সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বাবুই আর একদল ফড়িং

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে
পৃথিবী তখন থির হয়ে বসে। বাতাস একেবারে থেমে যায়। ওখানে শুধু বেতের ঝোপে দুটি পাতা তাইরে নাইরে করে। আর কোনো কাঁপন পড়ে না চোখে।

ঠিক এমনই সময় নীলিম রঙা আকাশ আরো নীল হয়। একেবারে নীল কাগজের মতো। তার নিচে তেলিকদমগাছে ফিঙে রাজা চুপচাপ বসে। সতর্ক খুব এখন।
তখন দুপুরবেলা। একদল বাবুই হঠাৎ থেমে যায়। দেখে, উঁচু এক তালগাছ। ভালো লাগে তাদের।
দেখে গাছটি বলে, কোত্থেকে এলে? কত দূর তোমাদের গাঁ? 

আমাদের তো তেমন কোনো বিশেষ বাড়িঘর নেই। এসেছি দুগ্রাম ওপার থেকে। ভেবো না তুমি, চলে যাব। ক্লান্ত আমরা। শুধু একটু জিরিয়ে নিতে চাই।

 

বুঝেছি তোমাদের দেখে। ওখানে, ওই যে কুয়া দেখো, পানি আছে অনেক। আরো আছে অনেক কিছু। ধান-কাউনে ভরে যায় ফসলের সময়।

হু, আমাদের তেমনই মনে হয়।

আর আছে আখের ক্ষেত। যত খুশি হল্লা করো, নিষেধ করার কেউ নেই।

মানুষেরা বিরক্ত করে না যখন-তখন?

সে তো একটু হবেই। সেটি কোথায় নেই বলো! চাও যদি থেকে যেতে পারো।

থাকতে পারলে খুব ভালো হতো। তা, তুমি একাই থাকো?

আমার সঙ্গে আর কে থাকবে বলো?

বাবুই পাখিদের মন গলে গেল। খুব বন্ধু এই গাছ। বলল বাবুইয়েরা, থেকে যাব আমরা। দেখবে কত সুন্দর বাসা বানাব। খুশি হবে তুমি খুব।

থেকে গেল তারা। ব্যস্ত সারাক্ষণ। সারা দিনই কিছু না কিছু করছে। খাবার আনে, ছেলেপুলেদের যত্ন নেয়, নাতি-নাতনিদের দেখভাল করে। কখনো কখনো খুব জোরে গান ধরে। তাদের গান মুক্ত হাওয়া মুগ্ধ হয়ে শোনে। একদিন বুড়ো বাবুই ঘনিষ্ঠ হয়ে কথা বলল অনেক। তার সঙ্গে গল্প জমে গেল তালগাছের। জানতে চাইল, কেমন করে সে এলো এখানে। এই বিজনভূমে। একাকী বসে ভাবনায় থাকে একটু সেই গাছ। তারপর বলে, ভরা ভাদ্দরে, পানি থইথই যখন, উঁচু তালগাছ থেকে একটি তাল পড়েছিল নিচে। যেন অসহায়। আসলে তা নয়, বাদুড়ের পাখায় ছোঁয়া লেগে পড়ে যায়। ভেবেছিল সে, মানুষেরা তুলে নেবে তাকে। নিল না তো কেউ। কোনো মানুষ দেখল না তাকে। আর কোনো প্রাণীও নয়। ভাসতে ভাসতে সেই সে চলে এলো দূরে। বহুদূরে। এরপর দেখে অথই জলে জেগে আছে কলমির লতা, হেচি আর হেলেঞ্চা। সেখানে কোমর ছাড়িয়ে যাওয়া জল। পাশেই একটু উঁচু ক্ষেত। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল এক দুধকমল। খুব ছোট্ট। মায়া হলো তার। থিতু হয়ে গেল। তারা ছিল তিনজন। আরো একটি ভাই আর একটি বোন। বাকি দুজন কোথায় ভেসে গেল, সে রাখতে পারল না খোঁজ। সেই থেকে ওখানেই বসে পড়া। অপেক্ষাও। যারা চলে গেল তার সাথের, যদি তারা ফিরে আসে কোনো দিন! আসেনি তারা। এভাবে সময় বয়ে যায়। একবার এক চাষি এসেছিল। ছোট্ট ছেলেটি ছিল সাথে তার। তুলে নিতে চাইলে বলল চাষি, রেখে দে খোকা। এখানেই বড় হোক। ভুঁইয়ের পাশে একটি তালগাছ, দেখতে লাগবে বেশ। মানুষেরাও পাবে ছায়া।

