সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

প্রোস্টেট ক্যান্সার

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে
  • নিয়মিত পরীক্ষার বিকল্প নেই

    প্রতিবছর সারা বিশ্বে প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ১৫ লাখেরও বেশি পুরুষ, মারা যান প্রায় চার লাখ। পুরুষদের যত ধরনের ক্যান্সার হয় তার মধ্যে এটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। আমাদের দেশেও ক্রমেই বাড়ছে এর প্রাদুর্ভাব। প্রোস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে লিখেছেন অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ মোহাম্মদ ইউসুফ

পুরুষদের এক আতঙ্কের নাম প্রোস্টেট ক্যান্সার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার ৫০০ নতুন প্রোস্টেট ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ৫০০ রোগী এ রোগে মারা যান। বয়স ৫০ বছর পার হলে এ রোগের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে।

কারা ঝুঁকিতে?

বলা যায়, যেসব পুরুষের বয়স ৫০ পেরিয়েছে, তাঁরাই রয়েছেন এই ক্যান্সারের ঝুঁকিতে। এ ছাড়া যেসব কারণে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে—

► পরিবারের কারো প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে।

► স্থূলতা, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের অভ্যাস এবং অলস জীবনযাপন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

 

কেন স্ক্রিনিং জরুরি

প্রোস্টেট ক্যান্সার অনেক সময় নীরবে বাড়তে থাকে। কোনো উপসর্গ থাকে না।

তাই নিয়মিত পরীক্ষা (screening) করা জরুরি।

দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে এটি ধরা যায়—

রক্ত পরীক্ষা (পিএসএ) : রক্তে প্রোস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেনের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্যান্সারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এটি নিয়মিত করা উচিত।

ডিজিটাল রেক্টাল এক্সামিনেশন (ডিআরই) : চিকিৎসক হাতে পরীক্ষা করে প্রোস্টেটের অস্বাভাবিকতা বুঝতে পারেন। বাইরের দেশে ৫০ বছর বয়সের পর স্ক্রিনিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণ

► প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট।

► দুর্বল প্রস্রাবপ্রবাহ।

► ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন, বিশেষ করে রাতে।

► প্রস্রাবের সময় থেমে থেমে যাওয়া।

► প্রস্রাবের পর ড্রিবলিং।

অ্যাডভান্সড স্টেজের লক্ষণ

► প্রস্রাব বা বীর্যের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া।

► প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালা করা।

► কোমর বা পেলভিক ব্যথা।

► হাড়ে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট (যদি ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে)।

► ওজন হ্রাস, ক্ষুধামান্দ্য ও দুর্বলতা।

প্রোস্টেট ক্যান্সার নির্ণয়

► ডিআরই ও পিএসএ রক্ত পরীক্ষা।

► ইমেজিং টেস্ট (TRUS, গজও বা

PSMA PET-CT)|

তবে MRS Prostate পরীক্ষা করা জরুরি।

► বায়োপসি (Prostate biopsy)। নিশ্চিতভাবে ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য এ ছাড়া গ্লিসন স্কোর ও গ্রুপ জানা প্রয়োজন।

চিকিৎসা

প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় প্রচলিত শল্যচিকিৎসার পাশাপাশি রোবটিক সার্জারি, রেডিওথেরাপি ও হরমোন থেরাপি ব্যবহূত হচ্ছে। এতে রোগটি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রোস্টেট ক্যান্সারের বিভিন্ন ধরনের সার্জারি করা হয়; যেমন—রেডিক্যাল প্রোসটেকটমি, রোবটিক সার্জারি ও প্রোসটেকটমি। তবে রোবটিক সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর। এই পদ্ধতিতে ক্ষত ছোট হয়, ব্যথার পরিমাণ কম। তাই দ্রুত সেরে ওঠেন রোগী। দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পাশাপাশি সেক্সুয়াল পারফরম্যান্স ঠিক থাকে। এ ছাড়া আধুনিক রেডিওথেরাপির মাধ্যমেও চিকিৎসা করা হতে পারে।

রেডিওথেরাপি সাধারণত দুইভাবে দেওয়া হয়—আইএমআরটি ও ভিম্যাট। এর মধ্যে আছে এসবিআরটি, যা অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা যায়। তবে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও উন্নত ফল পাওয়ার জন্য প্রোটন বিম থেরাপি সবচেয়ে কার্যকর।

দেশে আধুনিক চিকিৎসা

অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য আগে বিদেশে যেতেন। বাংলাদেশে এখন প্রোস্টেট ক্যান্সারের পরিপূর্ণ চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এসবিআরটি, রোবটিক সার্জারি, কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়লে ভয় নয়, আশার বার্তা আছে—এখন দেশে আধুনিক চিকিৎসা সহজলভ্য।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com