কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তৃণভোজী বিভিন্ন প্রাণীর প্রজননে এসেছে বিরাট সফলতা। এসব নতুন অতিথিকে নিয়ে বেশ আনন্দে সময় পার করছে প্রাণিকুলের মা-বাবারা। তবে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় বিগত সরকারের সময় নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের সব ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন শতভাগ বাস্তবায়িত হলেও প্রকৃত সাফারি পার্কে রূপান্তরের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে শুধু একটি যানবাহন বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে এই সাফারি পার্কের বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বেষ্টনীতে প্রজনন সফলতা এসেছে।
এসবের মধ্যে বাংলাদেশে বিলুপ্ত হওয়া ভারতীয় প্রজাতির তৃণভোজী নীলগাইয়ের ঘরে এসেছে একটি পুরুষ শাবক, যার বয়স দুই মাস।
আরেক তৃণভোজী প্রাণী জলহস্তীর ঘরেও এসেছে নতুন অতিথি। এটিসহ বর্তমানে জলহস্তীর সংখ্যা ১০। পার্কে রক্ষিত লাল তালিকাভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক নিরীহ তৃণভোজী গয়ালের (তমগরু) সংখ্যা ছিল ২২।
এই প্রাণীর ঘরে চারটি শাবক এসেছে। দুটির বয়স ছয় মাস এবং দুটির বয়স দুই মাস।
বর্তমানে সাফারি পার্কে নীল ও সাদা ময়ূরের সংখ্যা বেশ ভালো। এর মধ্যে ঘর আলোকিত করেছে তিনটি সাদা ময়ূর।
বিরল প্রজাতির কালিম পাখির ঘরেও এসেছে আটটি ফুটফুটে বাচ্চা। আগে ছিল ছয়টি। পার্কে বর্তমানে হরিণের সংখ্যা ৪৯। এর মধ্যে চিত্রা হরিণ ৪৩টি, মায়া হরিণ ছয়টি।
আফ্রিকান প্রজাতির ওয়াইল্ড বিস্টের সংসার বর্তমানে পাঁচ সদস্যের।
এর মধ্যে তিনটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ এবং দুটি স্ত্রী। পার্কের কুমির বেষ্টনীতে রয়েছে ১৯টি কুমির। এর মধ্যে নোনা পানির কুমির রয়েছে ১১টি এবং মিঠা পানির কুমিরের সংখ্যা ৮। পার্কের প্রকল্প পরিচালক এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কটি বিদেশি প্রজাতির বন্যপ্রাণীর প্রজননে বিরাট সফলতা দেখিয়ে আসছে। গত কয়েক মাসেও বিপুল পরিমাণ বন্যপ্রাণীর প্রজনন ঘটেছে পার্কটিতে।
তিনি আরো বলেন, যানবাহন বরাদ্দ দেওয়ার জন্য একাধিকবার পত্র দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু এখনো সেই যানবাহনটির সংস্থান না হওয়ায় পুরো পার্কটিকে প্রকৃত সাফারি পার্কে রূপান্তর করা যাচ্ছে না।