তাঁর আগমনের আগে গোটা পৃথিবী অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল।
তাঁর আগমনের আগে গোটা পৃথিবী অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল।
তিনি ছিলেন এক আলোর প্রদীপ, যে প্রদীপের আলোয় চারদিক থেকে অন্ধকার দূর হয়ে যায়। ইবনে সাআদের বর্ণনায় এসেছে, মা আমেনা বলেছেন, যখন তাঁর পুত্র মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন, তখন তাঁর দেহ থেকে এমন একটি নুর বের হলো, সেই নুরের দ্বারা শাম অঞ্চলের দুটি রাজকীয় প্রাসাদ উজ্জ্বল হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!
শিশু অবস্থা থেকেই তিনি আলো ছড়াতে থাকেন, যে আলোর আভা পেয়েছিলেন মহীয়সী নারী তাঁর দুধ মাতা হালিমা সাদিয়া (রা.)।আরবদের শহরের নাগরিকদের রীতি ছিল, তারা তাদের শিশুদের শহরের দূষিত পরিবেশ থেকে ভালো রাখার জন্য দুগ্ধ পান করাতে গ্রামের বেদুইন নারীদের কাছে পাঠাতেন।
সিরাতে ইবনে ইসহাকের বর্ণনা মতে, মা হালিমা বলেন, আমরা মক্কার শিশুদের আনতে সাদ গোত্রের নারীদের সঙ্গে বের হলাম। সেটা ছিল কঠিন দুর্ভিক্ষের বছর। চারদিকে চলছিল অভাব-অনটন। আমি মাদি দুর্বল একটি গাধার পিঠে সওয়ার ছিলাম, আমাদের কাছে একটি উটনিও ছিল, কিন্তু তা এক ফোঁটা দুধও দিত না।
সকালে স্বামী উঠে বলেন, খোদার কসম! হালিমা তুমি একজন বরকতময় শিশু গ্রহণ করেছ!
তারপর হালিমা বলেন, আমি দুর্বল গাধার পিঠে রওনা হলাম। শিশুটি আমার কোলে ছিল, গাধা এত দ্রুত পথ চলল যে সবার আগে বাড়িতে পৌঁছে গেল। যখন বাড়িতে এলাম, গ্রামে দুর্ভিক্ষ চলছিল, জমিতে মরা ঘাস ছিল, গাছপালার পাতা ঝরে পড়ছিল, বকরিগুলো না খেয়ে শুকনো ছিল। কিন্তু এ শিশুটিকে আনার পর থেকে জমিতে সবুজ ঘাসের সমারোহ হলো, ফলেফুলে আমাদের বাড়ির আঙিনা ভরে গেল, আমাদের বাড়ির বকরিগুলো চারণভূমিতে ভরা পেট নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসত, অথচ তখন পাশের গ্রামে দুর্ভিক্ষ চলছিল। আসলে সবই ছিল শিশু মুহাম্মদের আলোকিত পরশের বরকত!
এভাবে মা হালিমার ঘর থেকে আলো বিতরণ শুরু করলেন তিনি। তারপর গোটা আরব থেকে শুরু করে সারা পৃথিবী আজ তাঁর আলোয় আলোকিত।
(ইবনে হিশাম প্রথম খণ্ড : ১৬২-১৬৪)
লেখক : ইমাম ও খতিব, বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, ঢাকা