সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শিশু বৃদ্ধ প্রয়োজনীয় খাদ্য ডিম ড. মো. ইলিয়াস হোসেন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে
ডিম অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমপন্ন একটি খাবার। ডিমকে প্রোটিন ও পুষ্টি উপাদানের পাওয়ার হাউস বলা হয়। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের জন্য ডিম একটি অত্যন্ত উপাদেয় খাবার। ‘ডিমে আছে প্রোটিন, ডিম খাই প্রতিদিন’—এই স্লোগান সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এ বছরও অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৫।

এ ছাড়া ডিমে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, কে, থিয়ামিন, রিবোফ্লাভিন, বায়োটিন, নিয়াসিন, বি৬, বি১২, ফলিক এসিড, কোলিন, প্যান্টোথেনিক এসিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন এবং চর্বি, যেমন—স্যাচুরেটেড ফ্যাট (১.৬৯ গ্রাম), পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (০.৯৫ গ্রাম), মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (১.৯৫ গ্রাম), ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড (৩৭.০ মিগ্রা), ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড (৫৭৪ মিগ্রা)। ডিমের মধ্যে কিছু খনিজ পদার্থ; যেমন—ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, জিংক, সেলেনিয়াম ইত্যাদি থাকে। ডিমে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে, যা শরীরের জন্য খুবই দরকারি।খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন ধরে ডিমের কোলেস্টেরলকে হৃদরোগের ঝুঁকির কারণ হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে ডিমের কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে না। দুই লাখ ৬৩ হাজার ৭৩৮ জনের ওপর করা ১৭টি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ডিম খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির কোনো সম্পর্ক নেই।

কোলিন এমন একটি পুষ্টি উপাদান, যার সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষ কম জানে, তবু এটি একটি অবিশ্বাস্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ এবং প্রায়ই বি ভিটামিনের সঙ্গে গ্রুপ করা হয়। কোলিন কোষের ঝিল্লি তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এবং মস্তিষ্কে সংকেত অণু তৈরিতে ভূমিকা রাখে। কোলিনের অভাবের লক্ষণগুলো গুরুতর। তাই ভাগ্যক্রমে এটি বিরল। পুরো ডিম কোলিনের একটি চমৎকার উৎস। একটি একক ডিমের মধ্যে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান ১০০ মিলিগ্রামের বেশি থাকে।

ডিমের কুসুম এমন এক খাবার, যা প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি ধারণ করে। দুটি ডিম আপনার দৈনিক ভিটামিন ডি-এর চাহিদার ৮২ শতাংশ প্রদান করে। ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা একে সুস্থ হাড় ও দাঁতের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অপরিহার্য করে তোলে।

ডিম একটি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার এবং প্রোটিন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সন্তোষজনক ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস। ডিম সাটাইটি ইনডেক্স নামে একটি স্কেলে উচ্চ স্কোর করে, যা পরিপূর্ণতার অনুভূতি সৃষ্টি করতে এবং পরবর্তী সময়ে ক্যালরি গ্রহণ কমাতে সহায়তা করে। ডিম অত্যন্ত সন্তোষজনকভাবে ক্যালরি গ্রহণ কমাতে পারে। নিয়মিত ডিম খাওয়া ওজন কমাতে সাহায্য করে।

ডিম বয়স্ক লোকদের বিভিন্ন পুষ্টি সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। ডিমে লিউসিন নামক অ্যামিনো এসিড থাকে, যা বয়স্ক লোকদের পেশির কার্যকারিতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ডিমে ভিটামিন ডি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখে।

ডিমের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চোখের সুস্থতা রক্ষায় সাহায্য করে। ডিমে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা চোখের স্বাস্থ্য, রেটিনা ফাংশন এবং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অবক্ষয়জনিত দৃষ্টি প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

সুষম খাদ্য মানসিক চাপ কমানো এবং উন্নত মানসিক স্বাস্থ্যচর্চায় ভূমিকা রাখতে পারে। সেরোটোনিন ট্রিপটোফান থেকে সংশ্লেষিত হয়ে স্নায়ুতন্ত্রের চাপ ও উদ্বেগ কমাতে পারে। ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ অত্যন্ত ট্রিপটোফানে সমৃদ্ধ। খাদ্য হিসেবে নিয়মিত ডিম গ্রহণে, ডিমে বিদ্যমান ভিটামিন বি২, বি১২, কোলিন, আয়রন ও ট্রিপটোফানের সংমিশ্রণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ঝুঁকি ও বিষণ্নতার লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে এবং স্বাভাবিকভাবে ঘুমের সহায়ক।

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com