
নিমন্ত্রণে তো সাজবেনই। তবে কোন ধরনের নিমন্ত্রণে যাচ্ছেন সেটা মাথায় রাখার পরামর্শ দিলেন রেড বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন।

শীতে বিয়ের নিমন্ত্রণে বর-কনের পর তরুণদের সাজ পোশাকেই থাকে সবচেয়ে বেশি জাঁকজমক ভাব। বিয়ের দাওয়াতে গাঢ় ও উজ্জ্বল রংয়ের পোশাক বেছে নিন। বৈচিত্র্য রাখতে পারেন পোশাকের ধরন কিংবা প্যার্টানেও। কেউ পরেন শাড়ি, কেউ গাউন, কারো আবার জমকালো সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট, সারারা বেশি পছন্দ। ছেলেদের পরনে পাঞ্জাবি, শার্ট, প্রিন্স কোট, কটি থাকে বিয়েবাড়ির পোশাকের তালিকায়।
ফ্যাশন হাউস টুয়েলভের সিনিয়র ডিজাইনার শুভাগত ভট্টাচার্য বললেন, ‘তরুণরা বিয়ের পোশাকে এখন ফরমাল লুকটাই বেশি পছন্দ করছেন। একটু উজ্জ্বল রংয়ের ব্লেজার একরঙা শার্ট কিংবা টি শার্টের ওপর চাপিয়ে নিচ্ছেন তারা। যাদের আরেকটু উত্সব লুক পছন্দ তারা নকশা করা পাঞ্জাবির ওপর চাপিয়ে নিচ্ছেন জমকালো কাজের কটি। মেয়েদের শাড়ি বা সালোয়া-কামিজ চিরন্তন পোশাক। এর বাইরে তারা নিমন্ত্রণের সাজে ব্লেজার, কটি, গাউন, সারারা, টিউনিক পরছেন। কেউ কেউ শাড়ি বা কামিজের ওপরই চাপিয়ে নিচ্ছেন জ্যাকেট বা শাল। তাতেও উঠে আসছে উত্সবের লুক।’

বিয়েতে তরুণীদের খুব ট্রেন্ডি পোশাক হলো কাফতান। এমব্রয়ডারি, জারদৌসি, কারচুপি, মুক্তা, আয়নার কাজ দিয়ে এমন পোশাকে আনা হয় জমকালো ভাব। এ ছাড়া লেহেঙ্গা, ঘের দেওয়া আনারকলি, সারারা, ঘারারাও নিমন্ত্রণের পোশাক হিসেবে মানানসই। এখন তো শীত। তাই সিল্ক ও মখমল কাপড়ের পোশাকও পরতে পারেন। দিনের বেলার পোশাকের রং হালকা হওয়াই ভালো। মভ, ল্যাভেন্ডার, হালকা বেগুনি বেছে নিন। রাতের অনুষ্ঠানের জন্য লাল, মেরুন, বটল গ্রিন মেয়েদের পোশাকে দারুণ মানিয়ে যায়। ছেলেরা পাঞ্জাবির পাশাপাশি পরতে পারেন জারদৌসির কাজ করা শেরওয়ানি, প্রিন্স কোট ও ব্লেজার।

যেমন পোশাকই পরুন সেটি যেন শীতের উপযোগী হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। পরিবেশ উপযোগী পোশাক না হলেও কিন্তু বেখাপ্পা লাগবে। যেমনটা যদি নাও হয় আলাদা একটা শাল বা লেয়ার কাঁধের ওপর বা হাতে ধরে রাখুন। প্রয়োজন হলে গায়ের উপর চাপিয়ে নিন।

নিমন্ত্রণে যোগ দিতে পোশাকের সঙ্গে সাজটাও মানানসই হওয়া চাই। দাওয়াতের সাজে অনেক তরুণীর কাছে সিল্কের শাড়ি পছন্দ। সিল্কের শাড়ির সঙ্গে মুক্তার কয়েক ছড়ার মালা বেছে নিতে পারেন। মুক্তার মালার সঙ্গে মিলিয়ে কানে পরতে পারেন। এক্ষেত্রে সাজে ম্যাচিং একটা ভাব চলে আসবে। বিন্দিয়া বিউটি কেয়ারের রূপ বিশেষজ্ঞ শারমিন কচি জানালেন, ‘পোশাক বা ত্বকের রংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ঠোঁটের লিপস্টিক, চোখের ওপর মাশকারা বেছে নিলে ভালো দেখায়। এজন্য শুধু দাওয়াতের সাজেই নয়, সব সময়কার সাজের বেলাতেই এই টোটকা মেনে চলা উচিত। অনেক সাজের ক্ষেত্রে গয়নার দরকারই পড়ে না। যেমন জমকালো কাজ কাজ করা উজ্জ্বল রংয়ের ব্লেজারের সঙ্গে একই রংয়ের প্যান্ট পরলে শুধু কানের দুলই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে মুক্তার লম্বা দুল খুব সুন্দর দেখাবে। ব্লেজার পরলে চুল ছেড়ে না রেখে টেনে মাথার ওপরই বেঁধে ফেলুন। নয়তো সাজ মানাবে না।’

শীতে একটু ভারী ও চকচকে সাজই বেশি মানায়। ঠোঁটে গ্লসি লিপজেল দিলে শুষ্কতা থেকে সুরক্ষা তো পাবেনই দেখতেও সুন্দর লাগবে এসময়। এ ছাড়া গোলাপি ও মেকআপের বেইস রংয়ের মিশেলে লিপস্টিক দিতে পারেন। চোখে স্মোকি করে কাজল টেনে একে দিন। চোখের ওপর রূপালি রংয়ের আইশ্যাডো হাইলাইটস হিসেবে মানিয়ে যাবে। ছেলেদের ত্বক সতেজ হলে আলাদা করে মেকআপের প্রয়োজন পড়ে না। এক্ষেত্রে চুলে একটু জেল মেখে চিরুনি করে নিন। অথবা এলোমেলো চুলেও রাখতে পারেন নিমন্ত্রণের লুক।