যশোরে গ্রীষ্মকালীন নাশিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে সরবরাহকৃত এই জাতের বীজ থেকে ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই জাতের পেঁয়াজ অসময়েও উৎপাদন করা যায় বলে বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষের জন্য জেলার আট উপজেলার দুই হাজার চাষিকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা হয়।
এই চাষিদের প্রত্যেককে এক কেজি পেঁয়াজের বীজ, ১০ কেজি করে এমওপি ও ডিএপি সার এবং বিকাশের মাধ্যমে ৩৫৫ টাকা দেওয়া হয়। প্রণোদনার এই অর্থ দিয়েই চাষিরা পেঁয়াজসহ অন্যান্য সবজি ও রবি ফসল ফলিয়েছেন। তবে এর মধ্যে নাশিক-৫৩ জাতের উন্নত জাতের এই পেঁয়াজ চাষে অভাবনীয় সফল হয়েছেন চাষিরা।
সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘নাশিক এন-৫৩ পেঁয়াজটা অসময়ে হলেও দানাদার ও বড় হয়।
শীতকালীন পেঁয়াজ বাজারে ওঠার আগেই আমরা এই জাতের পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারি। এতে দামও ভালো মেলে।’ তিনি আরো বলেন, ফলন ও দামের দিক থেকে এটি অন্যান্য জাতের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় তিনি আগামী বছরও এই জাতটি চাষের পরিকল্পনা করেছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগের সহায়তায় পাওয়া নাশিক এন-৫৩ জাতের বীজ তাঁদের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলন দিয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পেঁয়াজের আকার, রং ও সংরক্ষণ ক্ষমতাও ভালো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন বলেন, যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় নাশিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ এখন পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে বাণিজ্যিক চাষে রূপ নিচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ২৬০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে অনেক বেশি। এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে যশোর দেশীয় পেঁয়াজ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।