সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রায় জরুরি রদবদল

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে
নিয়ন্ত্রিত জীবন

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। তাই ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকতে জীবনযাপনে শৃঙ্খলা আনা জরুরি। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আবার রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত একটি নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে পারলে ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকা সম্ভব। সবার আগে খাবার খাওয়ার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

এক বসায় বেশি খাওয়া যাবে না। দীর্ঘ সময় অভুক্তও থাকা যাবে না। প্রতিদিনের খাবারের হিসাব রাখুন। বেশি খেলে রক্তে গ্লুকোজ প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যায়।
যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের আরো বাড়ে। যাদের ডায়াবেটিস নাই তাদেরও ঝুঁকি বাড়ে। 

খাদ্য ব্যবস্থাপনা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে খাদ্য ব্যবস্থাপনা। এতে ওষুধ ছাড়াই শুধু লাইফস্টাইলের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগির খাদ্যতালিকা পৃথক হয়ে থাকে। বয়স, ওজন, উচ্চতা, কাজের ধরণ, কায়িক শ্রম, জীবনযাপন পদ্ধতি সব কিছু বিবেচনায় এই খাদ্য তালিকা করা হয়। টাইপ-২ ডায়াবেটিস নতুন আক্রান্তদের শুধু খাদ্য ব্যবস্থাপনা দিয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ২ শতাংশ কমানো সম্ভব। 

অতিরিক্ত লবণ পরিহার

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশের মানুষের লবণ খাওয়ার প্রবণতা প্রতিদিন ৬.৮ থেকে ১৮ গ্রাম। অথচ প্রতিষ্ঠানটির সুপারিশ হলো—একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে ৫ গ্রাম লবণ খাবেন।

দেখা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি লবণ খাচ্ছে সবাই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের কারণ লবণ। অতিরিক্ত লবণ খেলে ডায়াবেটিসও বৃদ্ধি পায়। এ জন্য পাতে ছিটা লবণ খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। 

শারীরিক পরিশ্রম

ডায়াবেটিক থেকে দূরে থাকার অন্যতম উপায় হচ্ছে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। নগরায়ণের ফলে মানুষ প্রচুর পরিমাণে যান্ত্রিক সুবিধা পাচ্ছে। এতে প্রায় শ্রমহীন সময় ব্যয় হয় মানুষের। মানুষ যতটুকু ক্যালরি গ্রহণ করে, ততটুকু ব্যয় করে না। ফলে প্রায় সব বয়সের মানুষই আক্রান্ত হচ্ছে দৈহিক স্থূলতায়। আজকের দৈহিক স্থূলতা মানে কালকের ডায়াবেটিক রোগী। স্থূলতা কমানোর জন্য কায়িক শ্রমের বিকল্প নেই। কারো স্ট্রোক হয়ে এক পা, এক হাত অবশ হয়ে গেলেও তাকে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। কারো কোমরে ব্যথা হলেও তাকে শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। এমনকি ব্যায়াম করতে হবে গর্ভকালীন অবস্থায়ও।

যেভাবে ব্যায়াম করবেন

ডায়াবেটিক রোগিদের নিয়ম মেনে রোজ ব্যায়াম করতে হবে। স্ট্রোকের রোগীদের জন্যও আছে বিশেষ ব্যায়াম। যাঁর এক পা, এক হাত অবশ, তাঁকে ব্যায়াম করতে হবে যে হাত ভালো আছে তা দিয়ে। কারো যদি দুই পা অবশ থাকে, তিনি পেট, বুক, হাত ও কাঁধের ব্যায়াম করবেন। যাঁর দুই পা, দুই হাত অবশ, তিনি ঘাড় ও মাথার ব্যায়াম করবেন। কোনোভাবেই ব্যায়াম থেকে দূরে থাকা যাবে না। গর্ভকালীন মহিলাদের জন্য বিশেষ ধরনের ব্যায়াম আছে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ৯৮ শতাংশ টাইপ-২-এর অধীন। দুটি কারণে ডায়াবেটিস হয়—শরীরে ইনসুলিন কম তৈরি হওয়া এবং ইনসুলিন তৈরি হচ্ছে কিন্তু কাজ করতে পারছে না। তাই ইনসুলিন কাজ করার জন্য রোগীকে অবশ্যই শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। না হলে এই কাজ করতে না পারাটা দিন দিন বাড়বে। ওষুধের পরিমাণ বাড়বে কিন্তু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। দেশে ৬৮ থেকে ৮০ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগী মারা যাচ্ছেন হূদরোগ অথবা স্ট্রোকের কারণে। এর প্রধান কারণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। ডায়াবেটিস কমাতে হবে। নয়তো এ ধরনের মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়। এ জন্য কেউ বয়স্ক হোন বা মধ্যবয়সী—সবাইকে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। যাঁরা ঘরের বাইরে যান না, তাঁরা ঘরে ব্যায়াম করবেন। সুযোগ থাকলে ছাদে ব্যায়াম করতে হবে। না হলে ব্যায়ামের মেশিন কিনতে পারেন। সাইকেল চালিয়ে, রশি লাফিয়ে ব্যায়াম করা যায়। প্রতিদিন একই সময় ব্যায়াম করতে পারলে ভালো।

হাঁটার বিকল্প নেই

যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের বেশির ভাগের ওজন বেশি। তাই ওজন কমাতে হবে। যাঁদের শারীরিক অবস্থা ভালো, তাঁরা সপ্তাহের সাত দিন হাত-পা ছড়িয়ে ৩০ মিনিট করে হাঁটতে পারেন। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে আদর্শ এবং কার্যকর একটি পদ্ধতি। যাঁরা কাজের কারণে সারা দিন হাঁটার সময় পান না, তাঁরা সপ্তাহের ছুটির দিনে ১৫০ মিনিট হাঁটবেন। ১০ থেকে ১২ কেজি ওজন কমাতে হলে প্রতিদিন ৪০ মিনিটে চার কিলোমিটার হাঁটতে হবে। যাঁরা ৩০ থেকে ৪০ কেজি ওজন কমাতে চান, তাঁদের প্রতিদিন ৫০ মিনিটে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটতে হবে। শুরুতে কষ্ট হবে। অনেকের কাজের কারণে দিনের বেলা বাইরে গিয়ে হাঁটা সম্ভব হয় না। তাঁদেরও একটি নির্দিষ্ট সময়ে হাঁটতে হবে। তাঁরা ভোরে বা রাতে খাওয়ার পর হাঁটতে পারেন। মোদ্দাকথা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হাঁটতে হবে এবং শারীরিক পরিশ্রম করতেই হবে। তবেই ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com