সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বিশ্বব্যাপী ইউক্যালিপটাসের আবাদ বাড়ছে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে
  • ড. মো. আবুল কাসেম
    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্যালিপটাসের চাষ বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত হওয়ার কারণ হলো এর বর্ধনশীলতা, বিভিন্ন অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং কাঠ, পাল্প, কাগজ ও তেল উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখা। ইউক্যালিপটাস অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয়, কিন্তু এখন বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯০টি দেশের মোট এলাকার ১৫ শতাংশজুড়ে এর আবাদ রয়েছে।

    এই গাছ ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে পরিপক্কতা অর্জন করে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কাঠের গাছ ৪০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কাটার সময় পায়। নির্মাণসামগ্রী কাঠামোগত বিম, খুঁটি, মেঝে ও ডেকিং, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা এবং ছাঁচ নির্মাণ, ইঞ্জিনিয়ারড কাঠের পণ্য, উচ্চমানের আসবাব, কেবিনেট তৈরি, রেলপথ বন্ধন, শিল্প প্যালেট, ভারী নির্মাণ, সামুদ্রিক অ্যাপ্লিকেশনে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

    কাঠ প্রদানের পাশাপাশি ইউক্যালিপটাসের পাতা থেকে তেল, গাম বা রেজিন পাওয়া যায়। বাণিজ্যিকভাবে ইউক্যালিপটাসের তেল তিনটি প্রধান উপায়ে ব্যবহৃত হয় : গন্ধক হিসেবে এগুলো প্রসাধনী, সুগন্ধি, সাবান, ডিটারজেন্ট এবং পশুখাদ্য থেকে শুরু করে কীটনাশক, রং পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পপণ্যে ব্যবহৃত হয়; স্বাদ হিসেবে এগুলো বেকারি পণ্য, ক্যান্ডি, মিষ্টান্ন, মাংস, আচার, কোমল পানীয় এবং অন্য অনেক খাদ্যপণ্যে উপস্থিত থাকে; এবং ওষুধ হিসেবে এগুলো দাঁতের পণ্য এবং বিস্তৃত, কিন্তু ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে এমন ওষুধের গ্রুপে উপস্থিত হয়।

    বাংলাদেশে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি বছরে হেক্টরপ্রতি ১০ ঘনমিটার, অন্যদিকে দেশীয় গাছগুলো দুই থেকে ২.৫ ঘনমিটার কাঠ দিয়ে থাকে।

    ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছের মূলের মাধ্যমে পানি শোষণের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামা বা কৃষিজমির আর্দ্রতা কমে যাওয়ার ধারণা একেবারেই ভিত্তিহীন।কারণ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীতেই নিচে নেমে গেছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সাপ্তাহিক নেচার জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে কূপ থেকে লাখ লাখ লিটার পানি উত্তোলনের ফলে অনেক স্থানে দ্রুত কমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির মজুদ।

    কোনো বৃক্ষের পানি শোষণের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামার এমন কোনো তথ্য দেশ-বিদেশের কোনো গবেষণায় উঠে আসেনি। কিন্তু পৃথিবীর ৯০টি দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ এই গাছটিকে আগ্রাসী হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে। গত ১৫ মে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন-১ অধিশাখা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছ দুটির চারা তৈরি, রোপণ ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ করে। ৮৫ বছর ধরে যে উদ্ভিদ দুটির চাষাবাদ করা হচ্ছে এবং যাদের বাংলাদেশ বন বিভাগ দীর্ঘ সময় গবেষণা করে অবমুক্ত করেছে, সেসব গাছ অনুমানের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ না করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সেস, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগ, গ্রাউন্ড ওয়াটার সার্কেল, ভূগর্ভস্থ পানিবিজ্ঞান দপ্তর ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মঙ্গল হতো। আমি বলছি না যে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণির কোনো বিরূপ প্রভাব পরিবেশের ওপর নেই, কিন্তু এদের চাষাবাদ বন্ধ না করে দেশের স্বার্থে এর ব্যবহারে একটি সীমারেখা টানা যেতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলে (প্রায় ৪৭ হাজার ২০১ বর্গকিলোমিটার, যা মোট ভূমির ৩২ শতাংশ) এই গাছের আবাদ বাড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো কাঠ, কাগজ, তেল ও মধু উৎপাদন করে দেশকে সমৃদ্ধ করা যেতে পারে।

    লেখক : মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com