তাজমহল পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর স্থাপনা—ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে পরিচিত হলেও, এর সাথে জড়িয়ে আছে বহু “গোপন রহস্য” ও অজানা কাহিনি। নিচে তাজমহলের কিছু বিখ্যাত ও আলোচিত রহস্য তুলে ধরা হলো
অনেক ইতিহাসবিদের মতে, তাজমহলের স্থপতি ছিলেন উস্তাদ আহমদ লাহৌরি, কিন্তু কেউ কেউ বলেন, এতে পারস্য, তুরস্ক ও ভারতীয় স্থাপত্যশৈলীর মিলন ঘটেছে এমন নিখুঁতভাবে যে, মূল নকশাকার কে—তা স্পষ্ট নয়।
জনশ্রুতি আছে, শাহজাহান চেয়েছিলেন নিজের জন্য একটি কালো তাজমহল (Black Taj Mahal) যমুনার ওপারে বানাতে, যাতে দুটি তাজমহল নদীর দুই পাশে মুখোমুখি থাকে। যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি—তবুও এটি এখনো এক “রহস্যময় কিংবদন্তি।”
তাজমহলের নিচতলা ও বেসমেন্টে কিছু ঘর বহু বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ (ASI) নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের কারণ দেখালেও অনেকে বিশ্বাস করেন সেখানে গোপন কক্ষ বা গুপ্তধন, এমনকি পুরোনো মন্দিরের নিদর্শন লুকিয়ে থাকতে পারে।
কিছু বিতর্কিত মতামত অনুযায়ী, তাজমহল আসলে একটি প্রাচীন শিবমন্দির ছিল, যার নাম ছিল “তেজো মহালয়।”
তবে ইতিহাসবিদরা এই তত্ত্বকে অভিজ্ঞানহীন ও মিথ্যা বলে ঘোষণা করেছেন। তাজমহল যে শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে নির্মাণ করেছিলেন, সেটিই প্রমাণিত সত্য।
তাজমহল দিনের আলোর সাথে তার রঙ পরিবর্তন করে — ভোরে গোলাপি, দুপুরে দুধসাদা, আর রাতে চাঁদের আলোয় রুপালি ঝলক। এই রহস্যময় আলোছায়ার পরিবর্তন এর পাথর ও মার্বেলের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে, যা আজও স্থপতি ও বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে।
মূল তাজমহলে বসানো ছিল রুবি, জাফরান, মাণিক ও হীরা—মমতাজের সমাধির চারপাশে। পরবর্তীতে ইংরেজ শাসনামলে এগুলোর অনেকটাই লুট হয়ে যায়। কিন্তু ঠিক কতটা রত্ন কোথায় গেল, তা আজও অজানা।
তাজমহল শুধু এক প্রেমের স্মারক নয়; এটি ইতিহাস, শিল্প, ধর্ম ও রহস্যের মিশেল। সময়ের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে এমন অনেক প্রশ্ন, যার উত্তর আজও মেলেনি—আর এ কারণেই তাজমহল আজও বিশ্বের কাছে এক চিরন্তন রহস্য।