‘মেট্রোপলিটন বিউটি ইন কেওয়াজ’ শিরোনামে মেগাসিটি ঢাকা নিয়ে চমৎকার প্রদর্শনী চলছে। বিশৃঙ্খল এই নগরীর যে একটা সৌন্দর্য আছে, সেটাই তুলে এনেছেন দুই শিল্পী। তাঁদের ফ্রেমে উঠে এসেছে ঢাকার সমসাময়িক নানা বিষয়। দুই শিল্পীর মধ্যে আল আখির সরকার নিজ কাজের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান পোক্ত করে নিয়েছেন।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে পেশাদার শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন দীর্ঘদিন। এরই মধ্যে তাঁর একক ও দলীয় প্রদর্শনীর তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। আখির ঢাকায় এসে শহরটাকে আপন করে নিয়েছেন। সময় পেলেই ঘুরে ঘুরে দেখছেন শহরের অলিগলি।সেটাই ক্যানভাসে তুলে আনছেন নিজের মতো রং-রেখায়। চেনা এই শহরের নতুন অ্যাঙ্গল তিনি তুলে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এবারের প্রদর্শনীতে আখির পা বাড়িয়েছেন বিমূর্ততার দিকে। চেনা এই ঢাকায় আখির আপনাকে নিয়ে যাবেন স্বপ্নিল জগতে।আরেক শিল্পী এম এম মাকসুদ বিপ্লব। পেশায় স্থপতি। সেই পেশা ছাড়িয়ে তিনি একজন শিল্পী। তিনিও ঢাকাকে চিত্রায়ণ করেছেন নতুন নতুন দিক থেকে। কাজ দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি চারুকলার নন।আসলে স্থপতিদেরও পড়াশোনা রং-রেখা নিয়ে। তাঁর কাজে আর্কিটেকচারাল বিষয়গুলো পাওয়া যায়। মাকসুদ বিপ্লবের কাজে ঢাকার কেওয়াজটা বেশি এসেছে। মেট্রো রেল, মেট্রো রেলের পিলার, কমলাপুর রেলস্টেশন, রিকশা—এসব তো বিশৃঙ্খল। এর আশপাশের উপাদানগুলো আরো বিশৃঙ্খল। কিন্তু সেই বিশৃঙ্খল বিষয়ের সৌন্দর্য তিনি তুলে এনেছেন অসাধারণ করে।গ্যালারিতে প্রবেশ করার শুরুতেই ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হবেন। সিনেমাটিকভাবে চোখের সামনে আসতে থাকবে একের পর এক ঢাকার চিত্র। আছে রাতের ঢাকার দৃশ্যও। ৯৫টি চিত্রকর্ম নিয়ে অনবদ্য এক ঢাকা। এই প্রদর্শনীতে ঢাকার অলিগলি, স্থাপত্য, যানবাহন যেভাবে এসেছে, সেভাবে মানুষ আসেনি। এই শহরের মানুষ আরো বিশৃঙ্খল এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত। সেটা আসলে আরো বেশি প্রাণবন্ত হতে পারত। আবার অন্যভাবে বললে, ঢাকার নতুন নতুন বিষয় তুলে এনেছেন দুই শিল্পী। এমন একটি প্রদর্শনীর আয়োজনের জন্য দুই শিল্পীকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। ধন্যবাদ জানতে হয় শিল্পাঙ্গন-ভূমি গ্যালারিকে। সুন্দর এই প্রদর্শনী চলবে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।