতলা কাপড়ের পোশাককে বিদায় দিন এখন। শিশুকে ফুল স্লিভ এবং গরম কাপড়ের পোশাক পরিয়ে রাখুন। পোশাক যেন আরামদায়ক হয় সেটি খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। মেঝেতে হাটার সময় অবশ্যই জুতা বা মোজা পরিয়ে রাখুন। বেশি শীত পরলে কানটুপি বা মাঙ্কি সোয়েটার পরিয়ে রাখতে পারেন। অনেক শিশু রাতে লেপ বা কম্বলের নিচে ঘুমাতে চায় না। রাতে তাদেরকে একাধিক লেয়ারের পোশাক পরিয়ে রাখুন। এতে শরীরের তাপ ঠিকভাবে বজায় থাকে। ঘামলেও খুলে দেওয়া সহজ হয়। লেপ-কম্বল থেকে বেরিয়ে গেলেও ঠাণ্ডা লাগবে না।
খাবার
শিশুদের ঠাণ্ডা খাবার খেতে দেওয়া উচিত নয়। এমনিতেই শীতের দিনে ছোটদের খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ জন্যও খেতে চায় না। এ সময় দিনে কয়েকবার পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন। ডিমের কুসুম, সবজির স্যুপ ও ফলের রস খাওয়াতে পারেন উচিত। গাজর, বিট, টমেটো শিশুদের জন্য বেশি উপকারী। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের শীতকালিন সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে খাওয়াতে পারেন। এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের গরম সুপ খেতে দিন। প্যাকেটজাত যেকোনো খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত রাখুন।
কোমল ত্বকের যত্ন
শিশুদের ত্বক বড়দের থেকে অনেক বেশি সংবেদনশীল। তাই তাদের ত্বক বেশি রুক্ষ হয়ে যায়। দিনে রাতে কয়েকবার শিশুর মুখে ও সারা শরীরে বেবি লোশন, বেবি অয়েল, অলিভ অয়েল, কোল্ড ক্রিম ব্যবহার করুন। ডায়াপার বেশিক্ষণ পরিয়ে রাখবেন না। ভেজা বিছানায় শুইয়ে রাখা যাবে না। কোনো কাপড়ে সোনামণির পরনের পোশাক ভিজে গেলে দ্রুত বদলে দিন। শিশুকে প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য রোদে রাখুন। এতে ভিটামিন ডি পাবে। সোনামণির শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে। পরিবারে ঠাণ্ডা-কাশিতে আক্রান্তদের থেকে শিশুদের দূরে রাখার চেষ্টা করুন। পরিবারের সবাই সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
ঠান্ডা লাগা, জ্বর, সর্দি, কাশি এগুলো শিশুদের খুবই সাধারণ সমস্যা। তাই অধিকাংশ সময়ই এসব সমস্যায় চিকিত্সকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। যথাযথ যত্ন ও বিশ্রামেই শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে। যদি নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে শিশুকে চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
* সাত দিনের বেশি সময় ধরে শিশু শুকনা কাশিতে ভুগলে।
* কাশির সঙ্গে সর্দি ও জ্বর থাকলে।
* শ্বাস নেওয়ার সময় কোনো আওয়াজ হলে।
* বার বার কাশি দিতে থাকলে।
* আক্রান্ত শিশুর ক্ষুধা এবং ওজন কমে গেলে।
* কাশির কারণে শিশু ঘুমাতে না পারলে।
* শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে, যেমন দ্রুত শ্বাস বা বুকের নিচের অংশ ভিতরের দিকে ঢুকে যেতে থাকলে।