সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

প্রাত্যহিক জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। এই যুগে বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এটি এমন এক প্রযুক্তি, যা মানুষের মতো চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নিতে ও কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম। আজকের বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা–এমনকি বিনোদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলছে। তবে এই প্রভাব শুধু ইতিবাচক নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও আশঙ্কাও। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানুষের বুদ্ধিমত্তার মধ্যে যে প্রতিযোগিতা বা ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে, তা এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে সমৃদ্ধ জাতি গঠন শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শক্তিতে উজ্জীবিত করে তোলাও জরুরি।

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষার প্রাণ শিক্ষাক্রম। শিক্ষা যেমন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, তেমনি শিক্ষাক্রম এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মাঝে যথাসময়ে পৌঁছে দিতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন বিএড ছাড়া অন্য সব প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকায় পদ্ধতিগত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সময়ের চাহিদা এবং আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব শিক্ষকের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

প্রচলিত মুখোমুখি বা অ্যানালগ পদ্ধতি এবং অনলাইন বা ডিজিটাল পদ্ধতির সমন্বয়ে গঠিত হাইব্রিড পদ্ধতি হচ্ছে ব্লেন্ডেড পদ্ধতি। ব্লেন্ডেড পদ্ধতিকে পাশ কাটিয়ে শুধু অ্যানালগ পদ্ধতিতে পাঠদান করে আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব না। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই বিশ্বায়নে তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষে মানুষের বুদ্ধিমত্তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের শিক্ষা পরিবারের সব স্টেকহোল্ডারকে এগিয়ে আসতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন এক কম্পিউটার প্রযুক্তি, যা মানুষের মস্তিষ্কের অনুকরণে শেখে, বিশ্লেষণ করে, সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। সহজভাবে বলা যায়, এটি এমন একটি যন্ত্রমানবীয় বুদ্ধিমত্তা, যা তথ্য ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, রোবট, স্বচালিত গাড়ি, অনুবাদক সফটওয়্যার, মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, চিকিৎসা বিশ্লেষণকারী প্রোগ্রাম ইত্যাদি।

যত উন্নত হচ্ছে, মানুষের বুদ্ধিমত্তা ততই এক নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হচ্ছে। প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো–
১. চাকরির হুমকি: রোবট ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের কারণে অনেক শ্রমনির্ভর পেশা হারিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হতে পারে।
২. নৈতিক সংকট: এটি কোনো নৈতিকতা বোঝে না, যা প্রোগ্রাম করা হয় তাই করে। ফলে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
৩. মানবিক অনুভূতির অভাব: মানুষের মতো আবেগ, সহানুভূতি বা মূল্যবোধ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেই। এ কারণে এটি কখনও পুরোপুরি মানুষকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।
৪. নিরাপত্তা ঝুঁকি: হ্যাকিং, তথ্য চুরি, ভুয়া ভিডিও কিংবা যুদ্ধ ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের মতো বিষয় মানবসভ্যতার জন্য ভয়াবহ হতে পারে।
যদি আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করি, তবে এটি সহায়ক শক্তিতে রূপ নেবে। যদি এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ি, তবে একদিন হয়তো মানুষ নিজেই তার সৃষ্ট যন্ত্রের দাসে পরিণত হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানুষের বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সম্পর্ক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার মিশেলে হওয়া দরকার। তাই প্রয়োজন জ্ঞান, সতর্কতা ও নৈতিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়। মানুষ যদি বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলিও ধরে রাখতে পারে তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হবে তার অগ্রগতির হাতিয়ার, ধ্বংসের নয়।

মো. হারুনার রশিদ: জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, আলহাজ এম.এ আজিজ হাই স্কুল

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com