তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল অতুলনীয়। তিনি কখনো শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোরতা প্রদর্শন করেননি।সাহাবি মুয়াবিয়া ইবন হাকাম (রা.) বলেন, ‘একবার আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে নামাজরত ছিলাম। হঠাৎ এক ব্যক্তি (নামাজের মধ্যে) হাঁচি দিল। প্রতি উত্তরে আমি ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললাম। লোকজন তখন আমার দিকে চোখ তুলে তাকাচ্ছে।
(সুরা : কাহফ, আয়াত : ৬৬)
‘মুসা বলল, আল্লাহ চাইলে আমাকে ধৈর্যশীলই পাবেন, আমি আপনার কোনো নির্দেশই লঙ্ঘন করব না।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৬৯)
ছাত্রের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষা : শিক্ষক শুধু জ্ঞানদানকারী নন, বরং তিনি ছাত্রদের একনিষ্ঠ কল্যাণকামী। শিক্ষকদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে বিষয়টি প্রকাশ পেতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের এ বাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই মানুষ তোমাদের অনুসারী হবে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন দ্বিন শেখার জন্য তোমাদের কাছে আসবে। যখন তারা আসবে, তোমরা তাদের হিতাকাঙ্ক্ষী হবে এবং তাদের সদুপদেশ দেবে।
(তিরমিজি, হাদিস : ২৬৫০)
শিক্ষক পিতৃতুল্য : শিক্ষক ছাত্রদের জন্য শুধু জ্ঞানদানকারী নন, বরং তিনি পিতার মতো দয়ালু, স্নেহশীল ও কল্যাণকামী। নবীজি (সা.) হলেন মোমিনের জন্য পিতৃতুল্য। একজন পিতা যেমন তাঁর সন্তানদের বিভিন্ন আদব-শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়ে থাকেন, ঠিক তেমনই রাসুলুল্লাহ (সা.) মোমিনদের মাসআলা-মাসায়েল, ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা দেন। এমনকি মলমূত্র ত্যাগ এবং টয়লেট নির্বাচনে স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিও তিনি শিক্ষা দিতেন। আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য। তোমাদের আমি দ্বিন শিক্ষা দিয়ে থাকি।’
(আবু দাউদ, হাদিস : ৮)
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষা হলো আল্লাহর এক মহান নিয়ামত, আর শিক্ষক সেই নিয়ামতের বাহক। তাই ছাত্রের কর্তব্য শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করা, আর শিক্ষকের দায়িত্ব ছাত্রকে স্নেহ-মমতায় শিক্ষিত করে তোলা।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়