সহশিল্পীর কাছে শেখেন
গতকাল নতুন একটি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন আইশা। রিফাত মজুমদার রিংকুর নাম ঠিক না হওয়া এ নাটকে আইশার জুটি ইয়াশ রোহান। ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে হচ্ছে শুটিং। চলবে তিন দিন।একটা সময় একক নাটক মানে সর্বোচ্চ দুই দিন শুটিং হতো। শুরুর দিকে আইশাও দুই দিন করে শিডিউল দিতেন। তবে এখন অন্তত তিন দিন শিডিউল দেন, কোনো কোনো সময় চার-পাঁচ দিনও দিতে হয়। আইশা বলেন, ‘সময় বদলেছে।এখন একটা নাটকের শুটিং তিন-চারটা স্পটে হয়। বলতে পারেন চলচ্চিত্রের মতোই বিস্তর আয়োজন থাকে। শুনেছি একটা সময় স্পটে যাওয়ার পর শিল্পীরা পাণ্ডুলিপি পেতেন। এখন তা হয় না।
ম্যাজিক বাউলিয়ানা
আইশা উপস্থাপনা শুরু করেন ২০১৯ সালে। সে বছর ম্যাজিক বাউলিয়ানার অডিশন রাউন্ডের উপস্থাপিকা ছিলেন তিনি। পরে আরো একটি সিজনে উপস্থাপনা করেছিলেন। এবার পুরো রিয়েলিটি শোটাই তিনি উপস্থাপনা করবেন। আজ থেকে প্রতি শুক্র ও শনিবার রাত ৯টায় মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে শোটি। এই শোয়ের অডিশন রাউন্ডে সারা দেশ ঘুরেছেন আইশা। দারুণ অভিজ্ঞতাও হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একেকটা অঞ্চলের মানুষ একেক রকম। তাঁদের ভাষা এবং সংস্কৃতিতে আলাদা ছাপ থাকে। রংপুরের সঙ্গে যেমন চট্টগ্রাম মেলে না তেমন কুষ্টিয়ার সঙ্গে ঢাকারও মিল নেই। এই রিয়েলিটি শোটি করার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। পুরো চার মাসের জার্নি। এটা সব সময় আমার মনে থাকবে।’ অনেকে অভিযোগ করেন, এখন রিয়েলিটি শো থেকে যাঁরা আসছেন বেশির ভাগই হারিয়ে যাচ্ছেন। টিকে থাকতে পারছেন না কেউ। বিষয়টি আইশার নজরেও এসেছে। তিনি বলেন, ‘আগের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে এখনকার প্রেক্ষাপট তো মিলবে না। এখন প্রতিযোগিতা বেড়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেড়েছে। কঠোর অধ্যাবসায় না থাকলে যে কেউ হারিয়ে যাবে। রিয়েলিটি শো থেকে যাঁরা আসেন তাঁরা অনেকটা হঠাৎ করেই তারকাখ্যাতি পেয়ে যান। ভুলে যান চর্চাটা। তাহলে কিভাবে টিকে থাকবে বলেন। আবার অনেকে পরিবারের সমর্থন পান না। ফলে কন্টিনিউ করতে পারেন না। সব দিকই তো দেখতে হবে।’
শেকড়েই শান্তি
প্রসূণ রহমানের ‘শেকড়’ ছবিতে অভিনয় করেছেন আইশা খান। ছবিটি ১৮ অক্টোবর কানাডার টরন্টোর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অব সাউথ এশিয়ায় প্রদর্শিত হয়েছে। প্রবাসী বাঙালিরা ছবিটি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। উৎসবে আইশার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভিসা জটিলতায় যেতে পারেননি। তবে প্রসূণ ভিডিওতে সেদিনের চিত্র আইশাকে দেখিয়েছেন। আইশা বলেন, ‘এই ছবির মাধ্যমে আমার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। ক্যারিয়ারের প্রথম থেকে চেয়েছি এমন একটা ছবিতে অভিনয় করব, যেটা সারা বিশ্বের মানুষ দেখবে। প্রসূণ ভাইয়ার পাঠানো ভিডিওতে দেখলাম, প্রদর্শনী শেষে প্রবাসীরা উঠে দাঁড়িয়ে করতালি দিচ্ছেন। কেউ কেউ কাঁদছেনও। আসলে দেশের কথা কার না মনে পড়ে! প্রবাসীরা সব সময় বাংলাদেশকে, তাঁদের পরিবারকে মিস করে। এই ছবিটি সেই শেকড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়। যখন দেশে প্রদর্শিত হবে দেশের মানুষও পছন্দ করবে। কারণ অনেক পরিবারের সদস্যই দেশের বাইরে থাকেন। তাঁদের প্রতি যে ভালোবাসা সেটাও ছবিতে ফুটে উঠেছে।’