সেই থেকে বড় হওয়া তার। একাকী বিরান মাঠ। কাছেপিঠে কোনো গাছ নেই তখন। ওই দূরে, বহুদূরে রয়েছে এক বন। খুব গভীর ছিল আগে। এখন নেই। না, কোনো উঁচু গাছ। মানুষেরা আসে। কখনো কখনো। তার নিচে ছায়া নেয়। ভারি ভালো লাগে তার। এভাবে একদিন সেও বড় হয়ে যায়। দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ। বাতাস আসে, পাতায় শব্দ হয়। তবু একাকিত্ব থাকে। অনেক আগে এসেছিল এক রাখাল ছেলে। মাতিয়ে দিত সারা মাঠ, প্রান্তর। আহ, কী সুমধুর সুর! সেদিন আর নেই। এখন আর বাঁশি বাজায় না কেউ। রাখাল ছেলেও নেই। খুব একাকিত্ব এখন, সুনসান চারদিক। তাই বাবুইরা এলো যখন, মন ভরে গেল তার। বন্ধু এবার পেয়ে গেছে সে। তাদের দেখে ফড়িংরা আসে, আসে প্রজাপতি যত। আর যখন খুব জোছনা নামে, পরিরা নেমে আসে। কত গল্প তাদের! বাবুইছানা, ফুল, ফড়িং, জোনাকি আর প্রজাপতিদের সাথে। বাবুইছানারা ঘুমিয়ে পড়লে পরিরা দল বেঁধে নেমে পড়ে ফুল ফোটানোর জন্য। চলে যাওয়ার আগে বাবুইছানাদের সাথে স্বপ্নে কথা হয়। ছানারা তৃপ্ত হয়ে ঘুমিয়ে যায় রাতে। এক টুকরা অপরূপ কথার দেশ যেন তাদের।

এভাবে অনেক দিন চলে যায়। তালগাছটি ভুলে যায় বাবুইরা যাযাবর। এক জায়গায় থাকে না তারা বহুদিন। এখানে হয়ে গেল বহুদিন। এবার চলে যেতে চায়। সবচেয়ে বৃদ্ধ বাবুই গাছটিকে করে আলিঙ্গন। এত দিন এই গাছটি তাদের দিয়েছিল ভালোবাসা। হয়তো আর হবে না দেখা কোনো দিন। তবু সবচেয়ে বৃদ্ধ বাবুইটি বলে, আসব আমরা আবার। কিন্তু জানো, এত থিতু হয়ে যাওয়া ভালো লাগে না। তাই একটু ঘুরে আসা।

এই বলে তারা সত্যি বিদায় নেয়। শুধু বাবুই পাখির বাসাগুলো থেকে যায়। তালগাছটি এবার সত্যি একা হয়। ভীষণ একা।

সে খবর ফড়িংরা পেয়ে যায়। বলে তারা, ভেবো না তুমি। আমরা তো আছি কাছে. থাকবে প্রজাপতি। আর জোনাকিরাও তো আছে। এ কথায় খুশি হয় তালগাছ।

সেই রাতে খুব জোছনা নামে। ছাতিমগাছে অসংখ্য ফুল ফোটে। সুবাসে ভরে থাকে সারাক্ষণ। পরিরা নেমে আসে তখন। ওই দিকে ঝকঝকে চাঁদ ওঠে। জোছনা ঢেলে দেবে সে আজ দুনিয়াজুড়ে। তবে প্রথম জোছনার ছোঁয়া সে দিয়ে দেয় ওই গাছে। তার পাতার ওপর ঝকমক করে ওঠে জোছনার রং।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com