তারাপদ আচার্য্য
পণ্ডিত যোগেশচন্দ্র বিদ্যানিধি বলেন, যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ কুমারীকে ভগবতীর অংশ বলেছেন। শ্রীমা সারদাদেবীকে ষোড়শীরূপে পূজা করা সেই ভাবেরই অংশ এবং এভাবে সাধনার শেষে শ্রীরামকৃষ্ণ ষোড়শী জগন্মাতার শ্রীচরণে তাঁর সর্ববিধ সাধনার ফল সমর্পণ করেন।
কুমারী সম্বন্ধে এসব প্রশস্তির দ্বারা এটাই বোঝা যায়, কুমারী দেবী ভগবতীর অতি সাত্ত্বিক রূপ। জগন্মাতা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্ত্রী হয়েও চিরকুমারী।
কুমারীপূজার দার্শনিক তত্ত্ব হলো, নারীতে পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ লাভ। নারী জাতিতে পরমেশ্বরীর মহিমা ও মাধুর্যের উপলব্ধি ভাবুক সাধকের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা। আর এই অভিজ্ঞতায় রামকৃষ্ণদেব অনন্যতা প্রকাশ করেছেন তাঁর সহধর্মিণী শ্রীমা সারদাদেবীর দেহাবলম্বনে ফলহারণী কালিকা পূজার নিশীথ ধামে ষোড়শী পূজার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এই সাধনার উপলব্ধিতে সাধকের কাছে সমগ্র বিশ্ব নারীমূর্তি পরিগ্রহ করে।
লেখক : সাধারণ সম্পাদক, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রম, দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