হাইপারথাইরয়েডিজম
হাইপোথাইরয়েডিজমের উল্টো রোগ হাইপারথাইরয়েডিজম। এ ক্ষেত্রে থাইরয়েড হরমোন অতিরিক্ত পরিমাণ তৈরি হয়। এই সমস্যা দেখা দিলে দেহের বিপাকক্রিয়া অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে, দেহের প্রতিটি প্রক্রিয়া অতি দ্রুতগতিতে কাজ করতে থাকে। এর ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রও অতি সক্রিয় হয়ে পড়ে। এর প্রভাবে বেশ কয়েকটি মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন—
উদ্বেগ (Anxiety) ও অস্থিরতা : রোগীরা সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। রাতের ঘুম কমে যায়। হৃৎকম্পন অনুভব করেন,
হৃত্স্পন্দন দ্রুত হতে থাকে।
ইরিটেবিলিটি ও মুড সুইং : অল্পতেই হুট করে কারণ ছাড়াই রেগে যাওয়া বা কান্না করা, আবেগ অতিরিক্ত ওঠানামা করা হাইপারথাইরয়েডিজমের সাধারণ উপসর্গ।
সাইকোসিস বা বিভ্রান্তি : তীব্র হাইপারথাইরয়েড অবস্থায় কখনো কখনো থাইরয়েড সাইকোসিস দেখা যায়, যেখানে রোগী বিভ্রম বা হ্যালুসিনেশনে ভোগেন।
অ্যান্টিথাইরয়েড ড্রাগ, রেডিওআয়োডিন বা সার্জারির মতো চিকিৎসা শুরু করার পর এই মানসিক উপসর্গগুলো সাধারণত কমে যায়। তবে মানসিক কাউন্সেলিং ও অন্যান্য থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা
মানসিক উপসর্গ দেখা দিলে সেটি থাইরয়েড হরমোনজনিত কি না জানা জরুরি। পাশাপাশি চাই সঠিক চিকিৎসা। থাইরয়েডের চিকিৎসার পাশাপাশি তাই মানসিক চিকিৎসারও প্রয়োজন।
উদ্বেগ বা বিষণ্নতা দেখা দিলে অবশ্যই থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করাতে হবে।
থাইরয়েডের সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি মনোচিকিৎসা ও কাউন্সেলিং প্রয়োজন।
প্রয়োজনে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
পরিবার ও সামাজিক সহায়তা রোগীর পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সবিশেষ থাইরয়েড রোগ শুধু শারীরিক নয়, এটি একটি মন ও দেহের রোগ। তাই চিকিৎসকদের উচিত প্রতিটি থাইরয়েড রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন করা, যাতে রোগী পূর্ণাঙ্গ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ফিরে পান।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক
এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়