সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সিসায় ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
সিসাদূষণে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫ দিনের একটি ব্যাটারি কারখানার দূষিত সিসায় ওই এলাকার মাটি ৯০ গুণের বেশি দূষিত হয়েছে। বিষাক্ত সিসার উপস্থিতি বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৮০ পিপিএম, যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ৯০ গুণ বেশি।

গতকাল ধানমণ্ডিতে একটি হোটেলে সাংবাদিকদের এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।

পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এসডো) ও  ইউনিসেফ বাংলাদেশ এই কর্মশালার আয়োজন করে। এসডোর চেয়ারপারসন ও সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোরশেদ ও এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। 

টেলিভিশনে এমন সংবাদ প্রকাশের পর সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিআর) ও ইউনিসেফ সম্প্রতি জামালপুর সদর উপজেলার ইটাইলে অবৈধ ব্যাটারি কারখানার আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ, মাটি ও ফসলি জমি থেকে নমুনা নিয়ে গবেষণা চালায়।

এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ অফিসার হাসনাইন আহমেদ বলেন, মাটিতে সিসার উপস্থিতি অর্থেকে নেমে আসতে সময় লাগে ৭০০ বছর।

ইটাইলের মাটিতে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৯ হাজার ৮০ পিপিএম। অথচ মাটিতে সিসার সহনশীল মাত্রা হলো ২০০ পিপিএম। যেসব বাড়িতে শিশু আছে বা যেসব জায়গায় শস্য হয়, সেখানে সিসার মাত্রা ১০০ পিপিএমের নিচে থাকা উচিত। সেই হিসাবে ৯০ গুণের বেশি।
 

গবেষণার বিষয়ে হাসনাইন আহমেদ জানান, ওই এলাকায় ফসলের ক্ষেতে ক্ষতিকর সিসার উপস্থিতি ছিল ৪০০ পিপিএমের বেশি। গরু যেসব এলাকায় ঘাস খায়, সেখানে বাতাসে উড়ে আসা ছাই থেকে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ পিপিএম মাত্রার সিসা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ওই এলাকায় ৩২ পরিবারের একজন করে সদস্য থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

কর্মশালায় সিসা কী এবং ক্ষতির কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

সিসা হলো ভূপৃষ্ঠে পাওয়া একটি ভারী ধাতু। সহজে গলানো যায় ও মরিচা প্রতিরোধের কারণে এটি যুগ যুগ ধরে নানা ধরনের পণ্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জিয়াউল হক বলেন,  ‘বাংলাদেশে হাজার হাজার ব্যাটারি কারখানা তৈরি হয়েছে। এরা এক মাসের জন্য কোথাও ঝুপড়ি ঘরে ব্যাটারি গলিয়ে সিসা সংগ্রহ করে। এরপর আবার অন্য জায়গায় চলে যায়। এ কারণে আমরা জানতে পারি না। এগুলো বন্ধ করতে স্টেয়ারিং কমিটি করেছি।  প্রতিটি জেলা প্রশাসককে নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

বাংলাদেশে সিসাদূষণের চিত্র : ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাড়ে ৩৫ মিলিয়ন শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা অত্যধিক। হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, সিসার সংস্পর্শের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার বিশ্বে চতুর্থ সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তথ্য মতে, দেশের ৩৮ শতাংশ শিশুর (১২-৫৯ মাস বয়সী) এবং প্রায় ৮ শতাংশ গর্ভবতী মায়ের রক্তে সিসার মাত্রা (≥৫µg/dL) অতিক্রম করেছে, যা নিরাপদ সিসার ওপরে। সবচেয়ে বেশি সিসাদূষিত এলাকা রাজধানী ঢাকায় ৬৫ শতাংশ শিশু সিসাদূষণের শিকার। শহরটির কিছু এলাকায় এ সংখ্যা আরো বেশি। দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রসাধনী, মসলা ও শিশুদের খেলনায় উচ্চ মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সিলেটে ৪৬.৭ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ৪২.১ শতাংশ শিশু সিসাদূষণের শিকার।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com