সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মাতৃরূপে কুমারীপূজা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

তারাপদ আচার্য্য

শারদীয় দুর্গোৎসবের এক বর্ণাঢ্য পর্ব কুমারীপূজা। তান্ত্রিকমতে, কুমারীপূজা চলে আসছে স্মরণাতীত কাল থেকে। কিন্তু এই পূজার ব্যাপক পরিচিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল না। স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠে কুমারীপূজার আয়োজন করার পর থেকে এই পূজা নিয়ে ভক্তদের জানার আগ্রহ বাড়তে থাকে।পূজার সাংস্কৃতিক আবহ সম্পর্কে যাদের আগ্রহ বেশি তারাও কুমারীপূজা সম্পর্কে হয়ে ওঠে আগ্রহী। বর্তমান বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালসহ বিশ্বের অনেক রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের পূজামণ্ডপগুলোতে কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়।সনাতন ধর্মের অন্যতম গ্রন্থ বেদ, পুরাণ তন্ত্র ও ভিন্ন ভিন্ন দার্শনিক শাস্ত্রগ্রন্থসমূহে যত প্রকার সাধনা, অনুভব ও অভিজ্ঞতা আছে; হিন্দু ধর্ম তার যুগ-যুগান্তরব্যাপী তত্ত্বান্বেষণের সুমহান ইতিহাসে যত দেব-দেবীর সাধনার প্রবর্তন করেছে দুর্গাপূজায় তার পূর্ণ সমন্বয় ঘটেছে। এই সমন্বিত দুর্গাপূজার অঙ্গপূজারূপে কুমারীপূজা আমাদের কাছে এক গভীর তত্ত্বের দ্বারোদ্ঘাটন করেছে।

বৃহদ্ধর্মপুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী দেবতাদের স্তবে প্রসন্ন হয়ে দেবী চণ্ডিকা কুমারী কন্যারূপে দেবতাদের সামনে দেখা দিয়েছিলেন। দেবীপূরাণে এ বিষয়ে উল্লেখ আছে। দেবী ভগবতী কুমারীরূপেই আখ্যায়িত। তাঁর কুমারিত্ব মানবীভাব বোঝা খুবই কঠিন। কারণ তিনি দেবতাদের তেজ থেকে সৃষ্টি। শিবের ঘরনি হয়েও তিনি কুমারী।

পণ্ডিত যোগেশচন্দ্র বিদ্যানিধি বলেন, যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ কুমারীকে ভগবতীর অংশ বলেছেন। শ্রীমা সারদাদেবীকে ষোড়শীরূপে পূজা করা সেই ভাবেরই অংশ এবং এভাবে সাধনার শেষে শ্রীরামকৃষ্ণ ষোড়শী জগন্মাতার শ্রীচরণে তাঁর সর্ববিধ সাধনার ফল সমর্পণ করেন।

কুমারী সম্বন্ধে এসব প্রশস্তির দ্বারা এটাই বোঝা যায়, কুমারী দেবী ভগবতীর অতি সাত্ত্বিক রূপ। জগন্মাতা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্ত্রী হয়েও চিরকুমারী।

কুমারীপূজার দার্শনিক তত্ত্ব হলো, নারীতে পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ লাভ। নারী জাতিতে পরমেশ্বরীর মহিমা ও মাধুর্যের উপলব্ধি ভাবুক সাধকের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা। আর এই অভিজ্ঞতায় রামকৃষ্ণদেব অনন্যতা প্রকাশ করেছেন তাঁর সহধর্মিণী শ্রীমা সারদাদেবীর দেহাবলম্বনে ফলহারণী কালিকা পূজার নিশীথ ধামে ষোড়শী পূজার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এই সাধনার উপলব্ধিতে সাধকের কাছে সমগ্র বিশ্ব নারীমূর্তি পরিগ্রহ করে।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রম, দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com