মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কাঠের থালা বাসন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪ বার পড়া হয়েছে
কাঠের তৈরি থালা-বাসনের নকশা, নান্দনিকতা ও বৈচিত্র্য অন্যান্য তৈজসপত্রের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়।ছবি : সংগৃহীত
খাবার প্লেট, সার্ভিং প্লেট, কৌটো, লবণদানি, বাটি, পিরিচ, স্যুপের বাটি, স্যুপের চামচ, তরকারির বাটি, রাইস বোল, মধু ডিপার, তরকারির চামচ, ভাতের চামচ, ডালের চামচ, জগ, মগ, গ্লাস, সস কাপ, চায়ের কাপ, কেটলি—সবই হয় কাঠ দিয়ে। এ ছাড়াও কাঠের তৈরি গামলা, চামচ, স্প্যাচুলা, ডাল ঘুঁটনি, বেলন-পিঁড়ি, রুটি মেকার, হামান-দিস্তা বা ছেঁচা, লেবু স্কুইজার, চপিং বোর্ডও পাওয়া যায়। সরবত বা জুস ও খাবার পরিবেশনের জন্য কাঠের ট্রে পাবেন। রান্নাবান্নার চামচ, মিক্সার, ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখার  দানিও তৈরি হয় কাঠ দিয়ে।

 

নকশা ও আকার

কাঠের তৈরি থালা-বাসনের নকশা, নান্দনিকতা ও বৈচিত্র্য অন্যান্য তৈজসপত্রের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। গোলাকার, ওভাল, ত্রিকোনাকার, চৌকোনাকার প্লেট পাবেন। আয়তাকার, পত্রাকৃতি, মত্স্য আকৃতি ও বিভিন্ন প্রাণীর মুখের আদলের কাঠের ট্রে পাবেন। তাতে লতাপাতা, ফুল ও নানা নকশা খোদাই করা থাকে।

এক কাঠের ট্রে তৈরি হয় জোড়া ছাড়া কাঠ দিয়ে। ফল রাখার কিংবা জামাই আপ্যায়নের সার্ভিং ট্রের আকৃতি সাধারণত গোলাকার হয়ে থাকে। গ্লাস ট্রেতে পানি ঝরার ছিদ্র থাকে। কাঠের প্লেট পাতলা হয়।
রাইস বোল আকারে গোল ও বেশ পুরু হয়। পিত্জা সার্ভার আট থেকে ১৬ ইঞ্চির হয়ে থাকে। রুটি মেকার গোল, চারকোনা আট থেকে ১০ ইঞ্চির হয়। জোড়াবিহীন কাঠের স্যুপ কিংবা তরকারির বাটি পাবেন বিভিন্ন আকৃতির। 

কাঠের থালা বাসন

যাঁরা গড়েন

কাঠের থালা-বাসন ঐতিহ্যবাহী দেশীয় শিল্প।

প্রাচীন কাল থেকেই হস্তশিল্পী, ছুতাররা এসব থালা-বাসন তৈরি করে আসছেন। বর্তমানে কারিগড়রা তাঁদের প্রাচীন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন। কাটিং, বার্নিশিংয়ের ফলে এসব পাত্র আগের চেয়ে আরো মসৃণ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বাছাইকৃত কাঠ, গাছের গুড়ি থেকে লেদ মেশিনে ঘুরিয়ে বিভিন্ন বাসনের আকৃতি দেওয়া  হয়। সবশেষে সিরিজ কাগজে ঘষে মসৃণ করে তেল বা মোম পলিশ করা হয়। 

কাঠের থালা-বাসন তৈরিতে সাধারণত মসৃণ ও শক্ত কাঠ ব্যবহূত হয়। আম, নাশপাতি ও জলপাই কাঠ দিয়ে তৈরি হয় নানা থালা-বাসন। এগুলো টেকসই কাঠ। মেহগনি কাঠ দিয়ে তৈরি হয় স্যুপ ও তরকারির বাটি,  বাবলা কাঠ দিয়ে চামচ, স্প্যাচুলা ও কাঁটা চামচ তৈরি হয়। ম্যাপেল, চেরি, রাবার কাঠ, আখরোট, আবলুস ও ওক কাঠও ব্যবহার হয়। ব্যবহারের সুবিধা

