ঢাকা: ‘আর নয় বাল্য বিয়ে, এগিয়ে যাবো স্বপ্ন নিয়ে’, ‘শিক্ষা-পুষ্টি নিশ্চিত করি, বাল্য বিয়ে বন্ধ করি’, ‘যৌন হয়রানি বা উত্ত্যক্তকরণকে না বলুন, সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’ এ ধরনের অসংখ্য পোস্টার হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন নারীরা।
কিশোরী, তরুণীসহ বাল্য বিয়ে বন্ধের প্রত্যয় নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সমবেত হয়েছেন কয়েকশ নারী। সেই সঙ্গে তারা দাবি তুলেছেন-কোনো শর্তেই ১৮ বছরের নারীর বিয়ে নয়।
সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সামনে কয়েকশ নারী বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে বিভিন্ন পোস্টার আর স্লোগানে মুখর করে তুলেন। তাদের সঙ্গে নিয়েই সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি ব্যানারে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় মানববন্ধন করে প্রায় ৭০টি সংগঠন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কোনো নারীর হাতে-‘নারীর নিরাপত্তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে’। আবার কারও হাতে-‘কোন শর্তেই ১৮ বছরের আগে বিয়ে নয়’। কেউবা আবার ধরে আছেন-‘বিয়ের বয়স ১৮ বছর নিশ্চিত করো, মাতৃমৃত্যু রোধ করো’ সংবলিত ব্যানার ও পোস্টার।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে মানবাধিকার কর্মী আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, বিবাহের পরের জীবন দায়িত্বপূর্ণ জীবন। এখানে নিজের এবং পরিবারের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এজন্য প্রয়োজন শারীরিক ও মানসিক পরিপূর্ণতা। যেটি ১৮ বছরের আগে সম্ভব নয়।
বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ন্যূনতম ১৮ বছর করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ১৬ বছরের আগে স্কুল জীবন শেষ করা সম্ভব নয়। স্কুল জীবন শেষ করার আগেই কোনো মেয়েকে বিয়ে দিয়ে সংসার জীবনে ফেলে দিলে সে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। সেই সঙ্গে তার শৈশবও হরণ করা হয়। এটি শিশুদের অধিকারের ওপর অনৈতিক হস্তক্ষেপ।
১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে আমারা কোনোভাবেই মেনে নেবো না। এ জন্য প্রয়োজন হলে আমরা কঠিন আন্দোলনে যাবো। যা যা করার দরকার সব করবো-যোগ করেন সুলতানা কামাল।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, এখন নারীদের সবক্ষেত্রে জয়জয়কার। নারীরা এখন মহাশূন্যে যাচ্ছে। ঠিক সেই সময় নারীদের অগ্রসরতাকে থামিয়ে দিতে বিয়ের বয়স কমার কথা বলা হচ্ছে। এতে দেশ পিছনের দিকে চলে যাবে।
মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-ব্র্যাকের প্রতিনিধি চিত্তরঞ্জন সরকার, অ্যাকশন এইডের কেয়া আক্তার, কন্যশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের মাসুমা আক্তার ডলি, নারীনেত্রী কাজী রোজী, সেলিনা আহমেদ প্রমুখ।