সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

অপুর দুই দশক পূর্ন হচ্ছে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

কাল বাদে পরশু [১১ অক্টোবর] অপু বিশ্বাসের জন্মদিন। আবার আগামী মাসেই [৫ নভেম্বর] চলচ্চিত্রজীবনের দুই দশক পূর্ণ হবে তাঁর। দুটি উপলক্ষ হাতে নিয়ে কামরুল ইসলামের কাছে কথার ঝাঁপি খুলেছেন অভিনেত্রী

এক কিশোরী। ইউনিফর্ম পরে রোজ বিদ্যালয়ে যায়। পড়ার ফাঁকে একটুখানি নাচের চর্চা। সেই কিশোরীর ডাকনাম অপু।তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে চান আজকের অপু বিশ্বাস! হ্যাঁ, ভক্তদের প্রিয় ‘ঢালিউড কুইন’-এর কথাই বলছি। প্রসঙ্গটা এলো এভাবে, যদি আজকের তারকা অপু সেই ছোট্টবেলার কিশোরী অপুকে কোনো পরামর্শ দিতে চায়, সেটা কী হবে? জবাবটা তিনি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিলেন, ‘আগের অপু এত ভালো ছিল! সে-ই বরং এখনকার অপুকে পরামর্শ দিতে পারে। বলতে পারে, কেন নায়িকা হলে? এত সুন্দর জীবন হতে পারত।’
এ কী! একজন সফল নায়িকার মুখে এমন কথা! ব্যাখ্যাও অবশ্য দিলেন অপু, ‘এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ ভাইরাল হতে চায়।আর এই ভাইরাল হতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনটা আর থাকে না। অথচ মানসিক প্রশান্তির জন্য আমাদের স্বাভাবিক জীবন খুব জরুরি। সে জন্যই কিশোরী অপু এই অপুকে পরামর্শ দিতে পারে—পিসফুল লাইফ ইজ ভেরি ইম্পরট্যান্ট।’
তারকাজীবন মেন্টেইন করা চাট্টিখানি কথা নয়।এর মধ্যে আবার সন্তান, সংসার ও ব্যবসা—কত কিছু সামলে চলতে হয়। প্রশান্তির প্রয়োজনীয়তা তাঁর চেয়ে ভালো কে বুঝবে! এই বোধের জায়গা থেকেই পরের আলাপে যাওয়া। ৫ নভেম্বর চলচ্চিত্রে তাঁর ২০ বছর পূর্ণ হবে। ২০০৫ সালের এই দিনেই মুক্তি পেয়েছিল প্রথম ছবি ‘কাল সকালে’। দীর্ঘ দুই দশকের পথচলায় অভিনেত্রী অপু কতটা পরিণত হয়েছেন? জবাবে শিল্পীসুলভ বিনয়টা টের পাওয়া গেল, ‘এখনো মনে হয়, অনেক শেখার বাকি।
কথাগুলো যখন বলছিলেন অপু, তখন পুত্র আব্রাম খান জয় এসে মায়ের কাছে নানা আবদার করছে। ফলে বলার ছন্দটাও কেটে যাচ্ছিল। ছেলেকে সামলে আবার আলাপে মনোযোগ দিলেন। ব্যক্তি অপুর পরিণত হওয়ার তরতাজা উদাহরণ যেন এটাই। বললেন, ‘এটা আমার লাইফের একটা পার্ট; মাতৃত্বের এই বিষয়গুলো খুব উপভোগ করি। ব্যক্তিজীবন নিয়ে কী বলব? গত কয়েক বছরে আমাকে যেভাবে অসম্মান করা হয়েছে, তা কখনো কাম্য নয়। এর পেছনে আমার কোনো হাত নেই। একজন চিত্রনায়িকা হিসেবে যতটা সুন্দর জীবনযাপন করা যায়, আমি সে চেষ্টাটা করেছি। ব্যক্তিজীবনের সমস্যা সামনে আনার চেষ্টা করিনি। তবে গত কয়েক বছরে কিছু মহল আমার ব্যক্তিজীবন নিয়ে যে অসম্মান করেছে, সেটা সত্যিই দুঃখজনক। যাইহোক, আমি নিজেকে কারো সঙ্গে কম্পেয়ার করি না। কারণ আমার তুলনা আমার সঙ্গেই। সম্মান অনেক কষ্টে অর্জন করেছি, ধরে রাখার চেষ্টা করব। ব্যক্তিত্ব নিয়ে কখনো কম্প্রোমাইজ করব না।’মায়ের উৎসাহে নৃত্যের চর্চা শুরু করেছিলেন অপু। কিন্তু চলচ্চিত্রের নায়িকা হবেন, এত দূর আসবেন, এসব কখনো ভাবেননি। তাঁর ভাষ্য, “ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতিচর্চার মধ্যেই ছিলাম। এরপর নায়িকা হওয়া, কতটা কী হতে পেরেছি, জানি না। মানুষ বলে, বড় হয়েছি। কিন্তু আমার কাছে এখনো মনে হয়, আমি ঘরপ্রিয় খুব শুভ্র একটা মেয়ে। মায়ের ইচ্ছা ছিল, আমার ছবি দিয়ে পোস্টার হবে, বিভিন্ন জায়গায় সে পোস্টার দেখা যাবে। কিন্তু সেটা যে পুরো দেশে ছড়িয়ে যাবে, সেটা মা-ও ভাবেননি। এর জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি মায়ের প্রতিও অশেষ কৃতজ্ঞতা, তিনি সব সময় আমার পাশে ছিলেন। এ ছাড়া ডিপজল ভাই [‘কোটি টাকার কাবিন’-এর প্রযোজক], আমার গুরু এফ আই মানিক [‘কোটি টাকার কাবিন’-এর পরিচালক] এবং ইন্ডাস্ট্রির সব সহকর্মী ও কলাকুশলীর প্রতিও ঋণী।’

দ্বিতীয় ছবি ‘কোটি টাকার কাবিন’ [২০০৬] দিয়েই তারকা হয়ে ওঠেন অপু। পরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু কোনো ছবির ক্ষেত্রে প্রথম মনে হয়েছে, অভিনয়টা পরিপূর্ণ হলো? উত্তরের জন্য ভাবতে হয়নি, মুহূর্তেই বলে দিলেন চাষী নজরুল ইসলামের ‘দেবদাস’-এর কথা। “চরিত্রের জন্য আমি বরাবরই কাদামাটি। পরিচালক আমাকে যেভাবে উপস্থাপন করতে চান, সেভাবেই চেষ্টা করি। ‘দেবদাস’-এ চাষী আঙ্কেল আমাকে কাদামাটি থেকে গড়ে তুলেছিলেন। মনে আছে, পার্বতীর বিভিন্ন কান্নার দৃশ্যে আমার গ্লিসারিন ব্যবহার করতে হয়নি। চরিত্রের সঙ্গে এতটাই মিশে গিয়েছিলাম। এ রকম আরেকটা ছবির কথাও বলতে চাই—‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’। এটাতে অভিনয় করেও তৃপ্তি পেয়েছি”-বললেন অপু।

দুই দশকের ক্যারিয়ার অপুর। এর মধ্যে দ্বিতীয় দশকে বড় পর্দায় তাঁর তেমন উপস্থিতি নেই। কয়েকটি ছবি এসেছে বটে, কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তিটা ঘটেনি। প্রথম দশকের উজ্জ্বল অপু দ্বিতীয় দশকে এমন ম্লান হয়ে গেল কেন? এর জবাবে ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক অবস্থার দিকেই আঙুল তুললেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারে কিছুটা বাঁক-বদলের কথাও জানালেন। অপুর ভাষ্য, ‘এফডিসিতে ৯টা ফ্লোর ছিল, প্রথম দশকে সেই নয় ফ্লোরে একযোগে আমার ছবির শুটিং হয়েছে। আসলে আমি যখন যে কাজে ফোকাসড থাকি, সেখানে আমার উপস্থিতিই সবার চেয়ে এগিয়ে। ২০০৯ থেকে ২০১৬-এর শুরু পর্যন্ত নায়িকা বলতে অপু বিশ্বাসই ছিল। এরপর তিন বছরের একটা গ্যাপ। সন্তান হয়েছে, আমার শারীরিক পরিবর্তন ঘটেছে। সেখান থেকে ফিট হয়ে ফিরতে হয়েছে। ফিরেই নজর দিয়েছি পাবলিক রিলেশন, ব্র্যান্ড প্রমোশনে। এখন দেখুন, এই সেক্টরে আমার চেয়ে এগিয়ে কেউ আছে?’

তবু ছবির কথা তো থেকেই যায়। সেটা নিয়েও নিজের ব্যাখ্যাটা দিলেন, ‘গত কয়েক বছরে যেসব ছবি সফল হয়েছে, সেসব ছবির নায়ক-নায়িকার তো তিন বছরে কমপক্ষে ৩০টা ছবি আসার কথা। অপু বিশ্বাস তো করেছে। তারা কেন করতে পারেনি, এ প্রশ্নটা করা উচিত। তার মানে অপু বিশ্বাস কাজ করলে দর্শক থেকে শুরু করে সমালোচক, সবার মনোযোগ চলে আসে। ব্যাপারটা এমন, অপু কাজ করলেই ছবি হচ্ছে, না করলে হচ্ছে না।’

বড় পর্দা থেকে কিছুটা সরে গিয়ে অপু এখন প্রচারণামূলক কাজে সময় দিচ্ছেন। পাশাপাশি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। কিন্তু নায়িকা অপুর যে ভাবমূর্তি, সেটার ভ্যালু এখনো চড়া। যেটাকে ‘ভাঙিয়ে’ ফায়দা নিচ্ছে অনেকে। এটাকে অবশ্য নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন না অপু; বরং তাঁর চাওয়া এমনই। যেহেতু পাবলিক রিলেশন সেক্টরে আছেন, তাঁকে ঘিরেই যেন মজমা জমে থাকে। আর যেদিন সিদ্ধান্ত নেবেন, শুধুই নিজের ব্যবসায় মনোযোগী হবেন; তখন থেকে পর্দার মানুষেরা তাঁর ছায়াও দেখবে না।

চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। ইন্ডাস্ট্রির ভালো-মন্দ অনেক কিছুই দেখেছেন। তাঁর পরামর্শের বাড়তি ওজন আছে। সুতরাং যে তরুণী এই মুহূর্তে ভাবছে চলচ্চিত্রের নায়িকা হবে, তাঁর জন্য অপুর পরামর্শ জানা যাক; ‘যে কাজটি করবেন, সেটার ব্যাকগ্রাউন্ড নিশ্চিত করতে হবে। আর দ্বিতীয় কথা, কাজে ফোকাস রাখা। যেটাই করবেন, প্রতি পূর্ণ মনোযোগী থাকতে হবে’—বললেন অপু।

এবার একটু ব্যক্তিজীবনের প্রসঙ্গে আসা যাক। গত কয়েক বছরে অপুর বিয়ে, সংসার, সন্তান, শাকিব খান—বিভিন্ন বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম। বেশির ভাগ সময় চর্চার নৌকা ডুবেছে নেতিবাচক ঝড়ে। কখনো মনে হয় এসব এড়ানো যেত? অপুর জবাব, ‘মনে তো হয়ই। অপু বিশ্বাসের শুরুর দিকে তো ব্যক্তিগত কোনো চর্চাই ছিল না। একটা নির্দিষ্ট সময় পর থেকে শুরু হয়েছে। যে প্রসঙ্গ থেকে শুরু হয়েছে, সেটা আমি চাইলেও হয়তো এড়ানো সম্ভব ছিল না। কারণ এই চর্চার সঙ্গে মিডিয়ার মানুষরাও রিলেটেড। তবু মাঝে মাঝেই মনে হয়, আমরাও তো মানুষ, আমাদেরও পরিবার আছে, মানসিক শান্তির দরকার আছে। দর্শককে আমি কাজ দিয়েছি, সেটা নিয়ে চর্চাটা হোক। কিন্তু যেটা দিতে চাইনি, সেটা নিয়ে এত চর্চা আসলে বিরক্তের কারণ। যাইহোক, এটার জন্য নিয়তিকে দোষ দেব। হয়তো আমার প্রাপ্যই ছিল এসব।’

মানসিক প্রশান্তির কথাটা বারবার উঠে আসছে। এ বিষয়ে মানুষের সচেতনতা ক্রমে বাড়ছে। এত কাজ, এত চর্চার ভিড়ে নিজেকে শান্ত রাখার জন্য চেনা পথেই হাঁটেন অপু। সৃষ্টিকর্তার কাছে সঁপে দেন নিজেকে। ওই যে দিনভর ঘোরাঘুরি শেষে কাপড়ে ময়লা-দাগ লাগে, ধোয়ার পর সেটা মুছে যায়, পরিষ্কার হয়ে যায়। অপু মনে করেন, মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তেমনই। যত অবসাদ, অশান্তি থাকুক না কেন, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করলে সেই ঝড় থেমে যায়। সেই সঙ্গে অপুর আরেকটা জাদু আছে, নাম জয়। হ্যাঁ, পুত্র জয়ের কথাই বললেন। ছেলের মুখটা দেখলে, তার সঙ্গে খুনসুটি করলে জগতের সব জটিলতা মুহূর্তেই ভুলে যান অপু।

আবার একটু কাজের কথায় ফেরা যাক। অনেক দিন তো হয়ে গেল, নতুন ছবির খবর নেই। অভিনয়টা কি ছেড়েই দিলেন? না, আশার বাণী পাওয়া গেল তাঁর কণ্ঠে। জানালেন, নতুন ছবিতে যুক্ত হয়েছেন। শিগগির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে সেগুলোর ঘোষণা আসবে। অপু বলেন, ‘এখন তো অনেক ভেবেচিন্তে পা ফেলতে হয়। আমার কাছে অনেক ছবির প্রস্তাব আসে। কিন্তু চাইলেই যেকোনো ছবি করা তো সম্ভব না।’ আর প্রযোজনা? ‘লালশাড়ি’ [২০২৩] দিয়ে ছবি প্রযোজনা শুরু করেছিলেন। সেদিকে আপাতত আর ফিরছেন না। অভিনয় আর নিজের ব্যবসার দিকেই মনোযোগ রাখতে চান।

আলাপটা শেষ করা দরকার। কী দিয়ে করা যায়? যেহেতু তিনি বিশ্বাস, বিশ্বাসের কথা দিয়েই হোক। অপু কিসে বিশ্বাস করেন, ভাগ্য নাকি কাজে? অভিনেত্রীর সোজা উত্তর, ‘কাজে’।

অপুর চোখে নিজের সেরা ৫ ছবি

দেখতে দেখতেই কুড়ি

কোটি টাকার কাবিন [২০০৬]

দেখতে দেখতেই কুড়ি

দেবদাস [২০১৩]

দেখতে দেখতেই কুড়ি

এক বুক ভালোবাসা [২০০৮]

দেখতে দেখতেই কুড়ি

কে আপন কে পর [২০১১]

দেখতে দেখতেই কুড়ি

পিতা-মাতার আমানত [২০০৮]

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com