দেখা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি লবণ খাচ্ছে সবাই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের কারণ লবণ। অতিরিক্ত লবণ খেলে ডায়াবেটিসও বৃদ্ধি পায়। এ জন্য পাতে ছিটা লবণ খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে।
শারীরিক পরিশ্রম
ডায়াবেটিক থেকে দূরে থাকার অন্যতম উপায় হচ্ছে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। নগরায়ণের ফলে মানুষ প্রচুর পরিমাণে যান্ত্রিক সুবিধা পাচ্ছে। এতে প্রায় শ্রমহীন সময় ব্যয় হয় মানুষের। মানুষ যতটুকু ক্যালরি গ্রহণ করে, ততটুকু ব্যয় করে না। ফলে প্রায় সব বয়সের মানুষই আক্রান্ত হচ্ছে দৈহিক স্থূলতায়। আজকের দৈহিক স্থূলতা মানে কালকের ডায়াবেটিক রোগী। স্থূলতা কমানোর জন্য কায়িক শ্রমের বিকল্প নেই। কারো স্ট্রোক হয়ে এক পা, এক হাত অবশ হয়ে গেলেও তাকে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। কারো কোমরে ব্যথা হলেও তাকে শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। এমনকি ব্যায়াম করতে হবে গর্ভকালীন অবস্থায়ও।
যেভাবে ব্যায়াম করবেন
ডায়াবেটিক রোগিদের নিয়ম মেনে রোজ ব্যায়াম করতে হবে। স্ট্রোকের রোগীদের জন্যও আছে বিশেষ ব্যায়াম। যাঁর এক পা, এক হাত অবশ, তাঁকে ব্যায়াম করতে হবে যে হাত ভালো আছে তা দিয়ে। কারো যদি দুই পা অবশ থাকে, তিনি পেট, বুক, হাত ও কাঁধের ব্যায়াম করবেন। যাঁর দুই পা, দুই হাত অবশ, তিনি ঘাড় ও মাথার ব্যায়াম করবেন। কোনোভাবেই ব্যায়াম থেকে দূরে থাকা যাবে না। গর্ভকালীন মহিলাদের জন্য বিশেষ ধরনের ব্যায়াম আছে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ৯৮ শতাংশ টাইপ-২-এর অধীন। দুটি কারণে ডায়াবেটিস হয়—শরীরে ইনসুলিন কম তৈরি হওয়া এবং ইনসুলিন তৈরি হচ্ছে কিন্তু কাজ করতে পারছে না। তাই ইনসুলিন কাজ করার জন্য রোগীকে অবশ্যই শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। না হলে এই কাজ করতে না পারাটা দিন দিন বাড়বে। ওষুধের পরিমাণ বাড়বে কিন্তু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। দেশে ৬৮ থেকে ৮০ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগী মারা যাচ্ছেন হূদরোগ অথবা স্ট্রোকের কারণে। এর প্রধান কারণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। ডায়াবেটিস কমাতে হবে। নয়তো এ ধরনের মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়। এ জন্য কেউ বয়স্ক হোন বা মধ্যবয়সী—সবাইকে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। যাঁরা ঘরের বাইরে যান না, তাঁরা ঘরে ব্যায়াম করবেন। সুযোগ থাকলে ছাদে ব্যায়াম করতে হবে। না হলে ব্যায়ামের মেশিন কিনতে পারেন। সাইকেল চালিয়ে, রশি লাফিয়ে ব্যায়াম করা যায়। প্রতিদিন একই সময় ব্যায়াম করতে পারলে ভালো।
হাঁটার বিকল্প নেই
যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের বেশির ভাগের ওজন বেশি। তাই ওজন কমাতে হবে। যাঁদের শারীরিক অবস্থা ভালো, তাঁরা সপ্তাহের সাত দিন হাত-পা ছড়িয়ে ৩০ মিনিট করে হাঁটতে পারেন। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে আদর্শ এবং কার্যকর একটি পদ্ধতি। যাঁরা কাজের কারণে সারা দিন হাঁটার সময় পান না, তাঁরা সপ্তাহের ছুটির দিনে ১৫০ মিনিট হাঁটবেন। ১০ থেকে ১২ কেজি ওজন কমাতে হলে প্রতিদিন ৪০ মিনিটে চার কিলোমিটার হাঁটতে হবে। যাঁরা ৩০ থেকে ৪০ কেজি ওজন কমাতে চান, তাঁদের প্রতিদিন ৫০ মিনিটে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটতে হবে। শুরুতে কষ্ট হবে। অনেকের কাজের কারণে দিনের বেলা বাইরে গিয়ে হাঁটা সম্ভব হয় না। তাঁদেরও একটি নির্দিষ্ট সময়ে হাঁটতে হবে। তাঁরা ভোরে বা রাতে খাওয়ার পর হাঁটতে পারেন। মোদ্দাকথা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হাঁটতে হবে এবং শারীরিক পরিশ্রম করতেই হবে। তবেই ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকতে পারবেন।