শেখ হাসিনা সরকারের দেড় দশকের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, সে জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যে তিনি এই আহবান জানান। গতকাল মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাঁকে জেরা করছেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশে গণহত্যা চালানো হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের ওপর কমান্ড রেসপনসিবিলিটির দায় পড়ে।
এ ছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনি, জার্মানিতে অ্যাডল্ফ হিটলারের পতন, নব্বইয়ে স্বৈরাচার এরশাদের পতন এবং ২০১০ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার তিউনিশিয়া, মিসরের স্বৈরাচারী সরকারের পতনের উদাহরণ তুলে ধরেন সাক্ষ্যে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও শেখ হাসিনার ১৫ বছরের চরম দুর্নীতিপরায়ণ এবং মানবতাবিরোধী শাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা হলো—আর যেন কখনো আমাদের দেশে এমন ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রত্যাবর্তন না ঘটে।’
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘জুলাই গণহত্যার পর যখন এই ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছে, আমি মনে করেছি—রাষ্ট্রের একজন বর্ষীয়ান নাগরিক হিসেবে আমার কর্তব্য ট্রাইব্যুনালকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। সেই সহযোগিতার অংশ হিসেবে আমি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান করছি। আমি চাই অপরাধীরা যেন সাজা পান, শহীদ পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং তাদের পরিবার ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাদের শোক কিছুটা হলেও লাঘব হয়।’
তিনি বলেন, “এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট শাসনের বিষয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা গেলে ভবিষ্যতের সরকারগুলো সতর্ক হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেভাবে বলা হয়েছিল ‘নেভার এগেইন’, বাংলাদেশেও এই বিচারের মাধ্যমে নিশ্চিত হোক যেন গত ১৫ বছরের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি আর না হয়।”
এই মামলায় মঙ্গলবার সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। মাহমুদুর রহমানের সাক্ষ্যের জেরা শেষ না হওয়ায় তিনি সাক্ষ্য দিতে পারেননি। মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষে নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।