আইফোন উন্মোচনী অনুষ্ঠানের জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে প্রযুক্তিপ্রেমীরা। আগামীর স্মার্টফোনগুলোর ডিজাইন ও ফিচারের ট্রেন্ড কেমন হবে তা অঘোষিতভাবে নির্ধারণ করে অ্যাপল, তাই আইফোনভক্তদের পাশাপাশি অ্যানড্রয়েড ভক্তদের কাছেও ইভেন্টটি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কী আনলো অ্যাপল—জানাচ্ছেন আশিক উল বারাত
অবশেষে ১২০ হার্জ হাই রিফ্রেশরেট যুগে প্রবেশ করেছে বেস মডেল আইফোন। আইফোন ১৭ মডেলটিও পাচ্ছে ১২০ হার্জ ওলেড ডিসপ্লে। তবে বাকি ডিজাইন থাকছে আইফোন ১৬-এর মতোই। ডিসপ্লের সাইজও থাকছে এক, ৬.৩ ইঞ্চি, যাকে অ্যাপল বলছে ‘সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে’।
বড় ক্যামেরা আইল্যান্ড, হিট ফোর্জড অ্যালুমিনিয়াম ইউনিবডি এবং পেছনে গ্লাসের বদলে সিরামিক শিল্ডের ব্যবহার—আইফোন ১৭ প্রো সিরিজের ডিজাইন গোড়া থেকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। মজবুত ইউনিবডি ডিজাইনের ফলে এখন আর ডিসপ্লে, মিড ফ্রেম এবং ব্যাক গ্লাস আলাদা নয়—বরং ফোনের বেশির ভাগ অংশই একক একটি ফ্রেম। পেছনের অল্প কিছু অংশ সিরামিকের তৈরি এবং সামনের ডিসপ্লে সরাসরি ইউনিবডির সঙ্গে সংযুক্ত। হাত থেকে পড়ে ফোন গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে ভেপার চেম্বার। ফলে দীর্ঘ সময় ব্যবহারেও আইফোন ১৭ প্রো সিরিজ অতিরিক্ত গরম হবে না। প্রসেসর থাকছে ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাপল এ১৯ প্রো।
আইফোন ১৭ প্রো এবং প্রো ম্যাক্সের পেছনে থাকছে তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। টেলিফটো ক্যামেরা এখন সর্বোচ্চ আট গুণ পর্যন্ত জুম করতে পারবে। ভিডিও নির্মাতাদের মধ্যে আইফোন জনপ্রিয়, তাদের কাজ আরো সহজ করতে যুক্ত হয়েছে প্রো রেস এবং অ্যাপল লগ ২ কালার এনকোডিং সুবিধা এবং জেনলক সমর্থন।
আইফোন ১৭ প্রো-এর ডিসপ্লে ৬.৩ এবং ১৭ প্রো ম্যাক্সের ডিসপ্লে ৬.৯ ইঞ্চি। স্টোরেজ ভেরিয়েন্টে থাকবে ২৫৬ গিগাবাইট, ৫১২ গিগাবাইট ও ১ টেরাবাইট। প্রো ম্যাক্স সংস্করণটি ২ টেরাবাইট ভ্যারিয়েন্টেও পাওয়া যাবে। এর মধ্যেই ১৭ প্রো সিরিজের নতুন কসমিক অরেঞ্জ রংটি অ্যাপল ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছে। তবে প্রো সিরিজের ফোনগুলো কেন ব্ল্যাক বা গ্রে রঙে পাওয়া যাবে না—সেটা নিয়ে তারা প্রশ্নও তুলেছে।
পাতলা গড়নের এয়ার
এবারের ইভেন্টের সবচেয়ে আলোচিত ডিভাইস নিঃসন্দেহে আইফোন এয়ার। এর পুরুত্ব মাত্র ৫.৬ মিলিমিটার। ফ্রেম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে গ্রেড ৫ টাইটানিয়াম। ডিসপ্লের নিরাপত্তা ও পেছনের প্যানেলে ব্যবহার করা হয়েছে সিরামিক শিল্ড ২। এতে রয়েছে ১৭ প্রো-এর মতোই অ্যাপল এ ১৯ প্রো প্রসেসর। অ্যাপলের নিজস্ব এন ১ ও সি ১এক্স মডেম এতে ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটির ডিসপ্লে ১২০ হার্জ রিফ্রেশরেটের সুপার রেটিনা এক্সডিয়ার ওলেড প্যানেল, যার আকৃতি ৬.