শ্রমিকের মজুরি বা পারিশ্রমিক পরিশোধ না করার ব্যাপারে মহানবী (সা.) সতর্ক করে বলেন, ‘কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির সঙ্গে আমার বিবাদ হবে, এর মধ্যে একজন সে, যে মজুরের দ্বারা কাজ পুরোপুরি আদায় করে নিয়েছে, কিন্তু তার পারিশ্রমিক দেয়নি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২২৭)
শ্রমিকের মজুরি নিয়ে টালবাহানা না করে মহানবী (সা.) তা দ্রুত পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকাবার আগেই তার মজুরি পরিশোধ করে দাও।’
(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৪৩)
শ্রমিকের বেতন বা পারিশ্রমিক পরিশোধ না করলে মালিককে ভয়াবহ পরিণাম ভোগ করার ব্যাপারেও মহানবী (সা.) সতর্ক বাণী উচ্চারণ করেছেন। যারা শ্রমিকের পাওনা ঠিকমতো পরিশোধ করে না, তারা জালিম।
শুধু প্রাপ্য পারিশ্রমিকই নয়, শ্রমিককে দিয়ে বাড়তি কাজ করালে তাকে বাড়তি পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা মহানবী (সা.) ঘোষণা করেছেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যদি তাদের ওপর বেশি কাজ করার দায়িত্ব চাপাও, তবে সেই হিসাবে বাড়তি মজুরি দিয়ে তাদের সাহায্য করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৩৫)আল্লাহর রাসুল (সা.) মালিক-শ্রমিকের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের অধীন ব্যক্তিরা তোমাদের ভাই। আল্লাহ যে ভাইকে অন্য ভাইয়ের অধীন করে দিয়েছেন তাকে তাই খাওয়াবে যা সে নিজে খায় এবং তাকে তাই পরতে দিতে হবে যা সে নিজে পরিধান করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬১৭)শ্রমিকরাও মানুষ। তাই তাদের সামর্থ্যের বাইরে কাজ না দেওয়ার কথা বলেছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেন, ‘শ্রমিককে এমন কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না, যদি এমনটা করতে হয়, তা হলে সে যেন তাকে সাহায্য করে।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬১৭)
মনে রাখতে হবে, মালিক-শ্রমিক দৃঢ় সম্পর্ক ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর উভয় শ্রেণির সব উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে। আমরা আমাদের ভৃত্য, গৃহপরিচারিকা, শ্রমিক ও অধীন কর্মচারীদের স্বার্থের প্রতি খেয়াল রাখব। তাদের প্রতি ইসলামের সীমারেখার মধ্যে থেকে যথাযথ আচরণ করব।