মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

যিনি ভেবেছেন, ভাবিয়েছেন…

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে
শতবর্ষে ঋত্বিক ঘটক
  • বাংলা চলচ্চিত্রে স্বাধীন ধারা নির্মাণের অনন্য কারিগর ঋত্বিক ঘটক। আজ এ নন্দিত চলচ্চিত্রকারের শততম জন্মদিন। দিনটিতে তাঁকে ঘিরে রয়েছে নানা আয়োজন। সেসবের সঙ্গে নির্মাতার সমৃদ্ধ সৃষ্টিজীবনের কিঞ্চিৎ তুলে ধরছেন কামরুল ইসলাম
শুরুতেই আত্মসমর্পণ—সামান্য লেখা আর কতটুকুই বা পারে! তবু প্রসঙ্গ যখন ঋত্বিক ঘটক, দিনটি যখন তাঁর জন্মশতবর্ষের; বিকারহীন থাকার মানে নেই। কবি, লেখক, নির্মাতা, অভিনেতা-ঋত্বিক আসলে কে? নাকি এসবের আড়ালে তিনি আদতে এক যোদ্ধা, একজন বিদ্রোহী, আজন্ম খেপা। সেটা ভাবার বিষয়। ভাবতে হবে।

সাহিত্যটা যেন রক্তে নিয়েই এসেছিলেন ঋত্বিক। অবসরের পর বাবা রাজশাহীতে বাড়ি করেন। সেখানেই কাটে ঋত্বিকের শৈশব-কৈশোর। পড়েছেন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী কলেজে।তখন দেশভাগের বিধ্বস্ত সময়।এ বাংলার অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চলে যান ওপার বাংলায়। সে মিছিলে ছিল ঋত্বিকের পরিবারও। স্বদেশ ছেড়ে যাওয়ার বেদনা তাঁকে আঘাত করেছিল। নিজের চোখে দেখেছেন অনেক মানুষের ত্যাগ, দুর্দশা আর পীড়া। সেসব তাঁর মননে জ্বালিয়ে দেয় এমন আগুন, যা পরবর্তী জীবনে আর নেভেনি। কখনো গল্প-কবিতা হয়ে, কখনো চলচ্চিত্র রূপে বের হয়েছে স্ফূলিঙ্গ। ঋত্বিক তাঁর প্রথম নাটক ‘কালো সায়র’ রচনা করেন ১৯৪৮ সালে। ওই সময়ে বাংলার পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যেও বুঁদ হয়ে যান তিনি। নিজের মৌলিক লেখার সঙ্গে অনুবাদও চালান সমান্তরালে। আবার নাটক পরিচালনা আর অভিনয়ও করতেন হরদম।

চলচ্চিত্রে ঋত্বিকের যাত্রা দুই ভূমিকায়—অভিনেতা ও সহকারী পরিচালক। নিমাই ঘোষের ‘ছিন্নমূল’ [১৯৫১] তাঁর প্রথম ছবি। তবে তাঁর প্রথম নির্মাণ ‘নাগরিক’ [১৯৫৩]। প্রথম ছবিতেই ঋত্বিক বুঝিয়ে দেন, ভারতীয় ছবির ছক ভাঙতে এসেছেন তিনি। পরের ছবিগুলোতে তাঁর চিন্তা ও দর্শন আরো গভীরভাবে ফুটে ওঠে। ঋত্বিকের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’ ‘সুবর্ণ রেখা’ কিংবা ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবিগুলো শুধু তাঁকেই খ্যাতি দেয়নি, দিয়েছে পরের প্রজন্মকে উৎসাহ; পথচলার সাহস। বাণিজ্যের সঙ্গে কখনো আপস করেননি ঋত্বিক। হয়তো তাই এমন সব ছবি বানাতে পেরেছেন, যেগুলো অর্ধশত বছর পেরিয়ে আজও দর্শকের হৃদয়ে ধাক্কা দেয়।

৫১ বছরের জীবন পেয়েছিলেন ঋত্বিক। এর মধ্যে কর্মজীবন বলতে গেলে আড়াই দশক। এটুকু সময়ে তিনি বানিয়েছেন আটটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। স্বল্পদৈর্ঘ্য, তথ্যচিত্র মিলিয়ে আরো খান দশেক ছবি। তাতেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ নির্মাতাদের একজন হয়ে উঠেছেন তিনি।

যিনি ভেবেছেন, ভাবিয়েছেন...

ঋত্বিক স্মরণে যত আয়োজন

রবিবার সন্ধ্যায় ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঋত্বিক কুমার ঘটক ও প্রতীতি দত্তের [ঋত্বিকের যমজ বোন] জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি। এতে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতার বিখ্যাত ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এর প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান, অভিনেতা আবুল হায়াত, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারসহ অনেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে রয়েছে বিশেষ আয়োজন। এতে নির্মাতাকে নিয়ে আলোচনা করবেন মইনুদ্দিন খালেদ। বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে হবে ঋত্বিকের দুটি কালজয়ী ছবি ‘কোমল গান্ধার’ ও ‘অযান্ত্রিক’-এর প্রদর্শনী। আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত। এ ছাড়া বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে থাকছে বিশেষ সেমিনার “ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্র : মালো জীবন-বাস্তবতার মহাকাব্যিক নির্মাণ।”

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com