আরো ছয় দেশ—ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, স্যান ম্যারিনো ও অ্যান্ডোরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে
সমর্থন জোগাড়ে বহুজাতিক সম্মেলন আয়োজন করছে ফ্রান্স ও সৌদি আরব
ফ্রান্স ও সৌদি আরব গতকাল সোমবার ফিলিস্তিনে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে সমর্থন জোগাড়ের লক্ষ্যে এক বহুজাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। অন্তত কয়েক ডজন দেশের নেতারা এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। আশা করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবেন। তবে এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবশ্য এসব স্বীকৃতির প্রায়োগিক মূল্য খুব বেশি নেই। কারণ ফিলিস্তিন জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য নয়, পর্যবেক্ষক মাত্র। তাই অন্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চালানোর ক্ষেত্রেও তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আবার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেও বাইরের দেশগুলো স্বাধীনভাবে তাদের কূটনীতিকদের পাঠাতে পারে না।
বাস্তবতা হচ্ছে, ফিলিস্তিন এমন একটি সত্তা যার অস্তিত্ব আংশিক। এর প্রচুর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে এবং বিদেশে কূটনৈতিক মিশন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলও রয়েছে। তবে এর কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী নেই। এই স্বীকৃতি তাই মূলত একটি শক্তিশালী নৈতিক ও রাজনৈতিক বিবৃতি, যা বাস্তবে তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না।
এক ধরনের আধারাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি বহু বছর ধরে চলমান আন্তর্জাতিক বিতর্কের একটি অংশ। ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার পর থেকে এই অঞ্চলটি অসমাপ্ত আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হলেও ফিলিস্তিনের সমান্তরাল রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। গত রবিবার যুক্তরাজ্য, কানাডা, পর্তুগাল ও অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আরো ছয়টি দেশ সোমবার একই কাজ করবে বলে ঘোষণা করেছে।
আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের ভাষণের আগেই এসব ঘোষণা আসতে পারে। অর্থাৎ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া ১৫১টি জাতিসংঘ সদস্য দেশের তালিকায় এবার যুক্ত হচ্ছে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, স্যান ম্যারিনো ও অ্যান্ডোরা।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র স্বীকৃতিগুলোকে ‘লোক-দেখানো’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এএফপিকে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের মনোযোগ সিরিয়াস কূটনীতির ওপর, কেবল দেখানোর জন্য গৃহীত পদক্ষেপে নয়।’ফ্রান্সের অ্যাইক্স-মার্সেইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক রোঁমা লে বোফে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতিকে আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম জটিল প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, স্বীকৃতির এই বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনি ক্ষেত্রের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা একটি বিন্দুর মতোই। তিনি বলেন, প্রতিটি দেশ নিজেদের ইচ্ছামতো নির্ধারিত সময় ও প্রক্রিয়ায় স্বীকৃতি দিতে পারে। এই স্বীকৃতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, উভয়ভাবে হতে পারে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে একটি বিষয় পরিষ্কার, স্বীকৃতি দেওয়া মানে নতুন একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে—এমন নয়। আবার স্বীকৃতি না দেওয়া মানেই কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নেই, এমনও নয়। স্বীকৃতি মূলত প্রতীকী ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। আর তিন-চতুর্থাংশ দেশ মনে করছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হিসেবে থাকার সব শর্ত পূরণ করেছে।
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নেতাদের নিষেধাজ্ঞা দেবে সিঙ্গাপুর : গতকাল সোমবার সিঙ্গাপুর জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীর নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে এবং সঠিক পরিস্থিতিতে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।
পশ্চিমা এবং অন্য কয়েকটি দেশ বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠী এবং কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হারে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, যাঁদের বিরুদ্ধে তারা সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান সংসদে সেই সব ইসরায়েলি রাজনীতিবিদকে তিরস্কার করেছেন, যাঁরা পশ্চিম তীর বা গাজার কিছু অংশকে ‘ইসরায়েলি-অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল’ হিসেবে সংযুক্ত করার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলি সরকারের কাছে বসতি নির্মাণ এবং সম্প্রসারণ বন্ধ করার আহবান জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, তথাকথিত ই-১ বসতি প্রকল্প পশ্চিম তীরকে খণ্ডিত করবে। তিনি আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে পরে জানানো হবে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স