কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এক নিখোঁজ শিশুর লাশ প্রতিবেশী মমিনুল ইসলামের বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে, লাশ উদ্ধারের পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ছিট মালিয়ানি এলাকায়।
নিহতের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুরসালিনের বাড়িতে তাঁর বড় ভাইয়ের বিয়ের আলোচনা চলছিল। সেই সময় মমিনুল মুরসালিনকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মুরসালিনের মা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি মমিনুলের বাড়িতে গিয়ে মুরসালিনের কথা জিজ্ঞাসা করলে মমিনুল ও তাঁর মা মহসেনা বেগম শিশুটিকে দেখেননি বলে জানান। কিছুক্ষণ পর আবারও গেলে তাঁরা দরজায় তালা লাগিয়ে সরে পড়েন এবং মমিনুলের নানা মহর উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে মমিনুলের মা ও নানি প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ও আজির রহমানের বাড়িতে লুকিয়ে থাকেন।
এ ঘটনায় পুলিশ মমিনুলের মা মহসেনা বেগম ও বোন ফাহিমা খাতুন এবং মমিনুলকে প্রশ্রয় দিয়ে পালানোয় সহায়তা করার অভিযোগে প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মঞ্জু বেগমকে আটক করে। পরে নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আটক চারজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।