সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

হৃৎপিণ্ডের রক্তনালির রোগ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে
করোনারি আর্টারি ডিজিজ
  • হৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন বাধাপ্রাপ্ত করতে পারে রক্তনালির সমস্যা। সারা বিশ্বে প্রতিবছর লাখো মানুষের মৃত্যুর কারণ এটি। হৃৎপিণ্ডে রক্ত পৌঁছে দেওয়ার মূল ধমনি বা করোনারি আর্টারির সমস্যা ও চিকিৎসা নিয়ে লিখেছেন ডা.মোহাম্মদ রাফিউর রহমান
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে প্রতিবছর প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষ মারা যায়, যা মোট মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে বেশির ভাগ মৃত্যুই ঘটে করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা হার্ট অ্যাটাকের কারণে। তাই বলা যায়, বিশ্বে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ মারা যাওয়ার জন্য করোনারি আর্টারি ডিজিজ দায়ী।

    করোনারি আর্টারি ডিজিজ কী

    হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব রক্তনালির অসুখ করোনারি আর্টারি ডিজিজ।মাংসপেশি দ্বারা গঠিত পাম্প হচ্ছে হৃৎপিণ্ড, দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত সঞ্চালন সচল রাখে এটি। প্রতিটি মাংসপেশি সচল রাখতে প্রয়োজন অক্সিজেন ও পুষ্টি। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক মাত্রায় রক্ত সঞ্চালন। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিগুলো ঠিকঠাক কাজ না করলে এটি বাধাপ্রাপ্ত হয়,        হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা কমে যায়।

    রক্তনালি সংকোচনকেই বলা হয় করোনারি আর্টারি ডিজিজ।লক্ষণ

    প্রাথমিক পর্যায় এনজাইনার ব্যথা সাধারণত অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে তবেই দেখা দেয়। রোগের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অল্প পরিশ্রমেও হতে পারে এনজাইনা। বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে বিশ্রাম নিলে ব্যথা উপশম হয় এবং বুকে ব্যথা না থাকলে ইসিজিতেও তেমন পরিবর্তন দেখা যায় না। যারা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছে, তাদের অনেকেই এনজাইনার ব্যথা অনুভব করে না।

     

    কেন হয় এই রোগ

    এই রোগের কিছু কারণ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে; যেমন—জিনগত প্রভাব। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে জিনগতভাবে এই রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। কিছু ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যেমন—রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা।

     

    রোগ নির্ণয়

    করোনারি আর্টারি ডিজিজ নির্ণয়ের জন্য ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, ইটিটি (ট্রেডমিল টেস্ট) ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা করোনারি এনজিওগ্রাম। এ পরীক্ষায় ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে জানা যায় হার্টের কোন রক্তনালিতে ব্লক হয়েছে, ব্লকেজের অবস্থান ও পরিমাণ কত। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়—ঔষধ, স্টেন্ট (রিং) প্রতিস্থাপন অথবা বাইপাস সার্জারি।

     

    চিকিৎসা

    বাইপাস সার্জারি নিয়ে অনেক রোগী ভয় পায়। এটি সত্য, যেকোনো সার্জারির কিছু ঝুঁকি থাকবেই। তবে এখন বাংলাদেশে হার্ট সার্জারি অনেক উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার রোগীর হার্ট সার্জারি দেশেই হচ্ছে, যদিও প্রয়োজনের তুলনায় সংখ্যাটি এখনো কম। বর্তমানে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে বুকের ভেতর থেকে দুটি ধমনি—লিমা-রিমা (LIMA-RIMA) বা লিমা-রেডিয়াল (LIMA-RADIAL) ব্যবহার করে বাইপাস সার্জারি করা হচ্ছে, যা রোগীদের দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করছে।

    এ ছাড়া মিনিমাল ইনভেসিভ হার্ট সার্জারি এখন বাংলাদেশেও সফলভাবে করা হচ্ছে। এতে ছোট কাটা দিয়ে বুকের এক পাশ দিয়ে অপারেশন করা হয়, যদিও সব রোগীর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। এন্ডোস্কোপিক লেগ ভেইন হারভেস্ট (EVH) পদ্ধতিতেও এখন দেশে এই রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এতে রোগীর পায়ে বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই মাত্র দু-তিনটি ছোট ফুটোর মাধ্যমে বাইপাস সার্জারির জন্য শিরা সংগ্রহ করা হয়।

    বাংলাদেশের অনেক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখন হার্টের সব ধরনের ডায়াগনস্টিক ও ডেফিনিটিভ চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।  হার্ট ডিজিজের জন্য বিদেশে চিকিৎসা নিতে হবে, এমন ধারণা থেকে অনেকেই চিকিৎসার সময় হারিয়ে ফেলে। হৃদরোগের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তাই দেরি না করে দেশেই চিকিৎসা নিন, সুস্থ থাকুন।

     

    লেখক : কনসালট্যান্ট, কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ

    ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com