চোখের এমন কিছু রোগ আছে, যার লক্ষণ সহজে ধরা পড়ে না। এমন একটি রোগ ‘হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি’। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাঁদের মধ্যে এই রোগ দেখা যায়।
কেন হয়
চোখের পেছনের সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল স্তরের নাম রেটিনা।এর কাজ আলো গ্রহণ করে সেটিকে স্নায়বিক সংকেতে পরিণত করা।রক্তচাপ দীর্ঘ সময় ধরে বেড়ে থাকলে রেটিনার ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলোর দেয়ালে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যায় এবং দেয়াল মোটা হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে ফেটেও যেতে পারে।
রোগের পর্যায়
প্রাথমিক পর্যায় : রক্তনালি সংকুচিত হয়, তবে দৃষ্টিশক্তিতে বড় পরিবর্তন হয় না।
মধ্যম পর্যায় : রেটিনায় ক্ষুদ্র রক্তপাত, ফোলাভাব ও দাগ দেখা দেয়।
অতি তীব্র পর্যায় : রেটিনায় মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং কখনো দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে হারিয়ে যেতে পারে।
উপসর্গ
প্রথমে রোগের কোনো উপসর্গ না-ও থাকতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিতে পারে কিছু উপসর্গ—
♦ দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া বা বিকৃত দেখা।
♦ চোখে চাপ বা ব্যথা অনুভব।
♦ চোখে ‘ফ্লোটার’ বা ছোট দাগ দেখা।
♦ হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি হ্রাস।
ঝুঁকি
হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথির মূল কারণ হলো দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। এ ছাড়াও রয়েছে আরো কিছু কারণ—
♦ ধূমপান ও ডায়াবেটিস।
♦ স্থূলতা, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ।
♦ মানসিক চাপ।
এসব কারণেও রেটিনার রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নির্ণয় ও চিকিৎসা
ফান্ডোস্কোপি বা রেটিনা পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করা হয়। অনেক সময় ফ্লুরোসিন এনজিওগ্রাফি বা অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি পরীক্ষাও করা হয়ে থাকে।
চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
♦ নিয়মিত রক্তচাপ মাপা ও চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন।
♦ লবণ ও চর্বি কম খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা।
♦ ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা।
♦ পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা।
লেখক : চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল