করোনাভাইরাসের মতোই ভয়াবহ বিপদ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ডেঙ্গু। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪২ জন। মৃত্যু ও আক্রান্তের এ সংখ্যা এক দিনে চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সেবা নিয়েছে ৪৯ হাজার ৯০৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য ওই ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে শুধু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেই ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১ জন করে মারা গেছে। এক দিনে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২০১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৮, বরিশাল বিভাগে ১৯৫, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১২১, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৪, রাজশাহী বিভাগে ৮২, খুলনা বিভাগে ৭২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪১, রংপুর বিভাগে ২৩ এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে রবিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২১২ জন মারা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০২ জন মারা গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ৩২ জন ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৮, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ১০, ময়মনসিংহ বিভাগে সাত, খুলনা বিভাগে ৫ এবং ঢাকা বিভাগে ৩ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মশা নিধনে ওষুধ ছিটানোর তৎপরতা শিথিল হওয়ায় ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। স্থানীয় সরকার না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষায় দেশে কোনো কর্তৃপক্ষ নেই বললেই চলে। সুশীল আর আমলানির্ভর শাসনের সুযোগে ডেঙ্গু আবির্ভূত হয়েছে মরণব্যাধি হিসেবে। জনমনে আতঙ্ক এমনভাবেই ছড়িয়ে পড়েছে যে সামান্য মৌসুমি জ্বর হলেই মানুষ ছুটে যাচ্ছে চিকিৎসকের কাছে। তারা ঢালাওভাবে তাদের পাঠাচ্ছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। ডেঙ্গুর প্রকোপ সত্ত্বেও সরকারের নির্বিকার ভূমিকা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। বঞ্চনার কষ্টে ভুগছে সাধারণ মানুষ। যাচ্ছেতাই এ অবস্থার অবসান কাম্য।