গতকাল ধানমণ্ডিতে একটি হোটেলে সাংবাদিকদের এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।
গতকাল ধানমণ্ডিতে একটি হোটেলে সাংবাদিকদের এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।
টেলিভিশনে এমন সংবাদ প্রকাশের পর সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিআর) ও ইউনিসেফ সম্প্রতি জামালপুর সদর উপজেলার ইটাইলে অবৈধ ব্যাটারি কারখানার আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ, মাটি ও ফসলি জমি থেকে নমুনা নিয়ে গবেষণা চালায়।
এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ অফিসার হাসনাইন আহমেদ বলেন, মাটিতে সিসার উপস্থিতি অর্থেকে নেমে আসতে সময় লাগে ৭০০ বছর।
গবেষণার বিষয়ে হাসনাইন আহমেদ জানান, ওই এলাকায় ফসলের ক্ষেতে ক্ষতিকর সিসার উপস্থিতি ছিল ৪০০ পিপিএমের বেশি। গরু যেসব এলাকায় ঘাস খায়, সেখানে বাতাসে উড়ে আসা ছাই থেকে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ পিপিএম মাত্রার সিসা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ওই এলাকায় ৩২ পরিবারের একজন করে সদস্য থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
কর্মশালায় সিসা কী এবং ক্ষতির কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানানো হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে হাজার হাজার ব্যাটারি কারখানা তৈরি হয়েছে। এরা এক মাসের জন্য কোথাও ঝুপড়ি ঘরে ব্যাটারি গলিয়ে সিসা সংগ্রহ করে। এরপর আবার অন্য জায়গায় চলে যায়। এ কারণে আমরা জানতে পারি না। এগুলো বন্ধ করতে স্টেয়ারিং কমিটি করেছি। প্রতিটি জেলা প্রশাসককে নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
বাংলাদেশে সিসাদূষণের চিত্র : ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাড়ে ৩৫ মিলিয়ন শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা অত্যধিক। হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, সিসার সংস্পর্শের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার বিশ্বে চতুর্থ সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তথ্য মতে, দেশের ৩৮ শতাংশ শিশুর (১২-৫৯ মাস বয়সী) এবং প্রায় ৮ শতাংশ গর্ভবতী মায়ের রক্তে সিসার মাত্রা (≥৫µg/dL) অতিক্রম করেছে, যা নিরাপদ সিসার ওপরে। সবচেয়ে বেশি সিসাদূষিত এলাকা রাজধানী ঢাকায় ৬৫ শতাংশ শিশু সিসাদূষণের শিকার। শহরটির কিছু এলাকায় এ সংখ্যা আরো বেশি। দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রসাধনী, মসলা ও শিশুদের খেলনায় উচ্চ মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সিলেটে ৪৬.৭ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ৪২.১ শতাংশ শিশু সিসাদূষণের শিকার।