সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

যত্নে নিয়ন্ত্রণে থাকে ডায়াবেটিস

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে
  • ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। প্রতিবছর বিশ্বে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস কেন হয়, এর প্রতিকার ও চিকিৎসায় করণীয় জানাচ্ছেন ডা. মোহনা জামান
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বিশ্বজুড়ে ৪২ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। মাত্র ৩০ বছর আগেও ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা ছিল চার গুণ কম। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন যেকোনো ব্যক্তি, এ রোগটির জটিলতা থেকে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী রোগ। এ ছাড়া ডায়াবেটিসের কারণে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে, নষ্ট হয়ে যেতে পারে কিডনি এবং অনেক সময় ডায়াবেটিস গ্যাংগ্রিনের কারণে শরীরের নিম্নাঙ্গ কেটেও ফেলতে হতে পারে।

মানবদেহের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে শর্করা ও চিনি (গ্লুকোজ)। কিন্তু দেহের কোষগুলো সরাসরি শর্করা ব্যবহার করতে পারে না। তাই পরিপাকতন্ত্রের কাজ খাদ্যের শর্করাকে ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করা। শরীরে যাতে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত না হয়ে যায় সে জন্য অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয়।

দেহের কোষগুলোকে চিনি গ্রহণ করার নির্দেশনা দেয় সেটি। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা থাকে নিয়ন্ত্রণে। যদি কোনো কারণে দেহে ঠিকমতো ইনসুলিন তৈরি না হয়, অথবা সেটি ঠিকমতো কাজ না করে তখন দেখা দেয় ডায়াবেটিস। এর ফলে রক্তের মধ্যে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাবে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দেখা দেয় নানাবিধ জটিলতা।ডায়াবেটিসের উপসর্গ

ডায়াবেটিস হলে সবচেয়ে বেশি যেসব উপসর্গ দেখা যায়, এর মধ্যে রয়েছে—

► ঘন ঘন তীব্র তৃষ্ণা পাওয়া

► অস্বাভাবিক ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।

বিশেষত রাতের বেলা►  দেহে মাত্রাতিরিক্ত ক্লান্তি

►  কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া

► প্রদাহজনিত রোগে বারবার আক্রান্ত হওয়া

►  দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া

►  শরীরের কোথাও কেটে গেলে তা শুকাতে দেরি হওয়া।

 

ডায়াবেটিসের ধরন

টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের লক্ষণ শৈশব থেকেই দেখা দিতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সেটি হয়ে ওঠে আরো জটিল। অন্যদিকে বয়স ৪০ বছর পার হওয়ার পর থেকে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে দক্ষিণ এশিয়ার লোকজনের মধ্যে এই ঝুঁকি তৈরি হয় তাদের ২৫ বছর বয়স হওয়ার পর থেকেই। যাদের মা-বাবা, ভাই-বোনের ডায়াবেটিস আছে, অথবা যাদের দেহে অতিরিক্ত ওজন রয়েছে, তাদের মধ্যে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়, আফ্রো-ক্যারিবিয়ান অথবা কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি থাকে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ

ডায়াবেটিস যদিও জেনেটিক ও জীবনযাপনের ধরনের ওপর নির্ভরশীল, এর পরও চেষ্টা করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব। সে জন্য প্রয়োজন খাবার গ্রহণের বিষয়ে বিশেষভাবে সচেতন থাকা। পাশাপাশি নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন বাদ দিয়ে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে।

►  প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।

►  সাদা আটার রুটির পরিবর্তে খেতে হবে ভুসিওয়ালা আটার রুটি। এটাই প্রথম ধাপ।

►  এড়িয়ে চলতে হবে ফাস্ট ফুড, সাদা পাস্তা,  পেস্ট্রি, কোমল পানীয়, চিনিজাতীয় পানীয়, মিষ্টি ইত্যাদি।

►  খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার। এর মধ্যে রয়েছে শাক-সবজি, ফল, শিমজাতীয় সবজি এবং মোটা দানার খাদ্যশস্য।

►  স্বাস্থ্যকর তেল ও বাদাম খাওয়াও ভালো।

►  ওমেগা থ্রি তেল আছে যেসব মাছে সেগুলো বেশি খেতে হবে। যেমন—সারডিন, স্যামন ও ম্যাকেরেল।

►  একবেলা পেটভরে না খেয়ে পরিমাণে অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে খাওয়া উচিত।

►  শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করার মাধ্যমে রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে রাখা সম্ভব। প্রতি সপ্তাহে আড়াই ঘণ্টার মতো ব্যায়াম করা দরকার। দ্রুত হাঁটা এবং সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার মতো সহজ শরীরচর্চাই যথেষ্ট।

► ওজন কম রাখলেও চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ওজন ধীরে ধীরে কমাতে হবে। সপ্তাহে আধা কেজি থেকে এক কেজি পর্যন্ত।

►  ধূমপান পরিহার করাও জরুরি। পাশাপাশি নজর রাখতে হবে দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর। এটি বেড়ে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিসের জটিলতা

রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি হলে রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তখন বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বাধাপ্রাপ্ত হয়। রক্তের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হলে স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ডায়াবেটিস থেকে হতে পারে গ্লকোমা। এর প্রভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে হতে পারে। অতিরিক্ত গ্লুকোজ থেকে বারবার হতে পারে ইনফেকশন। এ ছাড়া রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করে। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির পেছনে একটি বড় কারণ ডায়াবেটিস। তাই সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকা অত্যন্ত জরুরি।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক

এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ)

ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com