
পনিটেলে সহজ স্টাইল
পনিটেল চিরচেনা চুল বাঁধার পদ্ধতি।
বানে এলিগ্যান্ট ও ট্রেন্ডি
বান কেবল অনুষ্ঠানের সাজ নয়। মেসি বানে একটু এলোমেলো ফিনিশিং, দু-তিনটি চুলের গোছা আলতো করে বের করে আনার এই স্টাইল ক্যাজুয়াল আউটিংয়ে দারুণ মানায়।

বেণিতে সৃজনশীল
বেণি কখনো পুরনো হয় না, শুধু ধরন পাল্টায়। লম্বা চুলে বিশেষভাবে মানায় ফিশটেল বেণি। হাফ ব্রেইডে চুলের অর্ধেক মুক্ত রেখে পেছনে ছোট বেণি করে নিলে মুখটা উজ্জ্বল দেখায়, আর সাইড ব্রেইডে শাড়ি বা কামিজ লুককে করে আরো নান্দনিক।
বাঁধনের অনুষঙ্গ
চুলের বাঁধনে দারুণ ভূমিকা রাখে কিছু অ্যাকসেসরিজ। ব্যবহার করতে পারেন মায়াবী পার্ল-পিন, ছোট ক্লো ক্লিপ, রেট্রো স্ক্রাঞ্চি ও মেটাল হেয়ার কাফ বা স্টিক। এগুলো যেকোনো সাধারণ বান বা পনিটেলে এনে দেয় বিশেষত্ব।

শাড়ির সঙ্গে চুল বাঁধা
শাড়ির পাড়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে রিবন বা স্ক্রাঞ্চি দিলে সাজ ও চেহারায় সমন্বয় আসে। লো বান করে তার চারপাশে আলতো করে ফুলের ছোট মালা জড়ালে সাজ হয়ে ওঠে মার্জিত।
পোশাকের নকশা বুঝে বাঁধন
কলারওয়ালা শার্টে হাই বান লম্বাটে দেখায়। কুর্তি বা ফ্লোই টপে সাইড ব্রেইড পুরো লুককে করে নমনীয়। টার্টলনেক টপে স্লিক পনিটেল বেশি মানানসই।

চুলের ভলিউম বাড়াতে
চুল পাতলা হলে রুট লিফট দিয়ে চুল উঁচু করে হাফ আপ বান করা ভালো। সাইড টুইস্ট করে পেছনে পিন করলে চুল দেখায় বেশি ঘন ও টেক্সচারড।
লেয়ার হেয়ার কাটের বাঁধন
লেয়ার কাটে চুল খোলা রাখাই জনপ্রিয়, কিন্তু পনিটেলের ওপর চুলের এক-দুটি ফ্রেম লেয়ার নরম করে পাশে নামিয়ে রাখলে মুখটা খুব সুন্দর লাগে। মেসি লো বান লেয়ারের কাটে কমনীয় দেখায়। গরম আবহাওয়ায় বাবল পনিটেল চুলকে ঘাড় থেকে দূরে রাখে। অনেকগুলো ছোট ক্লিপ ব্যবহার করে চুল টপের দিকে তুলে রাখলে ফেস-ফ্রেমিংও সুন্দর হয়।

হট-টুল ছাড়াই স্টাইল
হেয়ার স্ট্রেইটনার বা কার্লার ছাড়াই অনেক স্টাইল করা যায়। শুধু চুল টুইস্ট করে পিন করলে তৈরি হয়ে যায় ‘সফট রোমান্টিক আপডু’। রাতে বেণি করে ঘুমালে সকালে পাওয়া যাবে ন্যাচারাল ওয়েভ, যেটি বান বা পনিটেলে খুব স্টাইলিশ দেখায়।

বিশেষ দিনে ফটোফ্রেন্ডলি বাঁধন
ক্যামেরার সামনে মুখের আকৃতি উজ্জ্বল রাখতে হাই পনিটেল বা হাফ আপ, হাফ ডাউন লুক খুব ফটোজেনিক। ব্রাইডমেইড স্টাইলে ফ্লোরাল পিন বা পার্ল-ড্রপ অ্যাকসেসরিজ ছবি আরো উজ্জ্বল করে।
ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী বাঁধন
সাহসী স্টাইলে স্লিক হাই বান। আর্টিস্টিক মুডে মেসি ব্রেইড। শান্ত, মিনিমাল ব্যক্তিত্বে লো পনিটেল সবচেয়ে মানায়। চুলের বাঁধনে একটু ভিন্নতা আনতে খুব বেশি কিছু লাগে না, কেবল সৃজনশীলতা আর নিজের মুড বোঝা দরকার। আজ আপনি ক্যাজুয়াল, কাল এলিগ্যান্ট, আর পরশু হয়তো একদম মিনিমাল চুলের বাঁধন—এমনই হোক আপনার প্রতিদিনের ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সহজ ভাষা। নিজের পছন্দমতো চুলের বাঁধন আবিষ্কার করুন, আর প্রতিদিনই হয়ে উঠুন নতুন এক ‘আপনি’।
সকালের তাড়াহুড়ায়
সকালে অফিসে যাওয়ার আগে বা কোনো কাজের তাড়াহুড়ায় চুল আঁচড়ে শুধু লো টুইস্ট বান করলেও পরিপাটি দেখায়। চুল ফ্রিজি হলে স্ক্রাঞ্চি দিয়ে মিড পনিটেল দেখতেও সুন্দর, করতেও সময় কম লাগে।
ভ্রমণে হেয়ার স্টাইল
ভ্রমণে চুল খোলা রেখে ছবি তুলতে ভালো লাগে ঠিকই, কিন্তু চলাফেরার সময় চুল পেছনে গোছানো থাকলে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ে। ট্রাভেল-ফ্রেন্ডলি হাফ বান বা ডাবল ব্রেইড আপনাকে রাখবে ঝামেলামুক্ত। সমুদ্র ভ্রমণে স্কার্ফ দিয়ে চুল বাঁধলে স্টাইলের সঙ্গে চুলও থাকে সুরক্ষিত।
বাঁধা চুলের যত্ন, লুকের ভিত্তি
চুলে স্টাইলের সঙ্গে যত্ন জরুরি। চুল বেশি টাইট করে বাঁধা, নিয়মিত তেল না দেওয়া, রাবার ব্যান্ড টান টান করে ব্যবহার করলে চুল ভেঙে যায়। তাই সপ্তাহে দু-এক দিন তেল মালিশ, সালফেট ফ্রি শ্যাম্পু, আর চুল বেঁধে না ঘুমানোর অভ্যাস করা জরুরি। এই ছোট যত্নগুলো আপনার স্টাইলকে ধরে রাখবে।