৫ ইঞ্চি। পেছনে রয়েছে মাত্র একটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং সামনে থাকছে সেন্টার স্টেজ ফিচারযুক্ত ১৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। স্টোরেজ ২৫৬ জিবি থেকে ১ টেরাবাইট পর্যন্ত। তবে যেহেতু মাত্র ১০০ ডলার বেশি খরচ করলেই মিলবে ব্যাটারি লাইফ এবং ক্যামেরা পারফরমেন্সে এগিয়ে থাকা আইফোন ১৭ প্রো। সেক্ষেত্রে এয়ার কেনার কারণ কী হতে পারে তা পরিষ্কার নয়।
দাম কত, কবে পাওয়া যাবে
আইফোন ১৭-এর মূল্য ৭৯৯ ডলার থেকে শুরু। আইফোন ১৭ এয়ার ৯৯৯ ডলার, আইফোন ১৭ প্রো এক হাজার ৯৯ ডলার এবং আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের মূল্য এক হাজার ১৯৯ ডলার থেকে শুরু হবে। প্রি-অর্ডার করা যাবে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে, বাজারে আসবে ১৯ সেপ্টেম্বর।
অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডস
নতুন মডেলের তিনটি স্মার্টওয়াচ বাজারে আনছে অ্যাপল। ফ্ল্যাগশিপ মডেল অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৩ পাচ্ছে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জরুরি উদ্ধারসংক্রান্ত বার্তা পাঠানো ও লোকেশন শেয়ার করার ফিচার। এটি হতে যাচ্ছে অ্যাপলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিসপ্লের ঘড়ি, ৪০ মিলিমিটার। এর ব্যাটারি স্থায়িত্ব ৪২ ঘণ্টা। সঙ্গে থাকছে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তকরণ ও ঘুমের মান নির্ণয়ের মতো নতুন সব সুবিধা। দাম শুরু ৭৯৯ ডলার থেকে। স্বল্প বাজেটের মডেল অ্যাপল ওয়াচ এসই ৩-এর মধ্যেও থাকছে ঘুমের মান বা স্লিপ কোয়ালিটি, ওভুলেশন এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া ডিটেকশন ফিচার। দাম শুরু ২৪৯ ডলার থেকে। অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১১-ও উন্মোচিত হয়েছে, থাকছে ওয়াচ আলট্রার বেশির ভাগ ফিচার। ব্যাটারির স্থায়িত্ব ২৪ ঘণ্টা, মাত্র ১৫ মিনিট চার্জে পাওয়া যাবে প্রায় আট ঘণ্টার ব্যাটারি লাইফ। দাম শুরু ৩৯৯ ডলার থেকে।
নতুন হেডফোনও উন্মোচন করেছে অ্যাপল। এর নাম ‘এয়ারপডস প্রো ৩’। আগের মডেলগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ কার্যকর অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যান্সেলেশন সুবিধা দেয়া হয়েছে এতে। পাশাপাশি থাকছে সরাসরি এয়ারপডসের মধ্যেই ভাষান্তরের ফিচার। হৃদস্পন্দন পরিমাপের সেন্সরও এতে যুক্ত করা হয়েছে। টিপসের ডিজাইনেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিলিকন রাবারের সঙ্গে ফোম মিশিয়ে হাইব্রিড টিপস তৈরি করা হয়েছে, ফলে বেড়েছে নয়েজ ক্যান্সেলেশনের পারফরমেন্স। দাম ২৪৯ ডলার। এয়ারপডস এবং সব কটি অ্যাপল ওয়াচ বাজারে আসবে ১৯ সেপ্টেম্বর।