মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

আর কখনো যেন ফ্যাসিবাদী শাসকের প্রত্যাবর্তন না ঘটে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

শেখ হাসিনা সরকারের দেড় দশকের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, সে জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যে তিনি এই আহবান জানান। গতকাল মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাঁকে জেরা করছেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি শেখ হাসিনা-কামালের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যে মামুন বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আন্দোলন দমনের জন্য শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর এই নির্দেশের কথা সে সময় তাঁকে জানিয়েছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।মাহমুদুর রহমানের দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যেও উঠে এসেছে বিষয়টি।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশে গণহত্যা চালানো হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের ওপর কমান্ড রেসপনসিবিলিটির দায় পড়ে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনি, জার্মানিতে অ্যাডল্ফ হিটলারের পতন, নব্বইয়ে স্বৈরাচার এরশাদের পতন এবং ২০১০ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার তিউনিশিয়া, মিসরের স্বৈরাচারী সরকারের পতনের উদাহরণ তুলে ধরেন সাক্ষ্যে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও শেখ হাসিনার ১৫ বছরের চরম দুর্নীতিপরায়ণ এবং মানবতাবিরোধী শাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা হলো—আর যেন কখনো আমাদের দেশে এমন ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রত্যাবর্তন না ঘটে।’

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘জুলাই গণহত্যার পর যখন এই ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছে, আমি মনে করেছি—রাষ্ট্রের একজন বর্ষীয়ান নাগরিক হিসেবে আমার কর্তব্য ট্রাইব্যুনালকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। সেই সহযোগিতার অংশ হিসেবে আমি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান করছি। আমি চাই অপরাধীরা যেন সাজা পান, শহীদ পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং তাদের পরিবার ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাদের শোক কিছুটা হলেও লাঘব হয়।’

তিনি বলেন, “এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট শাসনের বিষয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা গেলে ভবিষ্যতের সরকারগুলো সতর্ক হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেভাবে বলা হয়েছিল ‘নেভার এগেইন’, বাংলাদেশেও এই বিচারের মাধ্যমে নিশ্চিত হোক যেন গত ১৫ বছরের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি আর না হয়।”

এই মামলায় মঙ্গলবার সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। মাহমুদুর রহমানের সাক্ষ্যের জেরা শেষ না হওয়ায় তিনি সাক্ষ্য দিতে পারেননি। মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষে নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com