মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ মানসিক হীনমন্যতার মধ্যে আছে। তাদের মব কন্ট্রোলের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। আত্মরক্ষার্থে পায়ে গুলি করা যায়, সেটাও করছে না তারা। এভাবে স্বাভাবিক রাষ্ট্র পরিচালনা করা কঠিন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আইনের ভেতর থেকে পুলিশকে কঠোর হতে হবে। তাদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাসে প্রশিক্ষণও লাগবে। জনগণ ও অপরাধীদের মনস্তত্ত্ব বোঝার প্রশিক্ষণও নেই পুলিশের। তাই তারা আত্মবিশ্বাস চাঙ্গা করতে পারছে না।’
সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশের কাজই হলো বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা। কোথাও মবের সৃষ্টি হলে তা রোধ করা। কিন্তু পুলিশ যদি আক্রান্ত হতে থাকে তা হলে তো কাজ করতে পারবে না। এ রকমটা আসলে কেন হচ্ছে? তার সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে সামনের নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করা যাবে। আমার মতে, পুলিশের কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই। যেখানে যেমন আচরণ করা দরকার পুলিশকে তা করতে হবে। তা না হলে নিরাপত্তা শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বেশ কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও নতুন করে তারা প্রকাশ্যে হওয়ার বিষয়ে জানান দিচ্ছে। রাজধানীর গুলিস্তান ও ধানমণ্ডিতে এরই মধ্যেই বড় বিক্ষোভ মিছিল করেছে তারা। এভাবে বিক্ষোভ মিছিল হতে থাকলে যেকোনো সময় এন্টি আওয়ামী শক্তির সঙ্গে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা গোয়েন্দাদের। এ অবস্থায় দেশ আরো অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন।
ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, খিলগাঁওয়ের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় অন্যরা দ্রুত সটকে পড়ে। গ্রেপ্তারসহ আরো দুজন এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, আহত করা, প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের অভিযোগে খিলগাঁও থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।