বয়ঃসন্ধিকাল শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়। শারীরিক বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক কিশোর-কিশোরীর মধ্যে বেশ কিছু প্রকারের আচরণগত সমস্যা দেখা যায়। কনডাক্ট ডিস-অর্ডার (Conduct Disorder) অন্যতম এক মানসিক সমস্যা। এটি কিশোর-কিশোরীর সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সাধারণত ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এটি দেখা যায়। তাদের মধ্যে সামাজিক বিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা থাকে, যেটিকে অনেক সময় ‘Delinquent behavior’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
লক্ষণ
কনডাক্ট ডিস-অর্ডারে আক্রান্ত কিশোর-কিশোরীরা সাধারণত যা করে—
নিয়ম না মানা : স্কুল ফাঁকি দেওয়া, মা-বাবার অনুমতি ছাড়া বাইরে রাত কাটানো, ছোট ছোট অপরাধও করে।
প্রতারণামূলক আচরণ : মিথ্যা বলা, চুরি বা প্রতারণা করা।
আক্রমণাত্মক আচরণ : অন্যদের মারধর করা, হুমকি দেওয়া, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন।
সম্পত্তির ক্ষতি : অন্যের সম্পত্তির ক্ষতি করা, ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো ইত্যাদি।
কারণ
এ সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি জিনগত, পরিবেশগত ও মানসিক নানা কারণে হতে পারে।
পরিবারের দ্বন্দ্ব, শৈশবে অবহেলা, শাস্তিমূলক শাসন, পারিবারিক সহিংসতা বা বিচ্ছেদ এ সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কৈশোরে মাদকাসক্তি অথবা বখাটে বন্ধুদের সঙ্গে ‘গ্যাং’ তৈরির কারণে আচরণগত সমস্যা বাড়তে থাকে।
চিকিৎসা ও প্রতিকার
মনোচিকিৎসা : কগনিটিভ বিহেভিয়েরাল থেরাপি (CBT) বা অন্যান্য সাইকো থেরাপির মাধ্যমে আক্রান্ত কিশোরদের আচরণ পরিবর্তন করা সম্ভব।
ওষুধ : কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। বিশেষত যদি অন্য মানসিক সমস্যার প্রভাবে এটি হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে মূল সমস্যাটির চিকিৎসা করা জরুরি।
পারিবারিক সহায়তা : মা-বাবার সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করা গেলে এ সমস্যা কমানো সম্ভব।
স্কুল ও সমাজের ভূমিকা : স্কুলে পরামর্শমূলক কার্যক্রম ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কিশোরদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।
কৈশোরে কনডাক্ট ডিস-অর্ডার একটি গুরুতর মানসিক সমস্যা। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পরিবারের সহযোগিতা, উপযুক্ত চিকিৎসা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা গেলে ভয়াবহ এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক মনোরোগ বিভাগ
ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল