বাংলাদেশে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু এই ইতিবাচক অগ্রগতির আড়ালে রয়েছে ভিন্ন এক বাস্তবতা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ এক দশকে ২৭ থেকে বেড়ে প্রায় ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে। কিন্তু এই অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে গভীর বৈষম্যের পরিহাস।
বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, মাসিক গড় আয়ের ক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিক যেখানে প্রায় ১৬ হাজার টাকা পান, সেখানে নারীরা পান মাত্র ১২ হাজার ৬০০ টাকা, যা পুরুষের আয়ের তুলনায় প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কম। ‘একই কাজের বিনিময়ে সমান মজুরি’র আইন দেশে থাকলেও এর বাস্তবে কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই। তৈরি পোশাক খাত, যা নারীর কর্মসংস্থানের বৃহত্তম ক্ষেত্র, সেখানেও ২২ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতনবৈষম্য সুস্পষ্ট।
নারী সহায়ক নীতি ও নারী সংবেদনশীল সমাজ গঠনের মাধ্যমে উচ্চপদে নারীর কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করা জরুরি। শ্রমশক্তিতে নারীর বিশাল অংশগ্রহণকে প্রকৃত অর্থে দেশের অগ্রগতিতে পরিণত করতে হলে সমান মজুরির আইনটির কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের অর্থনৈতিক মূল্যকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
সমস্যার মূলে রয়েছে বাস্তবায়নের ঘাটতি ও সামাজিক মানসিকতা। ফলে আইন ও নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও বাস্তব পরিবর্তন ঘটছে না। সমান শ্রমের ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিত করা কেবল নারীর অধিকার নয়, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেরও পূর্বশর্ত।