রাজধানী নিউ সুপার মার্কেটের হক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবদুল হক খোকন জানান, কাঠের থালা-বাসন ওভেন প্রুফ। নন-স্টিক প্যান ও হাঁড়ির মতো রান্নাবান্নার পাত্রে কাঠের চামচ ও স্প্যাচুলা ব্যবহার করা নিরাপদ। এসব পাত্রের ওপর নির্দিষ্ট উপাদানের প্রলেপ থাকে। এ জন্য কম তেলে রান্না করা যায়। ধাতব চামচের আঘাতে স্ক্র্যাচ পড়ে নষ্ট হতে পারে। সামান্য প্রলেপ উঠে খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। যা দেহের জন্য ক্ষতিকর। কাঠের চামচে এমন আশঙ্কা নেই। কাঠ হালকা ও মসৃণ হওয়ায় রান্নার সময় নাড়াচাড়ায় হাতে আঘাত লাগে না। কাঠের পাত্র পড়ে গেলে সহজে ভাঙে না।

কাঠের থালা বাসন

পরিষ্কার ও সংরক্ষণ

সামান্য যত্নে কাঠের থালা-বাসন দীর্ঘদিন ভালো থাকে। পরিষ্কারের পর ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। প্রথমে গরম পানি ও পাত্র পরিষ্কারক সাবান দিয়ে নরম স্ক্রাবারের সাহায্যে ঘষে নিন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দূর করতে শুকনা কাপড়ে মুছে লেবু বা ভিনেগার দিয়ে ঘষে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট রেখে দিন। এ ছাড়া পাত্রগুলো লবণ ও বেকিং সোডার মিশ্রণে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এরপর শুকনা কাপড়ে মুছে বাতাসে শুকিয়ে সংরক্ষণ করুন। রোদে কাঠের বাসন বেঁকে যেতে পারে। তাই রোদে দেবেন না।

কোথায় পাবেন 

রাজধানী ঢাকার নিউমার্কেট, চক বাজার, বংশাল কিচেন মার্কেট, যাত্রাবাড়ী, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুরে মাটির মায়া, উত্তরা, খুলনা নিউমার্কেট, সিলেট বন্দর বাজার, রাজশাহী বোয়ালিয়া বাজারসহ সারা দেশের বিভিন্ন হস্তশিল্পের দোকানে কাঠের থালা-বাসন পাওয়া যায়। এ ছাড়া দারাজ, অ্যামাজন ইন, আজকের ডিল, আলি বাবা ডটকম, ইবাই ৭ ডটকম, জুট উড ডটকম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাঠের থালা-বাসন পাওয়া যায়। ফেসবুকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কাঠের থালাবাসন বিক্রি করে। ফেসবুক মার্কেটপ্লেসেও পাবেন কাঠের থালাবাসন।

দাম

এক কাঠের বাসনগুলোর দাম বেশি। এগুলো একটি মোটা কাঠ খোদাই করে তৈরি করা হয়। এক কাঠের রাইস বোলের দাম চার হাজার টাকা। খাবার প্লেট আকৃতিভেদে প্রতিটি ৪০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সার্ভিং প্লেট তিন হাজার ৫০০ টাকা। চপিং বোর্ড, পিত্জা সার্ভার ৩০০ থেকে শুরু। বড় পুরু গোল ট্রে দুই হাজার ৫০০ টাকা। এক কাঠের ট্রে এক হাজার টাকা। মাঝারি থেকে বড় গ্লাস ট্রে ৯০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া জোড়া কাঠের গ্লাস ট্রে ছোট-বড় তিন পিসের সেট এক হাজার ৬০০ টাকা। সস কাপ প্রতি পিস ১০০ টাকা। স্যুপের বাটি প্রতি পিস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। চিমটা ৫০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনতে পাবেন। মধু ডিপার প্রতি পিস ৬০ টাকা। হামান-দিস্তা ১৩০ থেকে ২৫০ টাকা। বেলন-পিঁড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। রুটি মেকার এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকায় কিনতে পাবেন।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com